চলতি বছর ৪৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার

নিউজ ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২০ এএম
চলতি বছর ৪৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার

আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এরমধ্যে চলতি বছরই ৪৩ থেকে ৪৫ হাজার নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা এবং ক্যানসার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে অন্তত ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনার রয়েছে।

শাবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলীসহ তিনজনের নিয়োগ বাতিল, তদন্ত কমিটি গঠন
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সভাকক্ষে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউদ্দিন হায়দার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যুক্ত করে মোট এক লাখ ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুটি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। স্বাস্থ্য বিভাগ অত্যন্ত জটিল একটি খাত। এটি সড়ক নির্মাণ, রেললাইন তৈরি কিংবা স্কুলঘর নির্মাণের মতো নয়।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে, যেগুলোকে একসঙ্গে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সহজ নয়। এ খাতের পরিবর্তন অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না-ও হতে পারে। তবে আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, সামনে যত এগিয়ে যাবেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবর্তন তত দেখতে পাবেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা সেই পরিবর্তনেরই অংশ।

জিয়াউদ্দিন হায়দারের ভাষ্য, আমরা নিশ্চিত করতে চাই, বাগেরহাটের মানুষ হোক কিংবা চরাঞ্চল, পাহাড়, সমতল, শহর বা গ্রামের বাসিন্দা—বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার যেন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পায়। স্বাস্থ্যকর্মীরা বছরে তিন থেকে চারবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে প্রতিটি পরিবারের কাছে যাবেন। তারা পরিবারের সদস্যদের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গর্ভবতী মায়েদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনার কাজ করবেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) মাধ্যমে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে অন্তত ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে। এসব মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...