যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতিতে শিক্ষার্থীদের ৮১ লাখ টাকার বোঝা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ব্যয়বহুল করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ প্রস্তাব প্রকাশ করে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে বিভাগটি। এ বিষয়ে আগামী নয় নভেম্বর পর্যন্ত মতামত জানানো যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, দেশটির শ্রমবাজারে কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমানো এবং মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়াই এ প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে, অভিবাসনব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকানো এবং ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ (ওপিটি) কর্মসূচির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় বিভাগটি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এফ-১ ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রথমবার ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের (ওপিটি) অনুমতি নিতে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৮১ লাখ টাকা ফি দিতে হতে পারে। পরে আবার এ অনুমতি নিতে গুনতে হতে পারে ৩০ হাজার ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
তবে, ফি বাড়ানোর প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়ে কার্যকর হলেই কেবল শিক্ষার্থীদের এ ফি দিতে হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে প্রবেশের বিকল্প পথ বা কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়নি।
নতুন প্রস্তাবের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়োগদাতাদের কাছে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ওই মুখপাত্র আরও জানান, কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি করে এমন কোনো কর্মসূচির সঙ্গে মার্কিন কর্মীদের প্রতিযোগিতা করতে হওয়া উচিত নয়। এ কারণেই ওপিটি কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এফ-১ ভিসায় থাকা যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে মিল আছে, এমন কাজে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এজন্য প্রথমে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মনোনীত কর্মকর্তার সুপারিশ নিতে হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবায় (ইউএসসিআইএস) কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়।
শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চলাকালে অথবা ডিগ্রি শেষ করার পর এ প্রশিক্ষণের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রতিটি শিক্ষাস্তরে যোগ্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১২ মাস কাজের অনুমতি পান।
তবে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা এ সময়ের সঙ্গে আরও ২৪ মাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচি পরিচালনার সময় বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও নিয়মের অপব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে।
কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মনোনীত কর্মকর্তা, নিয়োগদাতা ও শিক্ষার্থী বিদ্যমান নিয়মের অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মধ্যে কর্মস্থলসংক্রান্ত সমস্যা এবং অর্থের বিনিময়ে ভিসার মেয়াদ ধরে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিভাগটির ধারণা, নতুন ফি চালু হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবে। একই সঙ্গে, কর্মসূচির ওপর নজরদারি বাড়বে এবং প্রতারণার সুযোগ কমবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করার আগেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি ফি না দিলে ওই শিক্ষার্থী কাজের অনুমতি পাবেন না।
তবে, এ ফি কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগদাতার জন্য নির্ধারিত নয়। বরং কোনো শিক্ষার্থীকে যে কোনো ধরনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করা হলেই ফি দিতে হবে। আদায় করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, এ প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ ও প্রেসিডেন্টের অন্যান্য নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব নির্দেশনায় মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগামী নয় নভেম্বর জনমত গ্রহণের সময় শেষ হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জমা পড়া মতামত ও নথি পর্যালোচনা করবে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাবটিতে পরিবর্তনও আনা হতে পারে। এদিকে, প্রস্তাবটি সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে আরও তথ্য জানাবে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

