খুঁজুন

সামাজিক ‘নেটওয়ার্ক’ হারিয়েছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সামাজিক ‘নেটওয়ার্ক’ হারিয়েছে পুলিশ

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স কখনও ছিল না। সদস্য সংখ্যা কম থাকার কারণে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে নানা পদ্ধতি ও উপায় হাতে নিতে হয়েছে পুলিশকে। বিশেষ করে এলাকাভিত্তিক অপরাধ যেমন- চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ যে কোনো অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে স্থানীয় কমিউনিটির সাহায্য নিত পুলিশ। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার অপরাধী এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে খুব সহজেই খবর পেত পুলিশ প্রশাসন। যা ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।

জানা যায়, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সঙ্গে স্থানীয় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির এলাকাভিত্তিক স্থানীয় নেতাকর্মীরা এখন পলাতক। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থা। এখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে আগাম কোনো খবর আসছে না পুলিশের কাছে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাচ্ছে না পুলিশ। বিষয়টি বুঝতে পেরে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে নানা অপরাধ ঘটাচ্ছেন।

জনবল সংকটের কারণে এলাকাভিত্তিক অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। দেশের জনসংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী পুলিশের জনবল অনেক কম। দেশে ৮০০ থেকে ৯০০ জনের বিপরীতে রয়েছেন একজন পুলিশ। ইউএন (জাতিসংঘ) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ৪০০ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ থাকার কথা বলা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশের ঘাটতি পূরণ এবং অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার বিকল্প নেই

এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী সরকারের পতনের পর ডিএমপিতে অনেক রদবদল হয়েছে। থানাগুলোর ওসি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত বদলি করা হয়েছে। বদলি করে যাদের ঢাকায় আনা হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশের ডিএমপিতে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ফলে তারা এখনও ঠিক মতো ঢাকার রাস্তাঘাট চেনেন না। এর মধ্যে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়া। ঢাকার নতুন পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের কাছ থেকে এখন কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।
কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা মূলত পুলিশের সামাজিক নেটওয়ার্ক, এটি খবর ও তথ্য নেওয়ার মাধ্যম। এর মাধ্যমে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ প্রশাসন।

dhakapost

এ বিষয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে এলাকায় নিয়মিত পুলিশ আসত। বিশেষ করে রাতে টহল দিত। তারা এসে কমিউনিটি পুলিশিংয়ে যারা নিয়োজিত ছিলেন তাদের কাছ থেকে অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য নিতেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা কম হতো। কিন্তু এখন পুলিশ তেমন আসে না, কারও কাছ থেকে খবরও নেয় না। পুলিশের তৎপরতা না থাকায় এখন চোর ও ছিনতাইকারীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা কাজল শেখ বলেন, আগে রাত-বিরাতে পুলিশ আসত। এলাকার মুরুব্বিদের সঙ্গে আড্ডা দিত, এলাকার খোঁজখবর নিত। ফলে চোর ও ছিনতাইকারীরা কিছুটা হলেও ভয়ে থাকত। কিন্তু এখন পুলিশ আসে না, এলাকার কারও কাছ থেকে তথ্যও নেয় না। অপরাধীরা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কিছু বলার সাহস দেখাচ্ছে না।

যে কারণে দরকার কমিউনিটি পুলিশিং
পুলিশ জানায়, তাদের জনবল সংকটের কারণে এলাকাভিত্তিক অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। দেশের জনসংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী পুলিশের জনবল অনেক কম। দেশে ৮০০ থেকে ৯০০ জনের বিপরীতে রয়েছেন একজন পুলিশ। ইউএন (জাতিসংঘ) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ৪০০ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ থাকার কথা বলা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশের ঘাটতি পূরণ এবং অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

আগে রাত-বিরাতে পুলিশ আসত। এলাকার মুরুব্বিদের সঙ্গে আড্ডা দিত, এলাকার খোঁজখবর নিত। ফলে চোর ও ছিনতাইকারীরা কিছুটা হলেও ভয়ে থাকত। কিন্তু এখন পুলিশ আসে না, এলাকার কারও কাছ থেকে তথ্যও নেয় না। অপরাধীরা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কিছু বলার সাহস দেখাচ্ছে না রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা কাজল শেখ
তবে পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও অপরাধ দমনে নাগরিকদের সাহায্য নেওয়ার জন্য পুলিশ ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করা শুরু করেছে। ‘নাগরিক কমিটি’ বা ‘সিটিজেন ফোরাম’ নামে একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এর মাধ্যমে নাগরিকদের নতুন করে পুলিশিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিটিজেন ফোরাম নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। সিটিজেন ফোরামের মাধ্যমে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

dhakapost
গত ১৫ বছরে পুলিশ বড় ধরনের অপরাধ করেছে, আমরা লজ্জিত : পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম ।
অন্যদিকে, কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কাজ করা হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। যেমন- এর সঙ্গে সম্পৃক্তরা মিথ্যা মামলার হুমকি দিয়ে অনেকের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতেন। এ ছাড়া ঘনিষ্ঠ অপরাধীদের বাঁচাতে তারা নানা রকম মিথ্যা তথ্য দিতেন পুলিশকে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কারণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন অনেক কমিউনিটিপ্রধান। বিশেষ করে দলীয় পরিচয়ে যারা এখানে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ কারণে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা নতুন করে আর সচল করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘সিটিজেন ফোরাম’ গঠন নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। সিটিজেন ফোরামের মাধ্যমে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর
যা বলছেন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ
এ বিষয়ে ডিএমপির বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপরাধ দমনে স্থানীয়দের সহায়তার প্রয়োজন আছে। কারণ, পুলিশের একার পক্ষে প্রতিটি এলাকার গিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তবে, এখন একটু সমস্যা হচ্ছে। বিগত কমিটিগুলোর সদস্যরা আওয়ামী লীগের লোকজন ছিলেন। তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন, আবার অনেকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে নতুন করে লোকজন নিয়ে এ কমিটি আর করা হয়নি। এটি আসলেই বড় ধরনের সমস্যা। কারণ, এসব কমিটি করতে হলে আবারও রাজনৈতিক দলের লোকজনকে নিয়ে আসতে হবে। তারা আসলে ফের নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠবে। তবে, যেভাবেই হোক পুলিশিং ব্যবস্থার সঙ্গে নাগরিকদের যুক্ত করতে হবে। তা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির এক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, আগের কমিটিগুলোর বিরুদ্ধে অনেক অনেক অভিযোগ রয়েছে। তাই এসব কমিটি এখন আর সক্রিয় করা সম্ভব নয়। তবে, আমরা স্থানীয় সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে কমিউনিটির একটি সেতুবন্ধন তৈরি হবে।

dhakapost

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি থানার ওসিকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন দ্রুত নাগরিক কমিটি বা সিটিজেন ফোরামের কার্যক্রম চালু করেন। থানাগুলো এ কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। তারা দল-মত নির্বিশেষে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, খেলোয়াড়, চিকিৎসক, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কারণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন অনেক কমিউনিটিপ্রধান। বিশেষ করে দলীয় পরিচয়ে যারা এখানে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ কারণে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা নতুন করে আর সচল করা হয়নি ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
থানা পুলিশের প্রত্যাশা, জনগণ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে।

যেভাবে শুরু কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার
পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে থেকে। ওই সময়ে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম‍ শহীদুল হক, যিনি পরবর্তীতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হন; মূলত তিনিই এ ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৯৪ সালে ময়মনসিংহে হঠাৎ করে বেড়ে যায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। ওই পরিস্থিতিতে তৎকালীন এসপি আহমাদুল হক গঠন করেন ‘টাউন ডিফেন্স পার্টি’। এটি মূলত কমিউনিটি পুলিশিংয়ের একটি অংশ। ঠিক সে সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম শহীদুল হক কমিউনিটি পুলিশিং নিয়ে কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ডিএমপিসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’- মন্তব্য করে গ্রেপ্তার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ-ভোগান্তি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অনিয়ম ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আখতারুজ্জামান আওয়াজ তুলেছেন। কার্যত তিনি ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ, বিশেষ করে বিদেশফেরত প্রবাসীদের প্রতিবাদের কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, তার এই প্রতিবাদকে আমলে নিয়ে দুর্বলতাগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জনসম্মুখে অপমানিত করার নানা হীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘জনগণ অন্ধ নয়, সবই দেখছে।’ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আখতারুজ্জামান বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন বলেও দাবি করেন জামায়াতের আমীর।

