খুঁজুন

জামায়াতের নিবন্ধন খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
জামায়াতের নিবন্ধন খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রেও তাদের বিলম্ব মার্জনা করেছেন আদালত। এর ফলে নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিলের ওপর পুনরায় শুনানি হবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। জামায়াতের নিয়োগ পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে আজ জামায়াতের পক্ষে আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মতিউর রহমান আকন্দ। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম। ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক ছাড়াও শুনানিতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. চৌধুরী ব্যারিস্টার আহমেদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল্লাহ।

আদেশের বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, বিলম্ব মার্জনা করে আপিল পুনরুজ্জীবিত করার অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আমরা পরবর্তীতে এ আপিল শুনানির জন্য নিয়ে আসবো। এ মামলার আপিলকারী মৃত্যুবরণ করায় নতুন আপিলকারী তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। এরপর নতুন করে আপিল শুনানির জন্য আবেদন করা হবে।

শিশির মনির বলেন, আজকে আমাদের আপিল পুনরুজ্জীবিত হলো, পরবর্তীতে আমরা আপিলটি প্রতিস্থাপন করবো। এই মামলার যিনি আপিলকারী ছিলেন, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হবেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল যিনি আছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার স্থলাভিসিক্ত হওয়ার পরেই আপিলের দিনক্ষণ শুনানির জন্য নির্ধারণ হতে পারে।

শিশির মনির বলেন, জামায়াতের আপিল শুনানির জন্য যেদিন ধার্য ছিল ওইদিন দেশব্যাপী হরতাল ছিল। যার কারণে সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত হতে পারেননি। তখন আমাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। বিষয়টি আবেদন দিয়ে জানানো হয়েছিল। আপিল শুনানি মুলতবি রাখার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তারপরও আপিল বিভাগ ডিসমিসড ফর ডিফল্ট হিসেবে আপিলটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। আমরা বলেছি একজন সিনিয়র আইনজীবী নিরাপত্তার কারণে আদালতে না আসলে এই রকম একটি সার্টিফিকেট আপিল, যেখানে সাংবিধানিক ব্যাখার প্রয়োজন। হাইকোর্ট মনে করেছেন সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন সেটি এভাবে শুনানি ছাড়া, একতরফাভাবে ডিসমিসড ফর ডিফল্ট করা যায় না। আমরা আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করেছিলাম। আমাদের আর্গুমেন্ট আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেছেন এবং আপিল পুনরুজ্জীবিত করেছেন।

তিনি বলেন, এটি একটি সার্টিফিকেট আপিল। হাইকোর্ট বিভাগই সার্টিফিকেট দিয়েছিল যে এখানে সাংবিধানিক ইস্যু জড়িত। লিভ টু আপিল না করে সরাসরি আপিল করা যাবে। হাইকোর্ট বিভাগ যেখানে সার্টিফিকেট দিয়েছেন,এ ধরনের মামলা শুনানি ছাড়া খারিজ করা যায় না। এজন্য আমাদের বিলম্ব মার্জনা করেছেন ও আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের চেম্বার জজ আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সেটি তালিকায় ওঠে। আদালতে ওইদিন জামায়াতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল গত বছরের ১৯ নভেম্বর খারিজ করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিলকারী পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় ওইদিন আপিল বিভাগ ওই আদেশ (ডিসমিসড ফর ডিফল্ট) দেন। আপিলটি পুনরুজ্জীবিত চেয়ে দলটির পক্ষ থেকে সেক্রেটারি জেনারেল আবেদন করেন, যা ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে ওইদিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সেদিন তিনি বলেন, আপিল পুনরুজ্জীবিত চেয়ে করা আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন চেম্বার জজ আদালত। পুনরুজ্জীবিত চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর হলে আপিলের ওপর শুনানি হবে।

এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে রিট করেন সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ ব্যক্তি। রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্টের তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ।

একই সঙ্গে আদালত এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সনদ দেন, যা পরবর্তী সময়ে আপিল হিসেবে রূপান্তরিত হয়। এর আগে রায় ঘোষণার পরপরই তা স্থগিত চেয়ে জামায়াত আবেদন করে, যা ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট খারিজ করে দেন আপিল বিভাগের তৎকালীন চেম্বার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১ আগস্ট জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

এরপর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের গত ২৮ আগস্ট জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাস-সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এতে আরও বলা হয়, সরকার বিশ্বাস করে, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ এর অঙ্গসংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত নয়। তাই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর ১৮(১) ধারার ক্ষমতাবলে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গসংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত ১ আগস্টের প্রজ্ঞাপন বাতিল করলো।

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ, ভোগান্তি চরমে

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ, ভোগান্তি চরমে

পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিটির মারধরের শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন জানান, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলেন তিনি। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টিটি টাকা আদায় করায় এর প্রতিবাদ করেন। এজন্য তাকে মারধর করেন টিটি।

পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৯-২০ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

তিনি জানান, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে বিষয়টির সুরাহা না করা পর্যন্ত রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্ত টিটিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতিপূর্বে রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিকবার বিভিন্ন ধরনের অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজকের পর থেকে কোনো রেলগুন্ডা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে আর বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস না পায়- সেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের রেললাইন অবরোধে পুরোপুরি থেমে আছে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সকল ট্রেন। যার ফলে চরম ক্ষুব্ধ ট্রেনের যাত্রীরা। অভিযোগ তুলে তারা বলেন, ‘আমরা এদের কাছে জিম্মি। মার খেয়েছে ছাত্র, দোষ করলো টিটি। অথচ ভোগান্তি হচ্ছে আমাদের। রেল কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান না করলে ভোগান্তি বাড়বেই।’

বিজিবির জনবল, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
বিজিবির জনবল, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত

সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং মাদক দমনে ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করে বাহিনীটির কার্যক্রম, সক্ষমতা, জনবল, সেক্টর ও ব্যাটালিয়নের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সীমান্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কীভাবে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ভূমিকা আরও জোরদার করা হবে। এ ক্ষেত্রে বাহিনীটির ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা বাড়িয়ে তা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

তিনি জানান, বিজিবিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনীতে রূপ দিতে জনবল বৃদ্ধি, নতুন যানবাহন, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বাহিনীটির সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমেও বিজিবির অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, বিজিবি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের যেসব প্রস্তাব বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচার

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট করে লোক পাঠিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পল্টন থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারই প্রেক্ষিতে এই ৪৯টি লাইসেন্স বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা গৃহীত হওয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রাশিদা আক্তার।

লাইসেন্স প্রত্যাহার হওয়া সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও বায়রা’র সাবেক মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সাথে ১০০ এজেন্সি জড়িত ছিল। তাহলে ৪১ জনের লাইসেন্স প্রত্যাহার হলো কীভাবে। অন্যায় যদি হয়ে থাকে সবারই তো দায় থাকার কথা।’

‘আদালতের মাধ্যমে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে এভাবে লাইসেন্স প্রত্যাহার কীভাবে হতে পারে জানা নেই, বলে আপত্তি তোলেন তিনি।

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ, ভোগান্তি চরমে বিজিবির জনবল, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল সিরাজগঞ্জে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) ওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত