খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

শেখ হাসিনার নানামুখী ষড়যন্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রে টাইম টেলিভিশনকে যেভাবে টার্গেট করেছিল হাসিনা সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে টাইম টেলিভিশনকে যেভাবে টার্গেট করেছিল হাসিনা সরকার

ক্ষমতার মসনদকে চিরস্থায়ী করতে দেশ ছাড়াও দেশের বাইরের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে টার্গেট করেছিল হাসিনা সরকার। সমালোচনা বা বিরোধী মতের খবর প্রচার হলেই এসব সংবাদমাধ্যমের উপর নেমে আসতো হুমকি-ধমকি বা ভয়ভীতির খড়গ। এর সঙ্গে যুক্ত হতো ট্যাগ।

সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জনপ্রিয় টাইম টেলিভিশনও শ্যান দৃষ্টির শিকার হয়েছিল হাসিনা সরকারের। বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি অপপ্রচার ছড়িয়েও টাইম টেলিভিশনের কণ্ঠরোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল টাইম টেলিভিশনকে। প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল তৎকালীন সরকার প্রধানের যেকোনো অনুষ্ঠানে।

জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তার প্রথম সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে টাইম টেলিভিশন। বিষয়টি সরকারের গোচরীভূত হওয়ার পর পরই টাইম টেলিভিশন ও এর সিইও আবু তাহেরের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিভিন্নমুখী অপপ্রচার। এ সাক্ষাৎকারটি যাতে কোনোভাবেই প্রচার না হয় সেজন্য দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন, ভয়ভীতি প্রদর্শন।

২০১৯ সালে জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহেরকে তার অফিসে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোনো অনুষ্ঠানে টাইম টেলিভিশনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত অবহিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এর কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, সরকারবিরোধী হিসেবে টাইম টেলিভিশনের ব্যপারে একটি ধারণার জন্ম হয়েছে।

এছাড়াও এর আগের স্থায়ী প্রতিনিধি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন প্রকাশ্যেই এই টেলিভিশনের সঙ্গে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র ধারণার বশবর্তী হয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেল ও এর সিইওর বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে আবু তাহের সেদিন বেরিয়ে এসেছিলেন। এ সময় সেখানে তৎকালীন প্রেস কাউন্সিলার নুরে এলাহী মিনাও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে টাইম টেলিভিশনের প্রধান আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে টাইম টেলিভিশনের যাত্রা শুরু করে। তখন থেকেই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এর কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছিল হুমকি-ধমকি। এর বাইরে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের ছেলের বিপুল সম্পত্তির খবর প্রচার করেছিল টাইম টেলিভিশন। যা ছিল সরকারি চক্ষুশূলের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে টাইম টেলিভিশনকে শেখ হাসিনার যেকোনো অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্নজন আমাকে দেশে যেতে বারণ করেন। মাঝখানে নিউ ইয়র্কের ৬ জন স্টেট সিনেটর আমাকে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিয়ে যান। কিন্ত সেখানে ডিজিএফআই থেকে ফোন করা হয় আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য। এসব নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমি পরবর্তীতে আর বাংলাদেশ সফরে যাইনি।

তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর আমাদের উপর দেওয়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল আছে কিনা আমরা জানতে চেয়ে সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে চিঠিও দিয়েছি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ৩০ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিবকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন সময়ে জনপ্রিয় চ্যানেল টাইম টেলিভিশন এবং সাংবাদিক হিসেবে আমাকে ২০১৯ থেকে তার যেকোনো সভা সমাবেশ, অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সময়ে আপনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আপনিই আমাকে ডেকে নিয়ে অবহিত করেছিলেন আপনার কর্মস্থল জাতিসংঘে বাংলাদেশের মিশন অফিসে। কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তখন আপনি বলেছিলেন, সরকারবিরোধী হিসেবে আমার বিরুদ্ধে একটি ধারণা সৃষ্ট হয়েছে! সে সময় (আপনার সঙ্গে আলাপকালে) সেখানে বাংলাদেশ মিশনের প্রেস কাউন্সেলর নুর এলাহি মিনা উপস্থিত ছিলেন। আমি প্রশ্ন করেছিলাম প্রমাণ ছাড়া কেবলমাত্র অনুমান বা ধারণা থেকে একজন সাংবাদিক এবং একটি মিডিয়াকে সরকার প্রধানের খবর সংগ্রহ করতে নিষেধ করা কতটুকু গণতান্ত্রিক ও যৌক্তিক? আপনি বলেছিলেন, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় পরিবর্তন আসার প্রেক্ষিতে সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল বা কার্যকর আছে কিনা? বিষয়টি আমাদের জানা প্রয়োজন। আশা করি ব্যাপারটি খোলাসা করে বাধিত করবেন।

সূত্র বলছে, নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে (বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল) চিঠিটি পাঠানো হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ শনিবার বাংলাদেশ সময় রাতেই জবাব পাঠান সচিব। রোববার তিনি সচিব হিসেবে শেষ অফিস করেন।

টাইম টিভির সিইও আবু তাহেরকে পাঠানো শনিবারের বার্তায় বিদায়ী পররাষ্ট্র সচিব লিখেন, ‘প্রিয় তাহের ভাই আশা করি ভালো আছেন। আমি নিশ্চিত করছি যে, এখন আর সেই বিধিনিষেধ নেই। মুক্তভাবে সংবাদ সংগ্রহে আপনাকে স্বাগতম।’

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে।

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তা গতকালের নির্বাচনই প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বগুড়া ও শেরপুরের দুটি আসনে পুনঃনির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচন বর্জন করছি। আমরা চাই, নতুন করে আবার এই দুই আসনে নির্বাচন দেওয়া হোক।’

গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘আবার প্রমাণ করল দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ আমলের থেকেও খারাপ নির্বাচন হয়েছে।’

বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকার দ্বিচারিতা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া এ জাতির ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি লাভের কোনো রাস্তা অবশিষ্ট নেই।

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. আবদুল মান্নান প্রমুখ।

ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এএনআই।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রণয় ভার্মা (আইএফএস: ১৯৯৪), বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি শিগগিরই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয়কে ব্রাসেলসে নেওয়ার উদ্যোগের কথা সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম বলা হচ্ছিল। গত ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরে সেখানকার দায়িত্ব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে কার্যকর হতে পারে।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই এফটিএ ভবিষ্যত-উপযোগী বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করবে, যা ভারতের নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে সহায়তা করবে। বিশেষ করে প্রকৌশল ও উৎপাদন খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত।

ইউরোপের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ার ফলে ভারতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতীয় উৎপাদকদের সংযুক্তি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ চুক্তিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং আঞ্চলিক শিল্প ক্লাস্টারগুলোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৫ লাখ কোটি রুপি (১৩৬.৫৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৬.৪ লাখ কোটি রুপি এবং আমদানি ছিল ৫.১ লাখ কোটি রুপি।

একই সময়ে সেবা খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭.২ লাখ কোটি রুপি (৮৩.১০ বিলিয়ন ডলার), যা দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত। একসঙ্গে তারা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

ভারত সরকার মনে করছে, এই চুক্তি দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে আসার আগে ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিসের ১৯৯৪ ব্যাচের এ কর্মকর্তা তার আগে হংকং, স্যান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে হ্যানয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হয়ে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব-এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন তিনি।

এর আগে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের পরমাণু কূটনীতি নিয়ে কাজ করা অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগের যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন প্রণয় ভার্মা।

যন্ত্রকৌশলে স্নাতক করা প্রণয় ভার্মা ফরেন সার্ভিসে আসার আগে টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার উপর স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ড্রোন, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি একটি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অধিক উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে সক্ষম এই ড্রোনটি হঠাৎ উচ্চতা হারাতে শুরু করে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে এটি জরুরি অবস্থা বোঝাতে আন্তর্জাতিক ‘৭৭০০’ ডিস্ট্রেস কোড পাঠিয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি কিছুটা ইরানের আকাশসীমার দিকে মোড় নিয়েছিল এবং এরপরই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।

ফ্লাইটরাডার ২৪-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া এই তথ্যগুলো এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে নিখোঁজ হয়েছে, নাকি সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে এই ট্রাইটন ড্রোনটি ‘কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ’ (অনুসন্ধান ও উদ্ধার) অভিযানে যুক্ত ছিল। এর আগে এটি ইতালির সিগোনেলা নৌ-ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকেও একটি এমকিউ-৪সি ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়েছিল, যা পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রাইটন ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরে আসে। তার ঠিক একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। এছাড়া গত ৩ এপ্রিল এই অভিযানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে।

ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন যে, ইরান এই ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী বা নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এই চালকহীন বিমানটি এমন এক সময়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর এল যখন মাত্র দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল।

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে দামি ড্রোনগুলোর একটি, যার প্রতিটি ইউনিটের বাজারমূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারি করে থাকে।

সাধারণ ড্রোনের চেয়ে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা ওড়ার সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা প্রায় ৭,৪০০ নটিক্যাল মাইল। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ২০টি এ ধরনের ড্রোন রয়েছে এবং আরও সাতটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ নারায়নগঞ্জে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩, আহত ১০ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু