খুঁজুন
সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫, ১৭ চৈত্র, ১৪৩১

চাহিদার সঙ্গে দামও বেড়েছে দেশি পোশাকের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
চাহিদার সঙ্গে দামও বেড়েছে দেশি পোশাকের

ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। শেষ সময়ে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। ঈদের কেনাকাটায় ছোট-বড়, ধনী-গরিব কেউ পিছিয়ে নেই। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রেতারা ছুটছেন ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় মার্কেট ও বিপণি-বিতানগুলোতে। ক্রেতাদের এই ভিড়ে দোকানিদেরও ব্যস্ততার শেষ নেই।

রাজধানীর মৌচাকের সেন্টার পয়েন্ট। এই মার্কেটটির প্রতিটি দোকানে বাচ্চাদের প্রায় সবধরনের পণ্যই পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, দাম এবং মান দুটোতে সেরা এই মার্কেটটি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দেশি পোশাকের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তাই কিছুটা বাড়তি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বিজ্ঞাপন

এই মার্কেটে বাচ্চাদের পোশাক কিনতে মেয়েরাই বেশি আসছেন। ক্রেতাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। মায়েরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এসে পছন্দের পোশাক কিনছেন। গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো। এজন্য সন্তোষ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।

ঈদ উপলক্ষে মোটামুটি ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে। কারণ ইন্ডিয়ান পণ্য আসতে না পারলেও সেই গ্যাপটা পূরণ করেছে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের মাধ্যমে। আমাদের এই মার্কেট মূলত বাচ্চাদের পোশাকের জন্যই সেরা। আর বাচ্চাদের সেই পোশাকগুলো কিনতে মায়েরা আসছেন। বাবারা খুব কম আসছেন। দুপুরের পর থেকে বেচাবিক্রি শুরু হয় এবং ইফতারের পর বাড়তে থাকে। এরপর মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে থাকে বিক্রি। গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম কিছুটা বাড়তি।
সেন্টার পয়েন্টের কটন প্লাসের মোহাম্মদ সাজু
মার্কেটের বেশ কয়েকজন পোশাক বিক্রেতা জানান, দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রচুর লোকের সমাগম হচ্ছে এই মার্কেটে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতাদের সমাগম বাড়তে থাকে। এই মার্কেটে বাচ্চাদের পর্যাপ্ত কালেকশন রয়েছে। ক্রেতারা নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক কিনছেন।

বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধ ও সাধ্যের মধ্য থেকে ঈদ কেনাকাটা সারছেন তারা। শুধু কাপড়ের দোকানে নয়, ভিড় রয়েছে জুতা, কসমেটিক্স, প্রসাধনীসহ অন্যান্য দোকানগুলোতেও।

ঈদের কেনাকাটায় মার্কেটগুলোতে প্রায় সবধরনের পণ্যই পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শার্ট-প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি-পায়জামা, ট্রাউজার, বাচ্চাদের পোশাক, শাড়ি, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, থ্রি-পিস, বেল্ট, জুতা, গেঞ্জি, লুঙ্গি ইত্যাদি। তবে এই মুহূর্তে ক্রেতাদের আকর্ষণ এবং আগ্রহ বেশি বাচ্চাদের পোশাকের দিকে।

রঙ-বেরঙের পোশাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সেন্টার পয়েন্টের দোকানগুলো। ঈদকে রঙিন করে তুলতে দোকানগুলোতে শিশুদের জন্য বাহারি পোশাক তোলা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে এবার শিশুদের পোশাকেও এসেছে বৈচিত্র্য।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মাসুদ রানা। তিনি রাজধানীর মৌচাকের সেন্টার পয়েন্টে এসেছেন বাচ্চাদের জন্য পোশাক কিনতে। তিনি বলেন, সব সময় এই মার্কেট থেকেই বাচ্চাদের পোশাক কিনি। এখানে ভালো পোশাক পাওয়া যায় এবং মানেও ভালো। দামটাও সাধ্যের মধ্যেই থাকে।

খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে গিয়েছিলাম। তবে ওখানে মনমতো পোশাক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই মার্কেটে চলে এসেছি। এখানে এসে বাচ্চাদের জন্য পোশাক কিনেছি। বিভিন্ন দোকানে অনেক কালেকশন রয়েছে।
সেন্টার পয়েন্টে আসা ক্রেতা কুনসুমা রুমি
নিজের জন্য কী কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজের জন্য এখনো কিছু কেনা হয়নি। বাচ্চাদের জন্য আগে কিনছি। নিজের জন্য ওভাবে কখনো ভাবা হয় না। বাচ্চাদের আনন্দেই আমাদের আনন্দ।

রাজধানীর নন্দিপাড়া থেকে বাচ্চাদের পোশাক কিনতে মৌচাক সেন্টার পয়েন্টে এসেছেন বিপাশা আক্তার। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, সেন্টার পয়েন্টে বাচ্চাদের সুন্দর সুন্দর পোশাক পাওয়া যায়। দামও বেশি নয়। এই মার্কেট যেহেতু বাচ্চাদের পোশাকের জন্য সেরা, তাই এখানে এলে ঘুরে ঘুরে পছন্দের পোশাকটি পাওয়া যায়।

বাচ্চাদের পোশাক কিনতে সেন্টার পয়েন্টে এসেছেন কুনসুমা রুমি। অন্য মার্কেট রেখে এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে গিয়েছিলাম। তবে ওখানে মনমতো পোশাক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই মার্কেটে চলে এসেছি। এখানে এসে বাচ্চাদের জন্য পোশাক কিনেছি। বিভিন্ন দোকানে অনেক কালেকশন রয়েছে।

সোয়াদ ফ্যাশনের মো. সোহেল ঢাকা মেইলকে বলেন, দুপুরের পর থেকে এই মার্কেটে বিক্রি শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতা বাড়তে থাকে। মোটামুটি ভালো বিক্রি হচ্ছে। এই মার্কেটে নারীরাই বেশি আসে।

সেন্টার পয়েন্টের কটন প্লাসের মোহাম্মদ সাজু ঢাকা মেইলকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে মোটামুটি ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে। কারণ ইন্ডিয়ান পণ্য আসতে না পারলেও সেই গ্যাপটা পূরণ করেছে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের মাধ্যমে। আমাদের এই মার্কেট মূলত বাচ্চাদের পোশাকের জন্যই সেরা। আর বাচ্চাদের সেই পোশাকগুলো কিনতে মায়েরা আসছেন। বাবারা খুব কম আসছেন। দুপুরের পর থেকে বেচাবিক্রি শুরু হয় এবং ইফতারের পর বাড়তে থাকে। এরপর মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে থাকে বিক্রি। গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম কিছুটা বাড়তি।

সেন্টার পয়েন্টের মদিনাজের নুর মোহাম্মদ ঢাকা মেইলকে বলেন, দশম রোজা থেকে শুরু হয়ে শেষ রোজা পর্যন্ত ঈদের বেচাকেনা হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা বেশি থাকে। গতবারের তুলনায় এবার বেচাবিক্রি ভালো হচ্ছে।

এই বিক্রেতা বলেন, এ মার্কেটটি মূলত বাচ্চাদের পোশাকের জন্য ভালো। সবধরনের ক্রেতাই এখানে আসে। তবে মিড লেভেলের ক্রেতা বেশি আসে। এবার দেশি কাপড়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় দামটা একটু বেশি।

এমই/জেবি

চলছে ষড়যন্ত্র, মূল মাস্টারমাইন্ড চিহ্নিত

জয় বাংলা ব্রিগেড প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা !

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
জয় বাংলা ব্রিগেড প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা !

গেল ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণআন্দোলনের মুখে পতন হয় স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের। তারপর থেকেই দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেই ভারতে পলাতক রয়েছে। আর সেই ভারত থেকেই চলছে বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও উঠে আসছে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের মহাষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে। এরই মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ আরও ঘনীভূত হয়েছে কলকাতায় আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশের পর।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কলকাতার রাজারহাটে এক ইফতার পার্টিতে অংশ নেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, নাসিম, মেয়র জাহাঙ্গীর, সম্রাটসহ শতাধিক আওয়ামী ঘনিষ্ঠ পলাতক নেতা। উপস্থিত ছিলেন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও তার স্ত্রী।

পরদিন একই স্থানে ছাত্রলীগের শতাধিক পলাতক নেতার আরেকটি ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যে কোনো মূল্যে উৎখাতের নির্দেশ দেন এবং তথ্যসূত্রের দাবি অনুযায়ী, তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে অস্ত্র ও অর্থের অভাব হবে না।

২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর “জয়বাংলা ব্রিগেড” নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বৈঠকে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা হয় বলে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে।

সেখানে শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের রূপরেখা ও প্রয়োজনে গৃহযুদ্ধের ডাক দেন বলে অভিযোগ। ওই বৈঠকে দেশ-বিদেশের ৫৭৭ জন অংশ নেন।

এর মধ্যে ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, এবং বাকি ৫০০ জনকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী ঘনিষ্ঠ নেতারাও একই এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয়। কলকাতা, দিল্লি, আগরতলা ও মেঘালয়ের মাটিও নির্বিঘ্নে ব্যবহার করছেন তারা।

গঠিত হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ। গঠিত হয়েছে কোর গ্রুপ। মধ্য রমজান থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি বৈঠকের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে।

যদিও শেখ হাসিনা এখনও সরাসরি কোনো বিবৃতি দেননি, তবে সিআইডির দাবি অনুযায়ী, ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হবে। দেশের ভেতর ও বাইরে সক্রিয় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে অভিযুক্তদের।

সূত্র: https://www.facebook.com/watch/?v=625675083619141&rdid=ezVPoexOrUH9TrsP

অন্যান্য দেশে রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চায় চীন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
অন্যান্য দেশে রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চায় চীন

অন্যান্য দেশে নিজেদের পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায় চীন। এজন্য বাংলাদেশে চীনা উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তরে সহায়তা করবে দেশটির এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম ব্যাংক)। বৃহস্পতিবার চীন সফররত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান চেন হুয়াইউ।

তিনি জানান, বাংলাদেশে চীনা উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তরে সহায়তা করবে তার ব্যাংক, যাতে অন্যান্য দেশে রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

চীনের এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশে চীনা অর্থায়িত অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পগুলোর প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। তবে, এবারই প্রথম তারা বাংলাদেশে চীনা বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চেন হুয়াইউ আজ চীনের হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং মানবসম্পদ দেশটিকে চীন ও বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির জন্য একটি উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে পারে।

তিনি বলেন, আমি শীর্ষ চীনা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থানান্তরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং আমার সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুবিধা ও একটি বাণিজ্য করিডোর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ চীনের পরিপূরক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বাংলাদেশ বড় আকারে নতুন বন্দর তৈরি করছে, যা শুধু দেশীয় অর্থনীতির জন্য নয়, বরং নেপাল ও ভূটানের মতো স্থলবেষ্টিত দেশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের জন্যও সহায়ক হবে।

এ সময় এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান চেন হুয়াইউ বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব ও দূরপ্রাচ্যের এশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার বাজারের জন্য উপযুক্ত।

তিনি বলেন, চীনের বিপুলসংখ্যক কোম্পানি বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করছে এবং আমাদের ব্যাংক বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ও উৎপাদন শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণেও সহায়তা করবো আমরা।

ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে চেন হুয়াইউ বলেন, চীনা ও পশ্চিমা উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে হলে বাংলাদেশকে তার ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের দ্রুত ছাড়করণ এবং নতুন অবকাঠামো প্রকল্প যেমন দাশেরকান্দি স্যুয়েজ প্লান্টে সহায়তা চান। একইসঙ্গে প্রকল্প ব্যয় কমাতে এক্সিম ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি ফি কমানোরও আহ্বান জানান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

চেন এ সময় জানান, তার ব্যাংক এসব প্রস্তাব যাচাই করে দেখবে।

একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে চীনা মুদ্রা রেনমিনবিতে (আরএমবি) সহজ শর্তের আরও বেশি ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেন। চেন বলেন, উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খুব শিগগিরই পুনরায় বৈঠকে বসবেন, যাতে এই বৈঠকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি ও পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানাল সুপারকো

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানাল সুপারকো

চলছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজান। পবিত্র এই মাসের তৃতীয় দশকও শেষ হতে চলেছে। এ বছরের রমজান মাসটি ২৯ নাকি ৩০ দিনের হবে সে বিষয়েও চলছে আলোচনা। এমন অবস্থায় আসন্ন ঈদুল ফিতর আগামী সোমবার (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো)।

বুধবার (২৬ মার্চ) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এবং জিও নিউজ।

(Dawn.com (@dawn_com) March 26, 2025)

পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো) বুধবার জানিয়েছে, আগামী ২৯ মার্চ পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ৩০ মার্চ চাঁদ দেখা যাওয়ার এবং পরদিন ৩১ মার্চ (সোমবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, জ্যোতির্বিদ্যাগত গণনা এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণগত তথ্যের ভিত্তিতে শাওয়াল ১৪৪৬ হিজরি চাঁদ দেখার সম্ভাবনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছে এই গবেষণা কেন্দ্রটি।

সুপারকোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সুনির্দিষ্ট জ্যোতির্বিদ্যার মডেল অনুসারে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ (সংযোগ) আগামী ২৯ মার্চ বিকেল ৩:৫৮ মিনিটে দেখা যাবে। চাঁদের দৃশ্যমানতা নির্ভর করে চাঁদের বয়স, সূর্য থেকে এর কৌণিক বিচ্ছেদ, সূর্যাস্তের সময় উচ্চতা এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর।”

দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটির সরকারি এই সংস্থার মতে, আগামী ২৯ মার্চ সৌদি আরবে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভব এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে পাকিস্তানের মতোই আগামী ৩১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিরত উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের বিষয়ে সুপারকোর এই পূর্বাভাস পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ দেশটির আবহওয়া বিভাগও আগামী ৩১ মার্চ ঈদের পূর্বাভাস দিয়েছে।

পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদুল ফিতরের জন্য তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। দেশটির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপন অনুসারে, আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি চলবে।

জিও নিউজ বলছে, পাকিস্তানের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি রুয়েত-ই-হিলালের কেন্দ্রীয় কমিটি পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার জন্য আগামী ৩০ মার্চ, ২০২৫ (রমজান ২৯, ১৪৪৬ হিজরি) রোববার সন্ধ্যায় আঞ্চলিক কমিটিগুলোর সাথে বৈঠক করবে। চাঁদ দেখা কমিটির এই সভা ধর্ম বিষয়ক ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও সামা টিভি জানিয়েছিল, জ্যোতির্বিদ্যার মডেল অনুসারে, আগামী ৩০ মার্চ পাকিস্তানে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর তেমনটি হলে ২৯ রোজা শেষেই রমজান মাসের সমাপ্তি এবং পরদিন ৩১ মার্চ দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।