শেষে আখতারুজ্জামানের জন্য দোয়া করে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তার সম্মান বৃদ্ধি করুন। আমীন।’

এর আগে গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হুমকি-ধামকির পর্যায়ে পৌঁছায়।

পরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

পরদিন শনিবার প্রিজনভ্যানে করে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেওয়ার সময় মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরানো হয়। আদালতে নেওয়ার সময় হেলমেট পরার প্রতিবাদ করেন আখতারুজ্জামান। পরে তিনি হেলমেট খুলে ফেলে দেন।

প্রিজনভ্যান থেকে নামার সময় তিনি বলেন, ‘আমি হেলমেট পড়বো না। আমাকে অন্যায়ভাবে-অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগ না। হালের হেলমেট এখন আওয়ামী লীগের ফ্যাশন হয়েছে। আমাকে হাতকড়া পরান।’ এরপর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তার হাতে হাতকড়া পরান।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা!

ইরানের বিপক্ষে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে নভেম্বর মাসে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সেনা মোতায়েনের বিষয় বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইরানে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে তার ‘হারানোর কিছু নেই’। ট্রাম্পের একাধিক হুমকি ও সেনা মোতায়েন নিয়ে অবশ্য তেমন উদ্বিগ্ন নয় ইরান। দেশটির মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

গত শুক্রবার রাতে এক জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধও করে দেয়, তবুও ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে লেগে যাবে কয়েক বছর। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা আগামীকালই চলে আসতে পারি; কিন্তু তাদের যে ক্ষতি করেছি, তা পুষিয়ে উঠতে তাদের কয়েক বছর সময় লাগবে। কারণ, তারা কোনো সমঝোতায় আসতে চায়নি। তারা তাদের চাল চেলেছিল; তবে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।’

এরই মধ্যে ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বে একটি স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অষ্টম মাসে গড়িয়েছে এবং উভয় পক্ষ সংঘাতের তীব্রতা বাড়ানো কিংবা কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইরানে নতুন করে সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে পাঠানো হচ্ছে আরও হাজার হাজার সেনা। দেশটির আশপাশে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপটি গত রবিবার স্যান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর ঠিক এক দিন পর ‘মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ (এমইইউ), যেটিতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছেন, সেটিও একই পথে যাত্রা করেছে। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রাইক গ্রুপ ও নৌবাহিনীর মোতায়েন প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে যুক্ত হতে পারে অতিরিক্ত ৯-১০ হাজার মার্কিন সেনা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে নিয়োজিত নাবিক ও মেরিন সেনাও।

জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তারা। মেহের নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক হুমকি, আগ্রাসন কিংবা ভুল পদক্ষেপের মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত আইআরজিসি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং অবস্থান সম্পর্কে আইআরজিসির কাছে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে এবং যেকোনো উসকানির জবাবে তারা “অত্যন্ত কঠোর, তাৎক্ষণিক, বেদনাদায়ক এবং ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২’-এর চেয়েও অধিক প্রাণঘাতী” পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২’ ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর ইরানের চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। সে সময় তেহরান নিক্ষেপ করেছিল প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটলে তার জবাবে যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ওই হামলার চেয়েও অনেক বড় ও অধিক প্রাণঘাতী হতে পারে।

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ রাজধানীর চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কয়েকটি সংস্থা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানের র-ক্যানভাস রেস্তোরাঁ, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ ও ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের কারণ

শনিবার সন্ধ্যায় এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার কিছু বার, রেস্তোরাঁ, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে সিআইআইডি চারটি দল গঠন করে।

অভিযানে এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

এনবিআর সূত্রের দাবি, ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক শেখ নুরুল ইসলাম। তবে ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

অভিযান শেষে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও সার্বিক ফলাফল জানাতে শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করবে এনবিআর। রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার শুল্কমুক্ত মদ মজুদের অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়।

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা! সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান একযোগে ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি 'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু