রাজারহাটে রাজমল্লীরহাট ফাজিল মাদ্রাসায় ফল বিপর্যয়, ১৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ৩
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকা ফাজিল মাদ্রাসায় চলতি ১০ আগস্ট ২০২৬ইং বছরের পরীক্ষার ফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। মাদ্রাসাটি থেকে মোট ১৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৩ জন। ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশে। প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। একটি ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এত কমসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ফলাফল কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। কেন এত শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো, এর পেছনে মূল কারণ কী—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও পাঠদানের পরিবেশও পর্যালোচনা করা দরকার।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও কার্যকরভাবে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এবার ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা এবং কোন বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, নিয়মিত ক্লাস হয়েছে কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কেমন ছিল এবং পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত একাডেমিক প্রস্তুতি দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
রাজমল্লীরহাট সিদ্দিকা ফাজিল মাদ্রাসার এমন ফলাফল নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন কেন পাস করলেন? প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে এবং আগামী দিনে এমন ফলাফল পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এ বিষয়ে রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকা ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল (প্রধান শিক্ষক) মোকলেছুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, “আমি ভাত খাচ্ছি, ১০ মিনিট পর আপনাকে কল দিচ্ছি।”
তবে এরপর প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর সাংবাদিকের পক্ষ থেকে একাধিকবার, প্রায় ১০/১২ বার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




আপনার মতামত লিখুন