খুঁজুন
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩

ট্রাইবুনালের রায়: হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ট্রাইবুনালের রায়: হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬টি মামলার রায়ে ৬১ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১১ জনই পলাতক, কারাগারে বন্দী আছেন ৪ জন।

এছাড়া যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৪৬ আসামিকে। এর মধ্যে ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১১ জনকে।

গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর প্রায় আড়াই মাস পর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে গত বছরের ৮ মে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে গত ১৮ মাসে জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতবিরোধী অপরাধকেন্দ্রিক ছয়টি রায় এসেছে। এর মধ্যে প্রথম রায় দেওয়া হয়েছিল গত বছরের ১৭ নভেম্বর। সর্বশেষ রায় এসেছে গত ৩০ জুন। ছয়টি রায় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ৬১ আসামির মধ্যে ৪০ জনই পলাতক, কারাগারে আছেন ২১ জন।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছু রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট, আবার কিছু রায়ে অসন্তুষ্ট। যেসব আসামির সাজা সন্তোষজনক ছিল না, সেসব ক্ষেত্রে আপিল করেছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে। একটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় আছে। আরও দু–তিনটি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। ২০১০ সালে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য।

তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সাভার এলাকার সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া এলাকার যুবলীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা রনি ভূঁইয়া। ৪ জনই পলাতক। অন্য ১১ জন পুলিশের সাবেক সদস্য।

৬ মামলার পাঁচটিতে মৃত্যুদণ্ড:

ছয়টি রায় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পাঁচটি মামলায় ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ ৪ জন। তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সাভার এলাকার সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া এলাকার যুবলীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা রনি ভূঁইয়া। ৪ জনই পলাতক। অন্য ১১ জন পুলিশের সাবেক সদস্য।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক ১১ সদস্যদের মধ্যে ৭ জন পলাতক এবং ৪ জন কারাগারে বন্দী আছেন।

★গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় প্রথম রায় আসে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর। ওই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। এই দুজনই পলাতক।

★দ্বিতীয় রায়টি আসে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন: পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক।

★গত ৫ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় রায় আসে ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে। সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগের ক্যাডার রনি ভূঁইয়া। এর মধ্যে আবদুল মালেক ও মুকুল চোকদার কারাগারে আছেন। অপর চার আসামি পলাতক।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক ১১ সদস্যদের মধ্যে ৭ জন পলাতক এবং ৪ জন কারাগারে বন্দী আছেন।

★গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল–২। গত ৯ এপ্রিল ঘোষিত এ রায়ে পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দুজনই কারাগারে আছেন।

★পঞ্চম রায় এসেছে ২৮ জুন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। তিন আসামিই পলাতক।

ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে এখন পর্যন্ত দুটি মামলার (চানখাঁরপুল ও রামপুরা) রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

★সর্বশেষ ৩০ জুন ঘোষণা করা ষষ্ঠ রায়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। তিন আসামিই পলাতক।

১১ আসামির যাবজ্জীবন:

তিনটি মামলার রায়ে ১১ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পুলিশের সাবেক সদস্য। সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিদের মধ্যে আটজন পলাতক। অন্য তিনজন কারাগারে আছেন।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন সাত আসামি। তাঁরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া এই আসামিদের মধ্যে আবদুল্লাহিল, শহিদুল ও আরাফাত কারাগারে আছেন। অন্য চারজন পলাতক।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক এসআই বিভূতিভূষণ রায়। তিনজনই পলাতক।

রামপুরার মামলায় সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।

শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ ১২ জনের দণ্ড:

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অন্য আসামিদের পাশাপাশি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক এমএলএসএস (অফিস সহায়ক) মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়া ও সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলা নিষ্পত্তির সঙ্গে আসামির রাজনৈতিক বা পেশাগত পরিচয়ের সম্পর্ক নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের সাজা হয়েছে।

পুলিশের সাবেক সদস্যরা বেশি দণ্ডিত:

৬টি মামলার রায় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দণ্ড পেয়েছেন পুলিশের সাবেক সদস্যরা। পুলিশের মোট ৩৪ জন সাবেক সদস্য দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। অন্যরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন কারাগারে এবং ১৯ জন পলাতক।

