জুলাই শহীদ ও গাজীগন আমাদের প্রেরণা বাতিঘর: আ.ন.ম শামছুল ইসলাম
জুলাই শহীদদের ত্যাগ ও কুরবানীর মর্যাদা রক্ষায় এবং তাদের অসাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করতে দেশে ন্যায়-ইনসাফ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় শহীদের ত্যাগকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে সকলকে যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনর সভাপতি জনাব মাওলানা আ.ন.ম শামছুুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় একটি মিলনাতনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব আমাদের দেশ ও জাতিকে নতুন করে জীবনী শক্তি দিয়েছে। এ বিপ্লবের প্রেক্ষাপট একদিনে তৈরি হয়নি বরং দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের অপশাসন-দুঃশাসনে আওয়ামী ফ্যাসীবাদীদের প্রতি জনগণ বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছিল। ফলে স্বৈরাচারের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠার কারণে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলো। এ আন্দোলনে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ, ছাত্র-জনতা সহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশ গ্রহণ ছিলো। স্বৈরাচার ও ফ্যাসীবাদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ ও জসীমেরা বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিলেন। ফলে আমরা এক চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে দেশ ও জাতিকে অপশাসন-দুঃশাসন মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। তিনি জুলাই বিপ্লবে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবার ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, বিগত প্রায় ১৬ বছরের শাসন ছিলো আওয়ামী জাহেলিয়াত। তাদের শাসনামলে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিলো। কবর রচনা করা হয়েছিলো গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের। জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে এক মাফিয়াতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিলো। হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যাকে রাষ্ট্রাচারের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করা হয়েছিলো। এমনকি বিচারের নামে প্রহসন করে জাতীয় নেতাদের হত্যা করে দেশের পবিত্র জমীনকে রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত করা হয়েছিলো। জুলাই আন্দোলন দমাতে অগণিত মানুষকে শহীদ করা হয়েছিলো। স্বৈরাচারে প্রতিহিংসায় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা আহত হয়েছিলেন। অনেকে হাত, পা, চোখ হারিয়ে আজ বিকলাঙ্গ। আর তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি নতুন এক বাংলাদেশ। তাই জাতির এসব বীর সন্তানদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি জুলাই বিপ্লবী জাতীয় মর্যাদায় অভিষিক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সামছুল ইসলাম বলেন, যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি তাদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আহতরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার জুলাই বিপ্লবে আহতদের জন্য দেশে কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করা হয়নি, যেখানে শুধু বিপ্লবে আহত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। সে হাসপাতাল হওয়া উচিত দেশের সবচেয়ে সর্বাধুনিক ও সর্ববৃহৎ। যেখানে আধুনিক চিকিৎসার সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত থাকবে। তিনি এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে কলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সক্ষমতার ঘাটতি থাকলে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। মূলত, জুলাই বিপ্লবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই তাদের যথাযথ মূল্যয়ন করতে হবে। যাতে আগামী প্রজন্ম দেশ ও জাতির জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রেরণা পান।
কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি জনাব মহিবুল্লাহ এর সভাপতিত্বে এবং মহানগর উত্তরের সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব আব্দুল মান্নান পান্নার উপস্থাপনায় আরো উপস্থিত ছিলেন- মহানগরীর সহ সভাপতি জনাব মো মিজানুল হক, গাজী মাহবুর আলম বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




আপনার মতামত লিখুন