রাশিয়ার বিমান হামলায় জাপোরিঝিয়ায় ১৭ জন নিহত
ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) জাপোরিঝিয়ার আবাসিক ভবনে ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বার্তাসংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ান ডিজেল কেনার একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার ঠিক একদিন পর এই হামলাটি হলো। যে চুক্তিটির বিষয়ে কিয়েভ সতর্ক করে বলেছিল এটি ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে অর্থ জোগাতে সাহায্য করবে।
মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, শনিবার দিনের বেলা রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেখানেও চারজন আহত হয়েছে।
সাড়ে ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের ফ্রন্ট লাইনে উভয় দেশের সেনাবাহিনী অনেকাংশে অচলাবস্থার মধ্যে থাকলেও রাশিয়া এবং ইউক্রেন দূরপাল্লার বিমান যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। ইউক্রেন রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বোমাবর্ষণ মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে, যার ফলে গত চার দিনে ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি রাশিয়া থেকে ডিজেল পাওয়ার জন্য একটি চুক্তি করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর বছরের পর বছর ধরে মার্কিন চাপের নীতি থেকে এটি একটি নাটকীয় ইউ-টার্ন (উল্টো পদক্ষেপ), যা মূলত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চ মূল্য নিয়ন্ত্রণের একটি প্রচেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা এবং কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক টেলিগ্রাম বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া যুদ্ধের পথই বেছে নিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, রপ্তানি থেকে রাশিয়ার আয় করা প্রতিটি ডলার তাদের অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনা, ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানো, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এবং ভাড়াটে সৈন্য নিয়োগের কাজে সহায়তা করবে; আর যুদ্ধ করার সক্ষমতা কমে না আসা পর্যন্ত মস্কো থামবে না।
তিনি বলেন, ডিজেল সংক্রান্ত চুক্তির কারণে মস্কো এমন “সংকেত পেয়েছে যে হামলা চালিয়ে যাওয়াটা সম্ভবত গ্রহণযোগ্য—এবং এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।” এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং অন্যান্য অংশীদারদের প্রতি রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা সীমিত করার আহ্বান জানান।

