কোনো শিক্ষক বাইরে কোচিং করালে ওই প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হবে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকইনহাউজ কোচিং চালুর তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে কোচিংমুখি শিক্ষকদের সতর্ক করে বলেছেন, বাইরে কেউ কোচিং করালে ওই স্কুলের এমপিও ক্যান্সেল করতে হবে। তখন তারা বলবে আমরা এমপিও নেবো না। তাহলে এমপিও না নিলে কি হলো? এটা আবার কোচিং সেন্টার হয়ে গেল। সুতরাং এমপিও নেবো না, এটাও হবে না।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সভায় রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ড. মিলন বলেন, এখন আমরা ভিকারুননিসা নূন নিয়ে বলছি। যদি এই ধরনের নামিদামি স্কুলগুলোর ৯৯ শতাংশ বাচ্চাই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয় এবং সেখান থেকে লেখাপড়া করে আসে, তাহলে ওখানে কি সিস্টেম ইনট্রোডিউস করা যায়? আমরা এমন ব্যবস্থা করবো, যাতে ইনহাউজ কোচিং করতে হবে।
স্কুলগুলোতে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অভিভাবকরা দেখছে এটা স্কুল। ধরুন মিলন কিন্ডারগার্টেন স্কুল। কিন্তু এটা পারমিটেড কিনা ভেরিফাই করতে হবে। যে কোনো ধরনের এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন, টিচিং সিস্টেমের রেকর্ড থাকতে হবে, এমনকি একজন হাউজ টিউটরেরও পারমিশন থাকতে হবে, লোকাল প্রিসিংন্ট (local pre-cinct) উইল ভেরিফাই দেম। লোকাল প্রিসিংন্ট উইল ভেরিফাই হোয়েদার দ্যা এনভায়রনমেন্ট ইজ গুড, ফিজিক্যালি দ্যা পজিশন ইজ গুড।
মনে করেন এটা স্যাঁতস্যাতে, ওটার বাথরুম নাই, ওটার হাত ধোয়ার জায়গা নাই, বসার জায়গা নাই, ইটস আনহাইজেনিক। এই জিনিসগুলোকে আপানাদের দেখতে হবে। এগুলোই আপনাদের ডিউটি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ দাবির প্রবণতা প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, এইয়ে লোকজন এসে বলে আমার স্কুলটা সরকারি করে দেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানে যায় সেখানেই বলে, আমার উপজেলায় একটি সরকারি করে দেন। কেন সরকারি চায়? সরকারি হলে বেনিফিটেড হয় শিক্ষকরা, স্টুডেন্টরা।
আর এই নামিদামি স্কুলগুলো কখনো বলে না তারা সরকারি চায়। টিচাররা বলতে পারে না, ম্যানেজমেন্ট কমিটিও বলে না। কারণ ম্যানেজমেন্ট কমিটির একজন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অন্যজন পাওয়ার দেননি। নামিদামি এই স্কুলগুলোকে কেন আমরা সরকারি করবো না? পলিসি তৈরি করেন, এই এই ক্রাইটেরিয়ার স্কুলগুলোকে আমরা সরকারি করবো। যেখানে স্টুডেন্ট-টিচার রেশিও গুড, স্কুলের ইনফ্রাস্ট্রাকচার গুড, একাডেমিক পজিশন গুড- এই ধরনের স্কুলকে আমরা সরকারি করবো।
তিনি বলেন, আমরা এমন স্কুলকে সরকারি করবো না, যেখানে ট্রান্সফার করলে কেউ যেতে চায় না। কচুয়া গার্লস স্কুল সরকারি করেছে আওয়ামী লীগ, এটায় ট্রান্সফার করলে কেউ যেতে চায় না। ছয়জন টিচার দরকার দুইজন আছেন।





আপনার মতামত লিখুন