খুঁজুন

ট্রাইবুনালের রায়: হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ট্রাইবুনালের রায়: হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬টি মামলার রায়ে ৬১ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১১ জনই পলাতক, কারাগারে বন্দী আছেন ৪ জন।

এছাড়া যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৪৬ আসামিকে। এর মধ্যে ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১১ জনকে।

গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর প্রায় আড়াই মাস পর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে গত বছরের ৮ মে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে গত ১৮ মাসে জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতবিরোধী অপরাধকেন্দ্রিক ছয়টি রায় এসেছে। এর মধ্যে প্রথম রায় দেওয়া হয়েছিল গত বছরের ১৭ নভেম্বর। সর্বশেষ রায় এসেছে গত ৩০ জুন। ছয়টি রায় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ৬১ আসামির মধ্যে ৪০ জনই পলাতক, কারাগারে আছেন ২১ জন।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছু রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট, আবার কিছু রায়ে অসন্তুষ্ট। যেসব আসামির সাজা সন্তোষজনক ছিল না, সেসব ক্ষেত্রে আপিল করেছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে। একটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় আছে। আরও দু–তিনটি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। ২০১০ সালে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য।

তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সাভার এলাকার সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া এলাকার যুবলীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা রনি ভূঁইয়া। ৪ জনই পলাতক। অন্য ১১ জন পুলিশের সাবেক সদস্য।

৬ মামলার পাঁচটিতে মৃত্যুদণ্ড:

ছয়টি রায় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পাঁচটি মামলায় ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ ৪ জন। তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সাভার এলাকার সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া এলাকার যুবলীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা রনি ভূঁইয়া। ৪ জনই পলাতক। অন্য ১১ জন পুলিশের সাবেক সদস্য।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক ১১ সদস্যদের মধ্যে ৭ জন পলাতক এবং ৪ জন কারাগারে বন্দী আছেন।

★গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় প্রথম রায় আসে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর। ওই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। এই দুজনই পলাতক।

★দ্বিতীয় রায়টি আসে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন: পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক।

★গত ৫ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় রায় আসে ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে। সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগের ক্যাডার রনি ভূঁইয়া। এর মধ্যে আবদুল মালেক ও মুকুল চোকদার কারাগারে আছেন। অপর চার আসামি পলাতক।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক ১১ সদস্যদের মধ্যে ৭ জন পলাতক এবং ৪ জন কারাগারে বন্দী আছেন।

★গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল–২। গত ৯ এপ্রিল ঘোষিত এ রায়ে পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দুজনই কারাগারে আছেন।

★পঞ্চম রায় এসেছে ২৮ জুন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। তিন আসামিই পলাতক।

ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে এখন পর্যন্ত দুটি মামলার (চানখাঁরপুল ও রামপুরা) রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

★সর্বশেষ ৩০ জুন ঘোষণা করা ষষ্ঠ রায়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। তিন আসামিই পলাতক।

১১ আসামির যাবজ্জীবন:

তিনটি মামলার রায়ে ১১ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পুলিশের সাবেক সদস্য। সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিদের মধ্যে আটজন পলাতক। অন্য তিনজন কারাগারে আছেন।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন সাত আসামি। তাঁরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া এই আসামিদের মধ্যে আবদুল্লাহিল, শহিদুল ও আরাফাত কারাগারে আছেন। অন্য চারজন পলাতক।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক এসআই বিভূতিভূষণ রায়। তিনজনই পলাতক।

রামপুরার মামলায় সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।

শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ ১২ জনের দণ্ড:

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অন্য আসামিদের পাশাপাশি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক এমএলএসএস (অফিস সহায়ক) মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়া ও সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলা নিষ্পত্তির সঙ্গে আসামির রাজনৈতিক বা পেশাগত পরিচয়ের সম্পর্ক নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের সাজা হয়েছে।

পুলিশের সাবেক সদস্যরা বেশি দণ্ডিত:

৬টি মামলার রায় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দণ্ড পেয়েছেন পুলিশের সাবেক সদস্যরা। পুলিশের মোট ৩৪ জন সাবেক সদস্য দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। অন্যরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন কারাগারে এবং ১৯ জন পলাতক।

৬ মামলার মধ্যে পৃথক দুটি মামলায় অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হয়েছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন ও আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক। দুজনের মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর শেখ আবজালুলকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলা নিষ্পত্তির সঙ্গে আসামির রাজনৈতিক বা পেশাগত পরিচয়ের সম্পর্ক নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের সাজা হয়েছে।

আদালত অবমাননার দায়ে ২ রায়:

আদালত অবমাননার দায়ে দুটি মামলায় রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আদালত অবমাননার দায়ে গত বছরের ২ জুলাই শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। এ মামলার অপর আসামি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ছাত্রলীগের নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুল ওরফে মো. শাকিল আলমকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত অবমাননার আরেক মামলায় ১২ এপ্রিল এম এইচ পাটোয়ারী নামের যুবলীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এক নেতাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১।

শেখ হাসিনার মতো যেসব ফাঁসির আসামি পলাতক, তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে রায় কার্যকর করতে হবে।
জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভীর বাবা আবুল হাসান।

বিচারাধীন ১৯ মামলা:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুটিতে বিচারাধীন রয়েছে আরও ১৯টি মামলা। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল–১–এ বিচারাধীন ১৫টি এবং ট্রাইব্যুনাল–২–এ আছে ৪টি মামলা।

এসব মামলায় আসামি প্রায় ২০০। আসামিদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা ও পুলিশের সাবেক সদস্যরা রয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল ছুটিতে আছেন। ছুটি শেষে (জুলাইয়ের শেষে বা আগস্ট মাসে) আরও তিন–চারটি মামলার রায় হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম প্রসঙ্গে জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভীর বাবা আবুল হাসান একটি গণমাধ্যমে বলেন, শেখ হাসিনার মতো যেসব ফাঁসির আসামি পলাতক, তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে রায় কার্যকর করতে হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু