খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

‘আইন সংস্কার হলে সাংবাদিকদের সুরক্ষা হবে’

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
‘আইন সংস্কার হলে সাংবাদিকদের সুরক্ষা হবে’

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকের থেকে সাংবাদিকদের বেতন কম। কারণ গার্মেন্টস শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছেন, দিয়ে দিয়ে… তারা এখনো দিচ্ছেন।

আমাদের সব পেশার একটা সুরক্ষা আছে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশার কি সুরক্ষা আছে? আমাদের যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, সেটাকে তি আরও শক্তিশালী করতে হবে? নাকি প্রেসক্লাব দায়িত্ব নেবে, নাকি আমাদের সবচেয়ে বড় যে হোতা প্রেস কাউন্সিল, সেটাকে সত্যিকারভাবে শক্তিশালী করা এবং তার মধ্যদিয়ে অনেকগুলো কাজ ঠিক করতে হবে। আমাদের যদি কম্পিটিশন বাড়ে তাহলে ভালো সাংবাদিকরা সামনে আসবেন। আর আমাদের আইন যদি সংস্কার হয় তাহলে সাংবাদিকদের সুরক্ষা হবে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্ক আয়োজিত ‘সংবাদমাধ্যমের সংস্কার: কেনো? কীভাবে?’ শীর্ষক একটি মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, আমরা সাংবাদিকতাকে বলি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু এই স্তম্ভের খেয়ালতো আমরা করিনি। আমাদের বিচার বিভাগ, আমাদের প্রশাসন সেগুলোর দিকে মনোযোগ ছিল। কিন্তু আমরা এমন এক ট্রেন, যে আমরা সবার দিকে লাইট ফেলি কিন্তু নিজের দিকে আমাদের লাইটটা পড়ে না। আমরা নিজেরা নিজেদের অন্ধকারে রেখেছিলাম। আমরা জনগণের কণ্ঠস্বর, এগুলো আমরা বলি কিন্তু আমরা এর আগে নিজেদের নিয়ে এভাবে কথা বলেছি?

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, আমরা সাংবাদিকরা এটা পাহারা দেওয়ার জন্য আমরা কি ভূমিকা পালন করব? আমাদের বিগ পাওয়ারহুড এবং বিগ মিডিয়া, এটা আপনাকে ছোট করতেই হবে। একজন মালিকের একটার বেশি মিডিয়া থাকতে পারবে না। তারপর কালো টাকার মালিকদের মিডিয়াতে আসা কীভাবে বন্ধ করা যায়, আপনি মিডিয়া বন্ধ না করেন, আপনি তাকে কালো টাকার জায়গায় ধরেন; তার যে অর্থনৈতিক অবদান সেখানে তাকে ধরেন। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগ যেন না ওঠে।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেন, আমাদের তরফ থেকে আমরা বলতে চাই, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মিডিয়া ফ্রিডম, প্রেস ফ্রিডম নননেগোশিয়েবল। এই জায়গায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করব না। আপনারা দেখেছেন প্রায় দুই মাস এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কোথাও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়েছে? আমি মনে করি স্বাধীনতার পরে গত দুইটা মাস ছিল গোল্ডেন পিরিয়ড।

তিনি বলেন, কিন্তু কথা হচ্ছে, এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমরা ধরে রাখব কীভাবে। এটাকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে, আগের সরকারে আমরা যে সমস্যাগুলো ফেস করেছি, পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক সরকার আসলে যেন সেই সমস্যা ফেস না করতে হয়। পরবর্তী যে রাজনৈতিক সরকার আসবে, তারা হয়তো আরও ভালো করবে। কিন্তু আমরা যে ভয়ের সময় কাটিয়েছি, সেটা যে আবার পুনরাবৃত্তি হবে না, সেটার কোনো গ্যারান্টি নেই। যতগুলো কালো আইন আছে, সেগুলো নিয়ে আমাদের মিডিয়ার সংস্কার কমিশন কথা বলবে।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়ে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ওয়েজ বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে তাকে ‘বোর্ড অব স্যালারি অ্যান্ড বেনিফিট’ করার পরামর্শ দিয়ে সব ধরনের সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে যেসব মালিক ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে পারবেন না, তারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবেন না; পাশাপাশি তিন মাস ছয় মাস বেতন না দিলে কী শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, তা নির্ধারণ করা এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে মূলধন থেকে কর্মীদের পাওনা মেটানোর সুপারিশ করা হয়।

গণমাধ্যমকে সংস্কার করার জন্য সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোকে যথাযথভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি, প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করে প্রতিটি হাউজে তিন মাস অন্তর অন্তর পরিদর্শন করা, যাতে হাউজগুলো ঠিকমতো চলছে কি না, তা মনিটরিং করা।

একই সঙ্গে সিকিউরিটি আইন বাতিল করার সঙ্গে ফেইক নিউজ বা মিসইনফরমেশন নিয়ন্ত্রণে আলাদা সংস্থা বা ডেস্ক করা, যাতে ভুয়া খবর ছড়ানোর প্রবণতা কমে। পাশাপাশি অপসংবাদিকতা প্রমাণিত হলে তার জন্য শাস্তির বিধান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আলোচনা সভায় আরও কথা বলেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী, সাংবাদিক সেলিম খান, আহমেদ জুয়েল, কাওসার মাহমুদ, খাজা মইনউদ্দিন, অধ্যাপক আর আর রাজী, আসাদুল কিবরিয়া, আরিফুল সাজ্জাদ প্রমুখ।

জোট সঙ্গীদের প্রতি উদার জামায়াত

সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। যেখানে জোট সঙ্গীদের প্রতি উদার মনোভাব দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

সংসদে জামায়াতের যাচ্ছেন ৮জন নারী সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন ২জন। এছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়ী হয় ১১ দলীয় ঐক্য। সেই হিসেবে তারা ১৩টি নারী আসন পাচ্ছে। ৫০ নারী আসনের ৩৬টি বিএনপি পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলটি আজ (২০ এপ্রিল) তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এর পরপরই ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

জামায়াতের মহিলা বিভাগ সূত্র জানিয়েছে; সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জোট থেকে যাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে তারা হলেন- নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মাহফুজা সিদ্দিকা, নাজমুন নাহার নীলু, সাজেদা সামাদ, মারদিয়া মমতাজ, মাহমুদা আলম মিতু, মনিরা শারমিন, তাসমিয়া প্রধান, সামসুন নাহার, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা ও কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের শীর্ষস্থানীয় একজন নেত্রী এই নামগুলো গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

জামায়াত থেকে যারা সংসদ সদস্য হচ্ছেন, তারা হলেন– কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন নাহার মুন্নি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও মহিলা বিভাগের সদস্য মারদিয়া মমতাজ, মহিলা বিভাগের সদস্য নাজমুন নাহার নীলু, সিলেটের নেত্রী মাহফুজা সিদ্দিকা, বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ এবং খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি সামসুন নাহার।

এনসিপির দু’জন হলেন দলের নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু।

তাসমিয়া প্রধান জাগপার চেয়ারম্যান। তিনি দলটির প্রয়াত চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে। মাহবুবা হাকিম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য। তিনি সম্পর্কে দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হকের ভাগনি হন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে।

নিয়ম অনুযায়ী নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় না। সংসদে দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী আসনগুলো বণ্টিত হয়। সংসদের নারী আসন ৫০টি। প্রতি ৬ জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হচ্ছে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে ১টি সংরক্ষিত আসন পাবে।

নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। বিএনপির প্রেস উইং সূত্রে এসব নাম জানা গেছে।

তালিকায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম, সহপ্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আক্তার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস ইসলাম, বিএনপি সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা ফারজানা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নেওয়াজ হালিমা আরলী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম, সহস্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ, প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তারসহ অনেকে।

১৭ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। মনোনয়ন পেতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে।

আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ৬ জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে ১টি সংরক্ষিত আসন পাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি করলে কেউ ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি করলে কেউ ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, তার আগের পিরিয়ডে (২০০১ থেকে ২০০৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কেউ দুর্নীতি করে ২৪ ঘণ্টাও পার করতে পারেনি। তিনি সেটা হতে দেননি। এও বলেছেন, আমি ওই মন্ত্রী এবং আমি তা করছি, এখনো করছি, আজকেও একজনকে বিদায় দিয়েছি। আজ (সোমবার, ২০ এপ্রিল) সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক পরীক্ষা যেই টাইমে হয়, সেই টাইমে হবে। আপনি (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) কি চান, আমরা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যেকটি ছাত্রের জীবন থেকে এসএসসি পাশ করার সময় এক বছর নিয়ে যাবো? এইচএসসি পাশ করার সময় এক বছর নিয়ে যাবো? এটা কি আপনারা চান? তাহলে প্রশ্নটা কি? কবে প্রশ্নটা আসলো কেন? জানুয়ারি থেকে ক্লাস ডিসেম্বরে শেষ, আমি তো জানিই যে ডিসেম্বরে শেষ।’

ডিসেম্বরে কোর্স শেষ হলে পরীক্ষা কবে হবে— এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোর্স জানুয়ারিতে শুরু করি ডিসেম্বরে শেষ করি। তো আমার কোর্স শেষ হলে আমি পরীক্ষা নেবো, এটা জানান আর না জানানোর কী হলো? আমি তো ক্লিয়ারলি বললাম কোর্স কমপ্লিট করতে হবে ডিসেম্বরে। আমি আনক্লিয়ার কী বললাম?’

জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরে আরেকটা পরীক্ষা নেয়ার ক্যাপাসিটি বোর্ডগুলোর আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বোর্ডের ক্যাপাসিটি দিয়ে তো আমি চলি না, আমি চলি ছাত্ররা লেখাপড়া করছে কি না। বোর্ড আমার জীবন থেকে এক বছর নিয়ে নেবে? বোর্ডের ক্যাপাসিটি হলো কি না হলো। বোর্ডের কারণে পরীক্ষা পেছাবো, এটা কোনো কথা হলো। আমি বোর্ডের কারণে পরীক্ষা কেন পেছাবো?’

শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ে সিলেবাস শেষ করার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের সিলেবাস দেয়া হয়েছে ১২ মাসের জন্য তারা ১২ মাসে পড়বে। বোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে পরীক্ষা নেয়া, বোর্ড পরীক্ষা নেবে। বোর্ড ফেইল করলে বোর্ডের পানিশমেন্ট হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা ফেইল করলে শিক্ষকরা পানিশমেন্টে যাবে। আমি বোর্ডের জন্য ২০ লাখ ছাত্রের জীবন থেকে এক বছর করে ২০ লাখ বছর নষ্ট করে দেবো এটা কি হয়?’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষাবর্ষ যেখান থেকে শুরু হবে তাদের কোর্স ঠিক সেইভাবে শেষ করা হবে। পরীক্ষা নেয়া হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষার দিন রুটিন দেয়া হবে বলে ট্রল করা হয়েছে, তবে তা সঠিক নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওই যেমন ট্রল করেছে আমাকে নিয়ে, পরীক্ষার দিন রুটিন দেয়া হবে। সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন আমাকে এখন কল করেছে একটু আগে। বলছে মিলন ভাই, এটা কী বললেন? পরীক্ষার দিন আপনি রুটিন দিবেন? আমি তো রতন আমি তো ভেবেছি, পরীক্ষার রেজাল্ট আউট হওয়ার পরে রুটিন দেবো। যেহেতু ভার্চুয়াল মব বলছে, পরীক্ষার দিন আমি রুটিন দেবো, এটা দেশ ছাইয়ে গিয়েছে। তো সেই জন্য আমি বলছি না রতন, আমি চিন্তা করেছি রেজাল্ট আউট হওয়ার পরে রুটিন দেবো। তো এই প্রশ্নের উত্তরে আমি কী দেব বলেন? বাচ্চাদেরকে ভয় পাওয়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।’

তিনি বলেন, ‘কোর্স যদি জুলাইতে হয় আমাকে যদি এই কোর্স জুলাই পর্যন্ত যেতে হয় তাহলে ডিসেম্বরে পরীক্ষা হবে না? ছাত্র ছাত্রীদের জীবন থেকে এক বছর চলে যাবে। অতএব আই উইল সেট আপ দ্য সিলেবাস কারিকুলাম ইন দিস ওয়ে, যে কেউ যেন বোর্ডের পরীক্ষা নেয়ার জন্য এই সময়টা নষ্ট না হয়।’

গেল কয়েকদিনে হেলিকপ্টারে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ঘুরে শিক্ষকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। অনেকের দাবি সেখানে দুর্নীতি হয়েছে। সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তুমি (একজন সাংবাদিককে দেখিয়ে) তো আমার সঙ্গে ঘুরছো প্লেনে। ওই যে ও বলছে দুর্নীতি হইছে, তুমি আমার সঙ্গে ঘুরছো প্লেনে। বলে দাও তোমারেই তো কলিগ বললো যে ওখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমি গেলাম সারা দেশ ঘুরলাম কেন? ২০ বছর পরে মন্ত্রী হইছে নাকি? শিক্ষকদের তো জানতে হবে হোয়াট ইজ দেয়ার স্ট্যান্ডার্ড, হোয়াট দে ওয়ান্ট। দিস ইজ মাই ডিউটি টু আন্ডারস্ট্যান্ড নাকি? তো আমার সঙ্গে দুই জন সাংবাদিক তো যাবেই। তারা দেখবে না? তারা এডুকেশন বিটের। এটার জন্য আরেকজন বলে বসে দুর্নীতি হইছে। তো তুমি (সেই সাংবাদিককে) এখন সাক্ষী দাও কত টাকার চাঁদাবাজি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার সঙ্গে কাকে নেবো এটা আমার ব্যাপার। এটার সঙ্গে প্রশ্ন করার কিছু নাই। সো হোয়াই ইউ ফিল জেলাসি? ইউ ওয়ান্ট টু গো, ইউ কাম উইথ মি। সেই জন্য তো এইটা হইতে পারে না একজন পোর্টালকে নিয়েছি বলে দুর্নীতি করছি। ইজ ইট দ্য সেম থিং? আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় আপনি কি তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে পারেন না? আমি আমার টাকায় কাকে নেবো না নেবো দিস ইজ মাই বিজনেস। এটা তোমার যদি প্রয়োজন হয়ে থাকে তুমি বলতে তুমি যাবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এটা দুর্নীতি হয়েছে তুমি এই একুইজিশান টা আনলে কেন? এম আই দ্যাট মিনিস্টার? আই ইউজ টু ফ্লাই হেলিক— নো নো নো, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড আই ওয়াজ দ্যাট মিনিস্টার হু টুক দ্য হেলিকপ্টার বাই মাই ওন এক্সপেন্সেস। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলি নাই? আমি ওই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি করবে ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না। আমি তা করছি, এখনো করছি। আজকেও একজনকে বিদায় দিয়েছি। ওকে? তাহলে এখন আমি কাকে নিলাম এই কোশ্চেন? আই গো উইথ মাই মানি, আই গিভ মাই মানি। তুমি যদি যেতে চাও তুমি চলো আমার সঙ্গে। বাট এই ধরনের অভিযোগ করা আই ডোন্ট একসেপ্ট ইট।’

সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫ নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি করলে কেউ ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী এক মাসে দাম বাড়লো ২ বার, ১২ কেজি এলপিজি ১৯৪০ টাকা হোমনায় গণধর্ষণ ও ট্রিপল মার্ডারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল