খুঁজুন

বিবিসির প্রতিবেদন অনৈতিক সাংবাদিকতার নির্লজ্জ উদাহরণ: জয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫, ১:১৮ অপরাহ্ণ
বিবিসির প্রতিবেদন অনৈতিক সাংবাদিকতার নির্লজ্জ উদাহরণ: জয়

বিবিসির সম্প্রতি প্রকাশিত ‘Custom Investigation’ প্রতিবেদনকে “অনৈতিক সাংবাদিকতার একটি নির্লজ্জ উদাহরণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বুধবার (৯ জুলাই) রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বিবিসি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিকৃতি করেছে এবং সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা অনুসরণ করেনি।

জয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনটিতে অভিযুক্তদের থেকে কোনও বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি, এমনকি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হয়েছে- এমন ইঙ্গিতও মেলেনি। পুরো প্রতিবেদনটি কয়েক সেকেন্ডের খণ্ডিত অডিও, কথিত একটি ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সরকার-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে। অথচ এটিকে “বিস্তৃত তদন্ত” হিসেবে উপস্থাপন করেছে বিবিসি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হন। কিন্তু বিবিসি এখানে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করেছে। সজীব ওয়াজেদের দাবি, সেদিন পুলিশ চরম সংকটে পড়েছিল, চারদিক থেকে ঘেরাও হয়ে পড়া, প্রাণনাশের আশঙ্কা, এবং সেনাবাহিনীর আকস্মিক পিছু হটার ফলে তারা একরকম বাধ্য হয়েই গুলি চালায়। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্যকে গুরুত্বহীন করে দেখানো হয়েছে।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলা দুই পুলিশ সদস্য স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তারা চারদিক থেকে ঘেরাও হয়ে পড়েছিলেন এবং আসন্ন মৃত্যুর মুখোমুখি ছিলেন। নিজেদের জীবন বাঁচাতে গুলি চালানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। এমন চরম পরিস্থিতিতে কেউ আদেশ জারি করার অবস্থায় ছিলেন না। বাস্তবে, ওই মুহূর্তে দেশে কার্যত কোনও কার্যকর সরকারও ছিল না।

বিবিসি সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে সেনাবাহিনীর হঠাৎ সরে যাওয়ার ঘটনা অমীমাংসিতই থেকে গেছে। তবুও, বিবিসি খুব দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে যে পুলিশ “নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে”- যা প্রমাণের জন্য তারা বিক্ষোভকারীদের বাছাই করা বক্তব্য এবং কিছু মোবাইল ও ড্রোন ফুটেজের ওপর নির্ভর করেছে।

বাহ্যিকভাবে নিরপেক্ষ দেখালেও, বিবিসির তথাকথিত “তদন্ত” কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুরোপুরি গোপন করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে “গুলি চালানো শুরু হয় দুপুর ২:৪৩ মিনিটে”, যা স্পষ্ট করে ইঙ্গিত দেয় – শেখ হাসিনার গণভবন ত্যাগ করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

ওই সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে বর্বর হামলা শুরু হয়। অসহায় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবন রক্ষায় লড়াই করছিলেন। যাত্রাবাড়ীতেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। এমনকি ওই দিনের আগেও পুলিশ সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়েছিল। অথচ বিবিসি এসব তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীদের “নির্দোষ” হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

হাজার হাজার হিংস্র বিক্ষোভকারী যাত্রাবাড়ী থানায় হামলা চালায়। সেনাবাহিনী সেখানে প্রাথমিকভাবে উপস্থিত থাকলেও, রহস্যজনক কারণে তারা হঠাৎ পিছু হটে। বিক্ষোভকারীরা তখন থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর অগ্নিসংযোগ করে। এসব ভয়াবহ ঘটনার বহু ভিডিও ক্লিপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, তবুও বিবিসি শুধুমাত্র কিছু মোবাইল ও ড্রোন ভিডিও ব্যবহার করেছে।

বিবিসি উল্লেখ করেছে কে মোবাইল ভিডিও করেছে, কিন্তু ড্রোনটি কে পরিচালনা করেছিল বা কেন তারা আগেভাগেই কৌশলগতভাবে অবস্থান নিয়েছিল – এই প্রশ্নগুলোর কোনও উত্তর মেলেনি। বিবিসি এড়িয়ে গেছে নিহতদের ময়নাতদন্ত না হওয়ার প্রসঙ্গেও।

