খুঁজুন

স্বজনদের অভিযোগ

সোহাগ হত্যা মামলার এজাহার নিয়ে পুলিশ ‘কারসাজি’ করছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
সোহাগ হত্যা মামলার এজাহার নিয়ে পুলিশ ‘কারসাজি’ করছে

সম্প্রতি বহুল আলোচিত ঢাকার মিডফোর্ড এলাকায় পাথর ছুঁড়ে পৈচাশিকভাবে ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জড়িতদের নাম পুলিশের বিরুদ্ধে সুকৌশলে বাদ দেয়ার অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। যা নিয়ে পুলিশ সম্পর্কে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

নিহত সোহাগের স্বজনদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের আগে এজাহারের জন্য লেখা একটি অভিযোগপত্র পুলিশ তাদের পড়ে দেখার সুযোগ করে দিলেও পরবর্তীতে এজাহারের জন্য যে অভিযোগপত্রে পুলিশ বাদীর স্বাক্ষর নিয়েছে, তাতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৩ জন আসামির নাম বাদ দেয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এমন ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের দাবি, এজাহার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বাদী মামলার জন্য যে অভিযোগ দিয়েছেন, সেটিই পুলিশ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেছে।

নিহত সোহাগের স্বজনরা মামলার এজাহারের জন্য লেখা দুটি অভিযোগপত্রের কপি গণমাধ্যমে দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি কপিতে ১৭ নম্বর আসামির হিসেবে আঃ লতিফ মোল্লার ছেলে কাইউম মোল্লা (৪৫), ১৮ নম্বর আসামি হিসেবে হাবিবুর রহমান হবির ছেল রাকেশ (৩৫) এবং ১৯ নম্বর আসামি হিসেবে রহিম (৩৬) এর নাম উল্লেখ করা আছে। কিন্তু পুলিশ এজাহার হিসেবে যে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছে, তাতে এই তিনজনের নাম নেই। এছাড়া মামলার এজাহারের ১৯ নম্বর আসামি জাফর আলী হাওলাদারের ছেলে আনিচুর রহমান হাওলাদারের (৪০) নাম উল্লেখ আছে। কিন্তু আনিচুর রহমান হাওলাদারের নাম মামলা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আগে নিহতের স্বজনদের পড়ে দেখার জন্য যে অভিযোগপত্রটি দেয়া হয়েছিল, তাতে উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে নিহত সোহাগের ভাগ্নি বিথি বলেন, ‘বুধবার যখন এ ঘটনা ঘটে আমরা তা সন্ধ্যায় শুনতে পাই। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রওনা দিয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে কোতোয়ালি থানায় পৌঁছাই। ওই সময় পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা নেয়া হয়নি। পরে আমার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা যখন লেখে ওনারা (পুলিশ) ঠিকঠাক মতোই লেখেন। ১৭, ১৮, ১৯ – এই তিন আসামি ঠিক ছিল। ওইখানের ওসি মনিরুজ্জামান মনির আমাকে মামলার কপিটি পড়তে বলেন। আমাকে একটি কলম দিয়ে তিনি বলেন, যখন যেখানে গ্যাপ, যেটা লাগবে, তোমার যেটা মনে হয়েছে তথ্য লাগবে – তুমি নিজে থেকে সেটা লিখবে, তারপর আমরা সেটা সংশোধন করব।’

বিথি বলেন, ‘আমি তখন চালাকি করে ওই কপিটির ছবি ফোনে তুলে রাখি। এরপর আমি ওই কপিটি পড়ি। এরপর আমি প্রশ্ন করি- যখন আমার মামাকে মারা হয়েছে, তখনতো অস্ত্র ছিল প্রত্যেকের হাতে এবং অস্ত্র দিয়েও আমার মামাকে আঘাত করা হয়ে, সেটা কেন লিখলেন না আপনারা? তখন ওসি বলেন, এটা আমরা সংশোধন করবো। কিন্তু ওনারা আগেই এটা সংশোধন করে রাখছিল ওনাদের নিজেদের মতো। আমার মা প্রথম যে কপিটা ছিল, ওইটায় তার সিগনেচার দিতে হতো, যেহেতু বাদী সে। কিন্তু সিগনেচার ওইটায় না নিয়ে তারা নিজেদের মতো যে সাজানো হয়েছে, তিনটা আসামি ১৭, ১৮, ১৯ নম্বর আসামি, প্রথম যে কপিটা ছিল ওইটা ঠিকঠাক ছিল। দ্বিতীয়বার যেটা রেডি করা হয়েছে, তিনটা আসামির নাম কেটে দেয়া হয়েছে। এবং অন্য যারা এটার সাথে সম্পৃক্তই না, তাদের নাম জড়ানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওইখানে আমার মা না বুঝে সিগনেচারটা করে। এবং যারা মূল হোতা, মূল আসামি- যারা এ ঘটনার সম্পৃক্ত আছে সরাসরি, তাদের না দিয়ে যারা জানেই না কিছু, তাদের দেয়া হয়েছে। এবং মামলাটিকে অনেক হালকা করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এবং মামলা নিতে চাচ্ছিল না। আমার মা বাদী, উনি ঢাকা চলে গেছেন এই মামলার কারণে। অনেক ঝামেলা করতেছে ওনারা (পুলিশ)। যে ফিফটি ফোর না কি মামলা হয়ে যাবে, আসামি ছাড়া পেয়ে যাবে। চালান করে দেবে- এই বিভিন্ন রকম কথা শুরু করছে। বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে টাইপিং করা হয়েছে। পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে সাড়ে এগারোটার সময় কপিটা আমাকে দেয়া হয়। আমি সাড়ে এগারোটার সময় আমার ফোনে ওটা ক্যাপচার করি।’

বিথি বলেন, ‘ক্যাপচার করার পরে তারা এক ঘণ্টা টাইম নেয়। ওনারা আমাদের সবাইকে বের করে দিছে, আমার মা’কে একলা রাখছে তাদের রুমে, ওসি সাহেব যে মনিরুজ্জামান মনির ওনার রুমে। ওনার রুমে আরেকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিল। ওনারা আমার মাকে কি বলছে জানি না। আমার মা তো ভাবছে, প্রথম মতো আমি ওইটা চেক করছি, আমার ওপর ভরসা তার, আমিও তো ঠিকঠাক মতো চেক করছি, কিন্তু ওনারা কিছুই সংশোধন করেনি, তারা নিজেদের মতো বক্তব্য দিয়ে আমার মায়ের হাত থেকে সিগনেচার রাখছে।’

এ বিষয়ে নিহত সোহাগের বোন ও হত্যা মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘ভাই মারা যাওয়ার কারণে আমার হিতাহিত জ্ঞান ছিল না। আমি কপিটি আমার মেয়েকে দেখিয়েছি। আমি যখন সই করেছি, তখন মনে করেছি, আসামির নাম আছে। কিন্তু পরে দেখা গেল যে, না- আসামির নাম নাই। এখানে একটা পলিটিক্স করা হয়েছে। ওখানে যারা প্রকৃত দোষী, তিনজনই বাদ পড়েছে। যারা মেইন হোতা, ওরাই বাদ পড়ছে। আমার মেয়ে যে কাগজটা দেখেছে, ওটায় স্বাক্ষর নেয়নি। নিয়েছে অন্য আরেকটি কাগজে স্বাক্ষর। আমি তো এটা বুঝতে পারিনি। এটা নিয়ে এরকম ছয়-চারি হবে, তা বুঝতে পারিনি, এজন্য সই করে দিছি। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা ফোনে কথা বলেছি। এরপর ঢাকা গিয়ে আমি আবার সরাসরি কথা বলে এসেছি। এটা ঠিক করে দেবে, আমাকে আশ্বাস দিয়েছে তারা (পুলিশ)। এখানে নির্দোষী লোক আছে, আর দোষী যারা তাদের নাম নাই। মামলার এজাহার লিখেছে তারা (পুলিশ)।’

এ বিষয়ে ঢাকার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এজাহারতো তারা দিয়েছে, এজাহার কি আমরা করছি? এজাহার চেঞ্জ করার কোন সুযোগই নেই। তারা যেটা এজাহার দিয়েছে, আমরা সেটাই মামলা রেকর্ড করেছি। তারা কি অশিক্ষিত? তারা কি মূর্খ? কিছুই নয়। আন্দাজে একটা কথা বলে। তারা শিক্ষিত, তারা ১০ জন, ২০ জন আসে একসাথে দেখতে। এখন এটা বললে হবে? এমনতো নয় যে, তারা অশিক্ষিত মানুষ, পড়েনি, দেখেনি। তারা পড়ছে, দেখছে, সব জেনেশুনে তাদের বক্তব্য মতো সেটা এজাহার করছে। এখানে আমাদের কিছু বলার নাই। আর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দেখে সমস্ত আসামি শনাক্ত করছি, ধরার চেষ্টা করছি।’

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়- চাঁদাবাজি নয়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে সোহাগ হত্যার তথ্য মিলেছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার জসীম উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজির কোনো বিষয় আমাদের জানা নাই। আমরা শুধু জেনেছি, এটা পারস্পরিক একটা দ্বন্দ্বের বিষয়। এই ব্যবসাটা (ভাঙারির ব্যবসা) তারা কিছুদিন একসঙ্গে করেছে। কিন্তু এক পর্যায়ে ব্যবসার লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতিতে এই হত্যাকান্ডটি ঘটেছে।

এর আগে সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এলিট ফোর্সটির মহাপরিচালক এ. কে. এম শহিদুর রহমান জানান, সোহাগ হত্যার ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব। এছাড়া মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।।

এদিকে সোহাগ হত্যায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, এটা খুবই দুঃখজন একটা ঘটনা। এটার জন্য আমরা অলরেডি পাঁচজনকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। আমাদের ডিবির টিম বাকিদের ধরার জন্য কাজ করছে।

তবে নতুন করে পুলিশের এমন বিতর্কিত অভিযোগ জুড়ে মামলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ মোড় নিতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়- পুলিশ কি আসলেই পরিবর্তন হওয়ার চেষ্টা করছে। নাকি খোলস পাল্টিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছে।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু