খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

আ'লীগ-ছাত্রলীগ হিন্দু সেজে হামলা করছে

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরা আমাদের আমানত: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

রেজাউল করিম স্টাফ রিপোর্টার,,সিরাজগঞ্জঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানরা আমাদের আমানত: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, প্রত্যেকটা হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধরা আমাদের আমানত। কেউ তাদের নির্যাতন করতে পারবেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগ চাইছে একটা ঝামেলা করতে, হিন্দুদের নাম করে ছাত্রলীগ হামলা করছে। এক্ষেত্রে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কোনো ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেওয়া যাবেনা।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা থানা বিএনপি এবং সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠন কতৃক আয়োজিত নিমগাছি কলেজ মাঠে ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আজকে আমার এখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিলনা। আজ থেকে দুই বছর আগে যখন আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করছি তখন শুনলাম খুনি হাসিনার আদালত আমাকে ৯বছরের সাজা দিয়েছে। আমি তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তার রায় আমি মানিনা, হাসিনার জেলে আমি যাব না। তাই জেলে যাওয়ার চেয়ে আমি বিদেশে থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সবার সাথে যোগাযোগ রাখবো, আন্দোলন পরিচালনা করব; আমি তাই করেছি।

টুকু বলেন, আজ হাসিনা আবারও বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। তাহলে কি করতে হবে; আমাদের সজাগ থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যুদ্ধ কিন্তু শেষ হায় নাই। আমরা কিন্তু ক্ষমতায় আসি নাই, ক্ষমতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাই বিএনপির ক্ষমতায় আসার একমাত্র পথ হলো জনগণের ভোট। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপরে নির্যাতন করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ হাসিনার কয়েদি হয়ে গিয়েছিল। ১৬ বছর লড়াই করার পরে আজ আমরা একটা মুক্ত আকাশ দেখতে পাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করতে চাই, আওয়ামী লীগ যতোই ষড়যন্ত্র করুক না কেন আর তারা দেশের ক্ষতি করতে পারবে না।

টুকু বলেন, আজ হাসিনার পতন হয়েছে, সে তার বাড়া ভাতও খেতে পারেনাই। যে মুরগির রান খেতে চেয়েছিল, জনগণ সেই মুরগির রান খেয়েছে। হাসিনার অহংকার এমন যায়গায় চলে গিয়েছিল যে তিনি ভাবতেন আল্লাহর পরেই সে। 

তিনি আরও বলেন, তারা খালেদা জিয়াকে টুপ করে নদীতে ফেলে দিতে চেয়েছিল। আজকে আপনি কোথায়। যাদেরকে দেশ দিয়ে দিয়েছিলেন আজ তাদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আজ যদি সাঈদ-মুগ্ধদের, অন্যান্য শহীদদের রক্তে রাজপথ লাল না হতো, পিচ্ছিল না হতো তাহলে আজ এইদিন দেখতে হতোনা। আজ ১২ বছর পরে খালেদা জিয়া সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানে গিয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী তাকে প্রধানমন্ত্রীর মতো সম্মান দিয়েছে স্যালুটের মাধ্যমে। 

তিনি বলেন, আমি ১৬ বছর আগে যে কর্মী দেখতাম এখন আরও নতুন নতুন কচি কচি মুখ দেখি। আমি ভেবেছিলাম আমাদের মনেহয় নতুন কর্মী নাই কিন্তু অসংখ্য নতুন মুখ আমাদের কর্মী। এরাই একসময় দেশের হাল ধরবে, আওয়ামী লীগকে শায়েস্তা করবে। আজ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করেনা জন্য তাকে পালিয়ে গিয়ে অন্যের ভাত খেতে হচ্ছে। আর আমাদের নেত্রী ঠিকই দেশে নি:শ্বাস নিচ্ছেন। 

টুকু বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে ওয়াদা করেছে আমরা জনগণকে নিয়ে ক্ষমতায় আসবো, তারা বলেছে এই দেশকে সংস্কার করতে হবে। আ.লীগ লুটপাট করে দেশটা শেষ করে দিয়েছে তাই সংস্কার করা খুব দরকার। এজন্য আমরা ৩১ দফা দিয়েছি, আর সেই ৩১ দফার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের তারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আপনারা শুনুন, একসময় জিয়াউর রহমান যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ঠিক তেমনই তারেক রহমানও দেশের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। একসময় তিনিই হবেন বাংলাদেশের পথ প্রদর্শক। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন, রসুলও একসময় অনুসারীদের বলেছিলেন তোমরা বেশি আনন্দিত হইয়ো না তারা আবারও হামলা করতে পারে। তাই আপনাদের বলছি সাবধান, আওয়ামী লীগ হলো সাপ। তাদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে, তাদের সাথে চলাফেরা চলবেনা। তাদের সব হারাম, তাই তদের হারাম কেও খাবেন না। 

রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. দুলাল হোসেন খান, তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল রহমান টুটুল ও সলঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম সরকারের পরিচালনায় ও রায়গঞ্জ  উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ খান হাসান, সলঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান সরকার, তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি স.ম আফসার আলী, রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি হাতেম আলী সুজন, তাড়াশ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তপন কুমার গোস্বামী। 

জনসভায় জেলা, উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবিতে পাকিস্তানের পতাকা পদদলিত করলো একদল শিক্ষার্থী, ভিডিও ভাইরাল

মহানগর প্রতিনিধি, ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে পাকিস্তানের পতাকা পদদলিত করলো একদল শিক্ষার্থী, ভিডিও ভাইরাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিনটি হলের প্রবেশপথে পাকিস্তানের প্রতীকী পতাকার ওপর হেঁটে প্রতিবাদ জানিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হল ও বিজয় একাত্তর হলে এবং গতকাল রোববার রাতে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এ প্রতিবাদ জানান তাঁরা। যার ছবি ও ভিডিও করে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা কিছু গণমাধ্যমের হাতে দেয়।

ভিডিওতে দেখা যায়- প্রতীকী ওই পতাকায় লেখা রয়েছে, ‘নো কম্প্রোমাইজ উইথ রাজাকার।’ এর আগে গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনের মাটিতেও পাকিস্তানের পতাকা লাগিয়ে সেটির ওপর পায়ে হাঁটতে দেখা যায়। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ দৃশ্য ভাইরাল হয়। যা নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। তবে পরে সেই পতাকা আর দেখা যায়নি।

জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশপথের মেঝেতে পতাকা লাগিয়ে তার ওপর হেঁটে যাওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে জানায়, ‘মহান বিজয় দিবসের এই মাসে আমাদের আজকের উদ্যোগ হলো সেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার এক প্রকাশ, যাঁদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছি। একই সঙ্গে আমরা ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাই সেই পাক-হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের প্রতি, যারা আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালিয়েছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।’

ওই শিক্ষার্থী আরও জানায়, ‘এই প্রতিবাদ, এই ক্ষোভ- সবই আমাদের ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানবতার প্রতি অঙ্গীকার থেকে উৎসারিত। আশা করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের এই উচ্চারণ স্বাধীনতার মূল্য স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার বার্তা দেবে।’

অবশ্য বিতর্কিত এমন কাজের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে কিছু শিক্ষার্থীরা। তারা বলেম, প্রতিটি দেশের প্রতাকা তাদের জন্য সম্মানের। তাছাড়া পাকিস্তান কখনোই আমাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়ায় নি। বরং আমাদেরকে নানাভাবে শোষণ করছে ভারত। আমাদের মতে পাকিস্তানের পতাকা এভাবে পদদলিত করে কথিত প্রতিবাদ জানানো নেহাতই বাড়াবাড়ি।

আমরা ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি: এনবিআর চেয়ারম্যান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
আমরা ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি: এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান মন্তব্য করেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ঋণের ফাঁদে পড়েছি; এ সত্য স্বীকার না করলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তাঁরা। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ ও ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫’ প্রকাশ ও উপস্থাপন উপলক্ষে এ সেমিনার আয়োজন করে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কয়েক বছর আগেও আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি ছিল, এখন তা ৭ শতাংশের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। সমস্যাটি কোথায়, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। কর-জিডিপি অনুপাত কমার একটি বড় কারণ হলো, জিডিপির সব খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এনবিআর দুই ভাগ হয়ে দুজন সচিবের নেতৃত্বে কাজ শুরু করবে বলে জানান আবদুর রহমান খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। ডিপোজিট গ্যারান্টি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ করা হয়েছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আমানতকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে।