বিবিসি এইরকম হতাশাজনক পরিস্থিতিতে গুলি চালানো ছাড়া পুলিশের কাছে কোনও কার্যকর বিকল্প ছিল কিনা তা উল্লেখ করেনি। প্রতিবেদনে “পুলিশের গুলিতে” নিহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা দাবি করা হয়েছে, কিন্তু ১১ মাস ধরে তদন্তের পরও বিবিসি ঠিক কতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। অস্পষ্টভাবে বলেছে, “কমপক্ষে ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।” যদিও পুলিশ সদস্য নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা সহজ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এছাড়া, ঘটনার পর ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে যে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছিল, সেটিও বিবিসির রিপোর্টে উল্লিখিত হয়নি।

প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশে শেখ হাসিনার একটি কথিত ফোনালাপের অডিও ক্লিপ দেখানো হয়েছে। এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এবং এতে প্রেক্ষাপটের সম্পূর্ণ অভাব রয়েছে – তিনি কেন, কাকে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই কথাগুলো বলেছেন, সেটি বলা হয়নি। এমনকি তিনি আদৌ বলেছিলেন কি না, তাও যাচাই করা হয়নি।

সাংবাদিকতায় প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা মৌলিক নিয়ম, কিন্তু বিবিসি তা উপেক্ষা করেছে। আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যম হিসেবে বিবিসি চাইলে বিদেশে অবস্থানরত আগের সরকারের ঊর্ধ্বতন কারও বক্তব্য নিতে পারত, কিন্তু তারা কেবল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্যকেই প্রচারযোগ্য বলে মনে করেছে।

প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভাষণের কিছু দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অথচ সহিংস হামলার প্রকৃত প্রেক্ষাপট এড়িয়ে গিয়ে সেগুলোকে পুলিশের “বর্বরতার” অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই ধরণের পক্ষপাত ইতিপূর্বে একটি তথাকথিত জাতিসংঘের তদন্তকারী দল গ্রহণ করেছিল। সরকার প্রদত্ত তথ্যের উপর নির্ভর করে তারা বলেছিল “সম্ভবত ১,৪০০ জন নিহত হয়েছে”, যদিও বর্তমান সরকার তার তালিকায় অনেক কম সংখ্যা দেখিয়েছে।

বিবিসিও এবার একই পন্থা নিয়েছে – তথাকথিত “তদন্ত” করে কেবল সরকার-সরবরাহকৃত বর্ণনা প্রচার করে সরকারি প্রচারণাকে জোরদার করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার কথিত ফোনালাপের তারিখ – ১৮ জুলাই – উল্লেখ করা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সূত্র থেকে নেওয়া। তাদের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ১৮ জুলাই গণভবন থেকে ফোনটি করেছিলেন।

ধরেও নেওয়া যায় বিবিসির দাবি সত্যি – তাহলে সত্যতা যাচাইয়ের দায় কি কেবল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে গলার মিল খুঁজে পাওয়া? ফরেনসিক পরীক্ষাটিও নিজে না করে আউটসোর্স করেছে অন্য একটি সংস্থাকে দিয়ে।

যদি ১৮ জুলাইয়ের বাস্তব পরিস্থিতি বিবিসি খতিয়ে দেখত, তাহলে তারা পেত- ১৭ জুলাই: চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৫ জন সদস্য নির্মমভাবে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। ১৬ জুলাই থেকে: পুলিশ স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক আক্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে হামলা। ১৮ জুলাই: ঢাকার রামপুরায় একটি টিভি চ্যানেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়, পুলিশ আটকে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস বাধা পায়, তাদের গাড়ি ভাঙচুর হয়। একই ভাবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অবরুদ্ধ হয়, পরে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করতে হয়। ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, পাবলিক বাস এবং পুলিশ বাক্স ভাঙচুর করা হয়। মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে আগুন, অগ্নিনির্বাপকদের গাড়ি এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা য় এবং কর্মকর্তারা আহত হন।

এই সহিংসতাগুলোর কথা বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছে। অথচ তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নিজেই সম্প্রতি বলেছেন, ১৮ জুলাই ছিল এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত এক অভিযানের চূড়ান্ত দিন।

লন্ডনে যদি বিবিসির নিজস্ব সদর দপ্তর অবরুদ্ধ হতো, পুলিশ সেখানে আটকে পড়তো, তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়তো- তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আত্মরক্ষার নির্দেশ দিতেন না? তখন কি বিবিসির তদন্ত দল এমনই এক পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করতো?

প্রসঙ্গত, বিবিসিতে বুধবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হন এবং এই ঘটনায় শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু