আমিনুল হক, কাওছার মল্লিকসহ আহত হয় অর্ধশত
রাজনীতির সেকাল-একাল: বিএনপির ওপর পুলিশের হামলা ও মিডিয়া ট্রায়ালের ৫ বছর
২০২১ সালের ১৭ আগস্ট, দিনটি ছিলো মঙ্গলবার। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে গেলে কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় পুলিশ। যেখানে পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা আমিনুল হক (বর্তমান আহ্বায়ক- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি), ছাত্রদল নেতা কাওছার মল্লিক সহ গুরুতর আহত হয় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। সেদিনের ঘটনার বাস্তবতা ও মিডিয়া ট্রায়াল হয়তো অনেকেরই জানার কথা। অথচ বর্তমান রাজনীতির সমীকরণে খোলস পাল্টে সুশীলদের বাণী যেনো সরাসরি দ্বিচারিতা।
মূলত ২০২১ সালের ২ আগস্ট বিএনপি’র মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ঢাকা দক্ষিণে আবদুস সালামকে আহ্বায়ক এবং রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করা হয়।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরে আমান উল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক এবং আমিনুল হককে সদস্য সচিব করা হয়। দলের রীতি অনুযায়ী নতুন কমিটির নেতারা সেদিন তাদের অনুসারীদের নিয়ে শহীদ জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে। পরের ঘটনা কারোরই অজানা নয়।
মাজারে ফুল দিয়ে দোয়ার উদ্দেশ্যে এদিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তভাবে প্রবেশ করেন চন্দ্রিমা উদ্যানে। তবে পুলিশ তাদের সেখানে যেতে বাধা দেয়। ডিএমপি থেকে পূর্ব অনুমতি থাকায় বিএনপি শ্রদ্ধা জানাতে অনড়ভাবে এগিয়ে যায়। ঠিক তখনই তাদের ছত্রভঙ্গ করতে আক্রমণ শুরু করে পুলিশ। দফায় দফায় টিয়ার শেল ও গুলি করে নাস্তানাবুদ করে ফেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের। অথচ সেদিন সংঘর্ষের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অধিকাংশ মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হয়- “জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ”। অথচ সেদিন কোনো মিডিয়ায় লেখা হয়নি যে, অনুমতি থাকার পরও বিএনপিকে যেতে দেয়া হয়নি। কেউ বলেনি যে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিএনপির উপর হামলা করা হয় এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা প্রতিহত করতে ঘুরে দাঁড়ায়। সম্ভবত এটাকেই বলা হয় মিডিয়া ট্রায়াল।
পুলিশের গুলিতে সাদা পাঞ্জাবি আপাদমস্তক রক্তে লাল হয়ে চাপা কষ্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিএনপি নেতা আমিনুল হক। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জনপ্রিয় সাবেক অধিনায়ক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তৎকালীন সদস্য সচিব আমিনুল হক (বর্তমান আহ্বায়ক- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি) সেদিন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, “আমোদের কোনো নেতাকর্মীকে জিয়ার কবরের আশপাশে অবস্থান করতে দিচ্ছিল না পুলিশ। হামলার এক পর্যায়ে পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলি করে। আমরা অনুমতি নিয়েই এখানে এসেছি। অথচ পুলিশের গুলিতে আমি আহত হয়েছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।”
এদিন প্রায় সকল মিডিয়ায় দেখা যায়- ঘটনার সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন। এসময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

সে-দিনের দুঃসহ স্মৃতির বর্ণনা দেন বর্তমান রূপনগর থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাওছার মল্লিক। তিনি বলেন, “ওইদিন আমরা আমিনুল ভায়ের নেতৃত্বে আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। মূলত মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলাম। পুলিশের অনুমতি থাকলেও অজানা কারণে তারা আমাদের উপর যেভাবে হামলা করেছিলো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী বিশেষ করে আমিনুল হক ভাই সেদিন পুলিশের গুলিতে মারাত্মক জখম হন। আমি সহ আমরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায়, কেউবা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে যায় চিকিৎসা নিতে। দুঃখের বিষয়- সেদিন আমাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতেও ভয় পাচ্ছিল ডাক্তার, নার্স। এমনকি গুরুতর আহত হয়েও আমরা হাসপাতালে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারিনি। যতদ্রুত সম্ভব প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল প্রস্থান করতে হয় আমাদের।”
পুলিশের গুলিতে রক্তে লাল হওয়া আমিনুল হককে পুরো বাংলাদেশ চিনে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জনাব আমিনুল হক বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক। যার নেতৃত্বে মহানগর উত্তর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিটি ইউনিট দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে চলছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান ও ওইদিন আহত হওয়া মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের চিনে না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। সাবেক বাঙলা কলেজ ছাত্রদল নেতা ও রূপনগর থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাওছার মল্লিক নেতৃত্বে অটুট। অর্থাৎ বিএনপির ওপর এতো সব হামলা, মামলা করেও তাদেরকে দমানো যায়নি। তবে পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকা ও মিডিয়ার অদূরদর্শী ভূমিকা, সেদিনের ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে পারে না বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মী। তাদের প্রত্যাশা- দেশনায়ক তারেক রহমানের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ত্যাগী নেতাকর্মী তাদের যথাযথ মূল্যায়ন পাবে।




আপনার মতামত লিখুন