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকসহ ৭৬ লাখ পরিবার আমানত ফেরত পাবেন বলে জনান গভর্নর। এ ছাড়া নতুন ব্যাংকটি প্রথম বা দ্বিতীয় বছরেই মুনাফার মুখ দেখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের ফাঁদে পড়া আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে না। তখন ঋণ নিয়ে আবার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে রাজস্ব বাজেটে ব্যয়ের প্রধান খাতের মধ্যে ছিল সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন। এরপর দ্বিতীয় স্থানে ছিল কৃষি ও শিক্ষা। কিন্তু কৃষি ও শিক্ষার মতো খাত পেছনে ফেলে এখন জায়গা এখন নিয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।

২০০ আসন পেলেও জাতীয় সরকার গঠন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:২১ অপরাহ্ণ
২০০ আসন পেলেও জাতীয় সরকার গঠন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০০ আসনে বিজয়ী হলেও তার দল দেশের স্বার্থে, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সরকার গঠন করবে।

আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ইইউর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, সব মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী ইশতেহার ও নির্বাচন পরবর্তী ১০০ দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি ইইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, জামায়াত নির্বাচিত হলে একটি ‘ইনক্লুসিভ’ বাংলাদেশ গড়বে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলকেই বাদ দেব না। আমরা দেশের স্বার্থে দারুণভাবে অনুভব করি যে, অন্তত আগামী পাঁচটা বছর দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন কায়েম করা এবং সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য আমাদের একটি জাতীয় সরকার প্রয়োজন। আমরা নির্বাচিত হলে সেই সরকারটাই গঠন করব।’

‘২০০ আসনেও আমরা বিজয়ী হয়ে যাই, তারপরেও আমরা এটি করব ইনশাআল্লাহ’, আরও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় সরকারে যারা অংশগ্রহণ করবেন, তাদের জন্য দুটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘নাম্বার ওয়ান- কেউ নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতিকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেবেন না। নাম্বার টু—সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। মিনিমাম এই দুইটা জিনিসের ব্যাপারে যারা একমত হবেন, তাদের নিয়ে আমরা সরকার গঠন করতে আগ্রহী।’

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট (রেফারেন্ডাম) একই দিনে অনুষ্ঠানের বিষয়ে ইইউর প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ ততটা এখনও সচেতন না। তাই একই দিনে দুটি নির্বাচন হলে দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং ভোটার উপস্থিতি (টার্নওভার) কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণে আমরা বলেছি, দুটি নির্বাচন আলাদা হওয়া উচিত।’

নির্বাচন পেছানো প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা ইলেকশন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে বলে মনে করি না। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হওয়া দরকার।’

পিআর বা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পিআর আমাদের দাবি। আমরা এটা জনগণের জন্য করেছি, দলের জন্য নয়। এমনকি আমরা যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাই, তখনও পিআর বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দেব। জেতার পর পিআর-এর দরকার নেই- অতীতের এই কালচার আমরা পাল্টে দিতে চাই।’

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মকে কখনও ব্যবহার করি নাই, করব না। ধর্ম আমাদের চিন্তার অঙ্গ, কলিজার অংশ। ধর্ম নিয়ে কাজ করি, ব্যবহার করি না; কারা করে সেটা আপনারা ভালো বোঝেন। যারা ইলেকশনের সময় টুপি পরেন, তসবিহ হাতে ঘোরেন- তারা হয়তো করেন। আমরা তসবিহ মুখে নিয়ে ঘুরি না, তসবিহ বুকে নিয়ে ঘুরি।’

ঢাবিতে পাকিস্তানের পতাকা পদদলিত করলো একদল শিক্ষার্থী, ভিডিও ভাইরাল আমরা ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি: এনবিআর চেয়ারম্যান ২০০ আসন পেলেও জাতীয় সরকার গঠন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে সুখবর দিলেন গভর্নর ১০ ডিসেম্বর রেকর্ড হবে সিইসির ভাষণ, সেদিনই হতে পারে তফসিল ঘোষণা