খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে নিহতর ঘটনায়

৮ বছর পর আ’লীগ নেতাকর্মীদের নামে হত্যা মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
৮ বছর পর আ’লীগ নেতাকর্মীদের নামে হত্যা মামলা

বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী এলাকার আমানতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় ২০১৬ সালের ৩১ মে ভোরে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন সেলিম হাওলাদার (৪০)। ওই ঘটনার আট বছরেরও অধিক সময় পর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মী সেলিম হাওলাদারকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই।

আজ শনিবার সকালে মামলার বাদি মোস্তফা হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেলিম হত্যার প্রকৃত ঘটনা ধামাচাঁপা দেয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয়ে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় মামলা দায়ের করতে পারেননি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, সেলিমের আতঙ্ক শুধু মুলাদীতে নয়; আশপাশের এলাকায়ও ছিলো। তার (সেলিম) বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা ছিল। বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার পূর্বে সেলিমকে ধরিয়ে দিতে জেলা পুলিশ ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষনা করেছিলো।

সর্বশেষ আদালতে দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে বিএনপি কর্মী সেলিম হাওলাদারকে হত্যার অভিযোগে নামধারী ও অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আনা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই মোস্তফা হাওলাদার। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ ফেরদৌস জানিয়েছেন, জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমাইয়া রেজবী মৌরি নালিশী অভিযোগ এজাহার হিসেবে রুজু করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুলাদী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, ২০১৬ সালে মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্ধীকে সমর্থন করে বিএনপি কর্মী সেলিম হাওলাদার। এতে এলাকার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়। নির্বাচনের পর ২০১৬ সালের ১ জুন সেলিম হাওলাদার ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে আসে। স্থানীয় লঞ্চঘাট থেকে সকালে বাড়ি ফেরার পথে সফিপুর গ্রামের ৪০-৪৫ জন দুর্বৃত্তরা তার (সেলিম) উপর হামলা করে। পরে সেলিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়। পথচারীরা সেলিমকে উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

যদিও তৎকালীন মুলাদী থানার ওসি মতিউর রহমানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের ৩১ মে ভোরে সেলিমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার খোলামোড়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা। ওইদিন দুপুরে সেলিমকে মুলাদী থানায় সোপর্দ করে র‌্যাব। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাত তিনটার দিকে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য সেলিমকে নিয়ে বের হন। এসময় উত্তর বালিয়াতলী এলাকার আমানতগঞ্জ বাজারের সন্নিকটে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সেলিমের সহযোগিরা তাকে (সেলিম) ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশের ওপর গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে সেলিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে মুলাদী থানার এসআই ফারুক হোসেন, এসআই কমল ও কনেস্টবল পারভেজ আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পাইপগান, চার রাউন্ড বন্দুকের গুলি, দুটি রামদা, দুটি লোহার রড ও দুটি বন্দুকের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সেলিমের বিরুদ্ধে ডাকাতি অপহরনসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ১১টি মামলা রয়েছে। পরবর্তীতে সেলিমের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়।

শনিবার সকালে নিহত সেলিমের ভাই ও মামলার বাদি মোস্তফা হাওলাদার বলেন, ইউপি নির্বাচনের জেরধরে বন্দুক যুদ্ধের নামে সেলিমকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাঁপা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয়ে তিনি দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় মামলা করতে পারেননি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাড়ি ফিরে তিনি আদালতে ভাই হত্যার বিচার দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় অভিযুক্তদের স্বজনরা জানিয়েছেন, এতোবছর পর বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মাঠে নেমেছে সেলিমের স্বজনরা। এখন তারা সেলিমকে বিএনপির কর্মী বানিয়ে তাকে (সেলিম) হত্যা করার অভিযোগ এনেছেন। তারা আরও বলেন, মামলার বাদি মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা থাকায় সে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সেইসাথে যাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে তাদের অনেকেই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নেই। অনেকে চাকরিসহ বিভিন্ন পেশায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিনা অপরাধে কাউকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। তদন্তে যা আসবে সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তা গতকালের নির্বাচনই প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বগুড়া ও শেরপুরের দুটি আসনে পুনঃনির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচন বর্জন করছি। আমরা চাই, নতুন করে আবার এই দুই আসনে নির্বাচন দেওয়া হোক।’

গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘আবার প্রমাণ করল দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ আমলের থেকেও খারাপ নির্বাচন হয়েছে।’

বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকার দ্বিচারিতা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া এ জাতির ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি লাভের কোনো রাস্তা অবশিষ্ট নেই।

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. আবদুল মান্নান প্রমুখ।

ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এএনআই।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রণয় ভার্মা (আইএফএস: ১৯৯৪), বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি শিগগিরই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয়কে ব্রাসেলসে নেওয়ার উদ্যোগের কথা সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম বলা হচ্ছিল। গত ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরে সেখানকার দায়িত্ব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে কার্যকর হতে পারে।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই এফটিএ ভবিষ্যত-উপযোগী বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করবে, যা ভারতের নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে সহায়তা করবে। বিশেষ করে প্রকৌশল ও উৎপাদন খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত।

ইউরোপের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ার ফলে ভারতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতীয় উৎপাদকদের সংযুক্তি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ চুক্তিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং আঞ্চলিক শিল্প ক্লাস্টারগুলোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৫ লাখ কোটি রুপি (১৩৬.৫৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৬.৪ লাখ কোটি রুপি এবং আমদানি ছিল ৫.১ লাখ কোটি রুপি।

একই সময়ে সেবা খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭.২ লাখ কোটি রুপি (৮৩.১০ বিলিয়ন ডলার), যা দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত। একসঙ্গে তারা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

ভারত সরকার মনে করছে, এই চুক্তি দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে আসার আগে ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিসের ১৯৯৪ ব্যাচের এ কর্মকর্তা তার আগে হংকং, স্যান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে হ্যানয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হয়ে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব-এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন তিনি।

এর আগে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের পরমাণু কূটনীতি নিয়ে কাজ করা অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগের যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন প্রণয় ভার্মা।

যন্ত্রকৌশলে স্নাতক করা প্রণয় ভার্মা ফরেন সার্ভিসে আসার আগে টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার উপর স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ড্রোন, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি একটি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অধিক উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে সক্ষম এই ড্রোনটি হঠাৎ উচ্চতা হারাতে শুরু করে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে এটি জরুরি অবস্থা বোঝাতে আন্তর্জাতিক ‘৭৭০০’ ডিস্ট্রেস কোড পাঠিয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি কিছুটা ইরানের আকাশসীমার দিকে মোড় নিয়েছিল এবং এরপরই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।

ফ্লাইটরাডার ২৪-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া এই তথ্যগুলো এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে নিখোঁজ হয়েছে, নাকি সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে এই ট্রাইটন ড্রোনটি ‘কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ’ (অনুসন্ধান ও উদ্ধার) অভিযানে যুক্ত ছিল। এর আগে এটি ইতালির সিগোনেলা নৌ-ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকেও একটি এমকিউ-৪সি ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়েছিল, যা পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রাইটন ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরে আসে। তার ঠিক একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। এছাড়া গত ৩ এপ্রিল এই অভিযানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে।

ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন যে, ইরান এই ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী বা নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এই চালকহীন বিমানটি এমন এক সময়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর এল যখন মাত্র দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল।

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে দামি ড্রোনগুলোর একটি, যার প্রতিটি ইউনিটের বাজারমূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারি করে থাকে।

সাধারণ ড্রোনের চেয়ে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা ওড়ার সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা প্রায় ৭,৪০০ নটিক্যাল মাইল। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ২০টি এ ধরনের ড্রোন রয়েছে এবং আরও সাতটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ নারায়নগঞ্জে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩, আহত ১০ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু