পালিয়ে বিয়ে করতে আসা প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে রাতভর গণ/ধ/র্ষ/ণ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৩৮ পিএম
পালিয়ে বিয়ে করতে আসা প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে রাতভর গণ/ধ/র্ষ/ণ

ভোলার মনপুরায় বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করতে আসার পর প্রেমিককে বেঁধে রেখে প্রেমিকাকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে মনপুরা উপজেলার ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালতলা নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ গিয়ে প্রেমিক ও ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে যায়। পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী।

এবিষয়ে মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে ভোলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার ৬ আসামিদের মধ্যে মাকছুদ ও আল-আমিনের নাম জানা গেলেও অপর ৪ আসামির নাম জানাতে তদন্তের স্বার্থে অপারগতা প্রকাশ করে পুলিশ। তবে প্রধান দুই আসামির দুজনের বাড়ি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে।

জানা যায়, মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে সজিবের সঙ্গে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রেমিকা তরুণীকে নিয়ে বিয়ে করতে মনপুরায় দাদা বাড়ি আসেন প্রেমিক সজিব। পরে বিয়ের জন্য জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট আত্মীয়দের মাধ্যমে সংগ্রহ করছিলেন।

এর মধ্যে স্থানীয় দুই কথিত নেতা মাকছুদ ও আল-আমিন ঘটনা জানতে পেরে প্রথমে প্রেমিক যুগলের কাছে দুই লাখ টাকা পরে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ধার্য চাঁদা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।

পরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় দুই নেতা ইদ্রিস মাঝির সহযোগিতায় প্রেমিক যুগলকে ঢাকা থেকে আসা হাতিয়াগামী লঞ্চে উঠিয়ে দেবে বলে ঘরে থেকে বের করে আনে। এক পর্যায়ে তালতলা নতুন বেড়িবাঁধের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক সজিবকে বেঁধে প্রেমিকা তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে সেখান থেকে প্রেমিক সজিব পালিয়ে এসে ডাক-চিৎকার দিলে তার স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ওই তরুণীকে খুঁজতে বেড়িবাঁধ এলাকা যায়। পরে ভোররাতে ওই দুই নেতা তরুণীকে মোটরসাইকেলে এনে সজিবের বাড়িতে দিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ এসে প্রেমিকা ও প্রেমিকাকে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রেমিক সজিব জানান, তিনি চট্টগ্রামে বাবার সঙ্গে কাজ করেন। মোবাইল ফোনে সজিবের সঙ্গে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার বাসিন্দা তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গত ৭ বছর ধরে। তবে প্রেমিকা তরুণী নারায়ণগঞ্জে থাকেন। পরে তারা দুইজন পালিয়ে বিয়ে করতে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে মঙ্গলবার মনপুরায় আসেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় দুই নেতা প্রথমে চাঁদা দাবি করে পরে লঞ্চে উঠিয়ে দেওয়ার নাম করে তাকে বেঁধে তার প্রেমিকার সঙ্গে এই অমানবিক ঘটনা ঘটান। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন প্রেমিক সজিব।

এ বিষয়ে মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা অভিযোগে ছয়জন সহ আরও অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। প্রেমিক যুগল থানা হেফাজতে রয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...