৬ মামলার মধ্যে পৃথক দুটি মামলায় অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হয়েছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন ও আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক। দুজনের মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর শেখ আবজালুলকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলা নিষ্পত্তির সঙ্গে আসামির রাজনৈতিক বা পেশাগত পরিচয়ের সম্পর্ক নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের সাজা হয়েছে।

আদালত অবমাননার দায়ে ২ রায়:

আদালত অবমাননার দায়ে দুটি মামলায় রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আদালত অবমাননার দায়ে গত বছরের ২ জুলাই শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১। এ মামলার অপর আসামি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ছাত্রলীগের নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুল ওরফে মো. শাকিল আলমকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত অবমাননার আরেক মামলায় ১২ এপ্রিল এম এইচ পাটোয়ারী নামের যুবলীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এক নেতাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১।

শেখ হাসিনার মতো যেসব ফাঁসির আসামি পলাতক, তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে রায় কার্যকর করতে হবে।
জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভীর বাবা আবুল হাসান।

বিচারাধীন ১৯ মামলা:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুটিতে বিচারাধীন রয়েছে আরও ১৯টি মামলা। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল–১–এ বিচারাধীন ১৫টি এবং ট্রাইব্যুনাল–২–এ আছে ৪টি মামলা।

এসব মামলায় আসামি প্রায় ২০০। আসামিদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা ও পুলিশের সাবেক সদস্যরা রয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল ছুটিতে আছেন। ছুটি শেষে (জুলাইয়ের শেষে বা আগস্ট মাসে) আরও তিন–চারটি মামলার রায় হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম প্রসঙ্গে জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভীর বাবা আবুল হাসান একটি গণমাধ্যমে বলেন, শেখ হাসিনার মতো যেসব ফাঁসির আসামি পলাতক, তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে রায় কার্যকর করতে হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশুদের প্রতিভা ও মননশীলতার বিকাশে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে এসব প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে ১২ হাজার ৩৮৪ জন এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সম্মাননা লাভ করে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, উমর মজিদ ইউপি’র ডাংহাট থেকে ফুলখা এলাকার ওই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। সম্প্রতি এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় রাস্তাটি পুনরায় চালু করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলের দিকে রাস্তাটি নিয়ে পুনরায় বিরোধ ও কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ডাংঘাট গ্রামের জয়নাল গংয়ের নেতৃত্বে জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের শাবলের আঘাতে একই গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত (৪৫) প্রাণ হারান। এঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত ৮টা পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ১১জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এখনও ঘটনাস্থলেই আছি এবং বিষয়টির তদন্ত চলছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র মামলা রেকর্ড করা হবে।

এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। শিলং থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আসতে পেরেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী সব জায়গায় গিয়ে বলেন- নকল আর চলবে না। ২০২৬ এর শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে- এই স্ট্যান্টবাজি আর বাংলাদেশে চলবে না। হাঁটুসমান পানিতে, বুকসমান পানিতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ডুবিয়ে ডুবিয়ে আপনি পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। একটা পরীক্ষার প্রশ্ন আপনি প্রণয়ন করেছেন, তার মধ্যে আপনি ভুল রেখে দিয়েছেন। একজন পরীক্ষার্থীর তখন মানসিক অবস্থা কী ধরনের হয়, একবার চিন্তা করেন। আপনারা একবার দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজনও বোধ করলেন না, বরং এই শিক্ষার্থীদের আপনারা বলছেন মাদকাসক্ত।’

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছিল বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমে এসেছে বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগি রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে লন্ডন থেকে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন। শিক্ষামন্ত্রীকে বলবো, শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কারণ আপনাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করে না, তাদের বিদেশে রেখে পড়াশোনা করান।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি নাকি কোনো সংবিধানে লেখা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে বলি, যদি এটি না থেকে থাকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনও কোনো সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে।’

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা এখনো পর্যাপ্তভাবে পৌঁছেনি।

সোনারগাঁয়ের স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া গ্যাস সংযোগ, ভূমি দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পথসভায় উপজেলা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১ এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ সায়েন্সল্যাব ছেড়ে শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, পথে পুলিশি বাধা ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আনছে সরকার: সড়কমন্ত্রী