পরকীয়া, একাধিক পাসপোর্ট-বিয়ে, মাদক সেবন
অবশেষে এএসআই আমির খসরুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও ভুক্তভুগীর আদালতে মামলা দায়ের করার পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই মোঃ আমির খসরুর বিরুদ্ধে। তবে এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযুক্ত এএসআই আমির খসরু তালুকদার। যার ফলে আতঙ্কে দিনপার করছেন ভুক্তভোগীরা।
মূলত বিয়ের আশ্বাসে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মেয়ের সাথে প্রতারণা, অবৈধ সম্পর্ক, পিস্তল ঠেকিয়ে বা জোরপূর্বক ধর্ষণ, মেবাইলে ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল, জোরপূর্বক গর্ভপাত, কৌশলে নগদ টাকা, স্বর্নালঙ্কার লুট, মাদক সেবন ও বিক্রি, পুলিশের পোশাকে নিরীহ মানুষদের জিম্মি করে টাকা লুট, গুম-খুন সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করেন আমির খসরুর দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা।
ভুক্তভোগী মর্জিনার লিখিত ও মৌখিক স্বাক্ষাতকারের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এএসআই আমির খসরুর সাথে কথা বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয় বাংলা খবর প্রতিদিন সহ বিভিন্ন পত্রিকায়। এরপরও এএসআই আমির খসরু তালুকদারের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নিলে মর্জিনা পুনরায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট সকল প্রমাণ সহ অভিযোগ করেন। যেখানে বলা হয়, আমির খসরু উল্লেখিত নানা অপরাধ সহ তার দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এরপরই অভিযোগটি আমলে নেন বিজ্ঞ আদালত।
গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাননীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট জারী করেন। যার মামলা নাম্বার সি.আর. ২৯৪/২০২৫ (ডেমরা)।
অভিযুক্ত মোঃ আমির খসরু তালুকদার পেশায় পুলিশের এএসআই। তিনি বর্তমানে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় কর্মরত আছেন (বিপি নং- ৮০০০০৯৫৯৮৮)। দুঃখজনক হলেও সত্য- গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির ৩ দিন অতিবাহিত হলেও আমির খসরুকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী মর্জিনা ও তার পরিবার। সেইসাথে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকেও অসন্তোষ জানিয়েছে। সকলের দাবি, অভিযুক্ত এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদারকে অতিসত্বর গ্রেফতার করা হোক।
অভিযুক্ত এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদার সুনামগঞ্জ জেলার, দোয়ারা বাজার উপজেলার, সুঁড়িগাও গ্রামের মোঃ মনাজির গনি তালুকদারের ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা- ২৬৩/৭ নিউ টাউন, সাইনবোর্ড, ডেমরা-ঢাকা। চাকরির সুবাদে আমির খসরু বর্তমান শাহজাহানপুর থানায় কর্মরত আছেন।
অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী নারী মোছা: মর্জিনা। ভুক্তভোগী মর্জিনা তার বাবা মোঃ বতু মিয়া ও মা মোছাঃ সালমার সাথে রাজধানীর ডেমরা, ৬৪ নং ওয়ার্ড, নূরানী মসজিদ রোডের ১২৮ নং বাসায় থাকছেন। তাছাড়া জন্মসূত্রে তারা পরিবার নিয়ে রাজধানীতেই থাকেন।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ, মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টিগোচর, পুলিশের কার্যক্রম, অভিযুক্ত এএসআই আমির খসরুর বহাল তবিয়তে থাকা সহ সমীকরণ মেলানোর অপেক্ষায় বিভিন্ন গণমাধ্যম। এখন দেখার অপেক্ষা যে, অভিযুক্ত আমির খসরুকে কবে নাগাদ গ্রেফতার করেন ডেমরা থানা পুলিশ।




আপনার মতামত লিখুন