খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার

‘জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
‘জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন’

নিখোঁজের একদিন পর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের (৭১) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দিন, অর্থাৎ ২১ আগস্ট সকাল সোয়া ৯টায় এই সাংবাদিক সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে একটি ‘খোলা চিঠি’ পাঠান। মেইলে পাঠানো ফুটনোটে তিনি লেখেন, ‘জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওইদিন ১০টার দিকে অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি আর ফেরেননি। তার নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় জিডি করে পরিবার। শুক্রবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের মেঘনায় তার লাশ পাওয়ার খবর জানায় পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে প্রেরণ করা সেই শেষ লেখাটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমি বিভুরঞ্জন সরকার, ‘আজকের পত্রিকা’র সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করি। সাংবাদিকতার সঙ্গে আমার সম্পর্ক পাঁচ দশকের বেশি সময়ের। দেশের নানা পরিবর্তন, আন্দোলন, গণআন্দোলন এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতন প্রত্যক্ষ করেছি। এই দীর্ঘ সময় আমি লিখেছি সত্যের পক্ষে, মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে। কিন্তু আজ, যখন নিজের জীবনকে দেখি, অনুভব করি—সত্য লিখে বাঁচা সহজ নয়।

আমার পেশা আমাকে শিখিয়েছে—সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেবার নাম। ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে করতে শিখেছি, কখনো কখনো নাম গোপন রাখতেই হয়। সত্য প্রকাশ করতে গেলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা প্রয়োজন হয়। এরশাদের আমল, নানা রাজনৈতিক আন্দোলন—সবক্ষেত্রে সাহস ছাড়া লেখা সম্ভব ছিল না। আমরা, আমার মতো সাংবাদিকরা, গোপন নাম ব্যবহার করেছি, তাতে স্বার্থের কিছু নেই, বরং নিরাপত্তার জন্য।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার অবস্থান স্পষ্ট ছিল—স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। আমার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান না রেখেও মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বাগিয়ে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, নিচ্ছেন। আমি ও পথে হাঁটিনি।

স্কুল ছাত্র থাকতেই সাংবাদিকতার পেশায় জড়িয়েছি। দৈনিক আজাদের মফস্বল সাংবাদিক। স্কুলে পড়ার সময় আমাদের নামে আজাদে বড় বড় লেখা ছাপা হয়েছে। আবার বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াও সেই স্কুল থেকেই। রাজনৈতিক আদর্শবোধ ও সাংবাদিকতার নৈতিক সততা আমাকে ব্যক্তিগত সুখভোগের জন্য তাড়িত করেনি। একটাই তাড়না–দায়িত্ববোধ। আমি জ্ঞানত কখনো দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিনি। নিজের কাজে ফাঁকি দেইনি। খুব সাহসী মানুষ হয়তো আমি নই, কিন্তু চোখ রাঙিয়ে কেউ আমাকে দিয়ে কিছু লেখাতে পারিনি। অবশ্য বছর কয়েক আগে কথায় পটিয়ে আমাকে দিয়ে নাঈমুল ইসলাম খান তার স্ত্রী মন্টি আপার সুখ্যাতি লিখিয়ে নিয়েছিলেন!

আজকের সময়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ অন্যরূপ। অনেকেই সুবিধা, স্বার্থ, সামাজিক মর্যাদা বা আর্থিক স্বার্থের জন্য সত্যকে আড়াল করে লেখেন। আমি নাম আড়াল করলেও সত্য গোপন করিনি। তাই হয়তো দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় এই পেশায় কাটিয়ে সম্মানজনক বেতন-ভাতা পাই না। এখন আমার যা বেতন তা বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। তবে শুনেছি, আমার বিভাগীয় প্রধানের বেতন আমার প্রায় দ্বিগুণ। আহা, যদি ওই বেতনের একটি চাকরি পেতাম তাহলেও হয়তো সংসার চালানোর জন্য নিয়মিত ধার-দেনা করার পেশাটি আমাকে বেছে নিতে হতো না! অন্যসব খরচের হিসাব বাদ দিয়ে মাসে আমার একার ওষুধের ব্যয় ২০–২২ হাজার টাকা। বাড়িয়ে নয়, একটুবকমিয়েই হয়তো বললাম! আমার আর্থরাইটিস, লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ কত যে রোগ! আর্থরাইটিস ও লিভারের চিকিৎসার জন্য কত যে ধারদেনা করতে হয়েছে। আমার ছেলেও অসুস্থ, ওরও নিয়মিত চিকিৎসাব্যয় আছে। তাই ধার-দেনা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা পরিচয়ে অনেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। একপর্যায়ে লাজলজ্জা ভুলে আমিও শেখ হাসিনার দরবারে সাহায্যের আবেদন করে কোনো ফল পাইনি। অনেক সাংবাদিক প্লট পেয়েছেন। আমি দুইবার আবেদন করেও সফল হইনি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বই লিখেও নাকি কতজন ভাগ্য বদলেছেন। অথচ আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত দুটি বইয়ের জন্য আমি দুই টাকাও রয়্যালিটি পাইনি। একেই বলে কপাল! তবে হ্যাঁ, একবার শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। ওই সফরের জন্য কিছু হাত খরচের টাকা আমি পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা তো ওই কোটপ্যান্টজুতো কিনতেই শুধু শেষ হয়, আরও দেনা হয়েছে। ওই সুবাদে আমার কোট-টাই জুতা কেনা! সারাজীবন তো স্যান্ডেল পরেই কাটল।

শুধু মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে অবিচল অবস্থানের কারণে আমাকে আজও ‘আওয়ামী ট্যাগ’ দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী আমলেও কোনো বাস্তব পুরস্কার পাইনি। আমি পেলাম না একটি প্লট, না একটি ভালো চাকরি। বরং দীর্ঘ সময় চাকরিহীন থেকে ঋণের বোঝা বেড়েছে। স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে পরিবারের দায়বদ্ধতা আমাকে প্রতিনিয়ত চাপের মধ্যে রাখে।

‘আজকের পত্রিকা’য় কাজ করছি ৪ বছর হলো। এই সময়ে না হলো পদোন্নতি, না বাড়ল বেতন। অথচ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। সংবাদপত্র আর কীভাবে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে, ঘরের মধ্যেই যেখানে অনিয়ম।

সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যাদের লেখার কারণে তাদের একজন তারিখ ইব্রাহিম। ওই নামে আমিই লিখতাম এরশাদের কোপানল থেকে রক্ষা পেতে। ক্ষমতা ছাড়ার পর দু-একবার দেখা হলে অবশ্য এরশাদও ‘দেশি’ হিসেবে আমাকে খাতির করেছেন।

আমি চাকরি করেছি দৈনিক সংবাদে, সাপ্তাহিক একতায়, দৈনিক রূপালীতে। নিজে সম্পাদনা করেছি সাপ্তাহিক ‘চলতিপত্র’। নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি ‘মৃদুভাষণ’ নামের সাপ্তাহিকে। ‘দৈনিক মাতৃভূমি’ নামের একটি দৈনিকের সম্পাদনার দায়িত্বও আমি পালন করেছি। দেশের প্রায় সবগুলো দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইনে আমার লেখা একসময় নিয়মিত ছাপা হতো। দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তখন প্রথম পৃষ্ঠায় আমার লেখা মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপা হতো।

অথচ এখন কোনো কোনো পত্রিকায় লেখা পাঠিয়ে ছাপার জন্য অনুরোধ করেও ফল পাই না। আমার লেখা নাকি পাঠক আর সেভাবে ‘খায়’ না।

এক সময় কত খ্যাতিমান লোকেরা আমার লেখা পড়ে ফোন করে তারিফ করেছেন। অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানের প্রশংসাও আমি পেয়েছি। রাজনীতিবিদ অলি আহাদ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, লেখক অধ্যাপক শওকত ওসমান, ড. রংগলাল সেন, অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের মতো কতজনের প্রশংসা পেয়েছি। বিএনপির এক সময়ের মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়াও আমাকে লেখার জন্য স্নেহ করতেন। ওহ হ্যাঁ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অন্তত দুবার নিজে আমাকে ফোন করে আমার লেখার কথা বলেছেন। এখন অবশ্য এত সাধারণ বিষয় তার মনে থাকার কথা নয়। আজ আমার লেখা নাকি পাঠক টানে না। হতেই পারে, বয়সের ভারে বুঝি লেখা হালকা হয়ে গেছে।

নামে-বেনামে হাজার হাজার লেখা লিখেছি। সম্মানী কিন্তু পেয়েছি খুবই কম। কোনো কোনো পত্রিকা তো কয়েক বছর লেখার পরও একটা টাকা দেওয়ার গরজ বোধ করেনি। সেদিক থেকে অনলাইনগুলো অনেক ভালো। একটি বড় অনলাইনের কাছেও আমার মোটা টাকা এখনো পাওনা আছে।

অথচ এখন আমার দৈনন্দিন জীবন শুরু হয় ওষুধ খেয়ে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিয়ে এবং ওষুধ কেনার টাকার চিন্তায়।

এর মধ্যে গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমের অবস্থা আরও কাহিল হয়েছে। মন খুলে সমালোচনা করার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। কিন্তু তার প্রেস বিভাগ তো মনখোলা নয়। মিডিয়ার যারা নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন তারা সবাই আতঙ্কে থাকেন সব সময়। কখন না কোন খবর বা লেখার জন্য ফোন আসে। তুলে নিতে হয় লেখা বা খবর! এর মধ্যে আমার একটি লেখার জন্য ‘আজকের পত্রিকা’র অনলাইন বিভাগকে লালচোখ দেখানো হয়েছে। মাজহারুল ইসলাম বাবলার একটি লেখার জন্যও চোটপাট করা হয়েছে। আপত্তিকর কি লিখেছেন বাবলা? লিখেছেন, সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে সামরিক হেলিকপ্টারে দিল্লি পাঠিয়েছে। আর শুধু পুলিশের গুলিতে নয়, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে জঙ্গিরাও মানুষ হত্যা করেছে। এখানে অসত্য তথ্য কোথায়? শেখ হাসিনা কি হেলিকপ্টার ভাড়া করে গোপনে পালিয়েছেন? হাসিনার পুলিশ না হয় ছাত্র জনতাকে হত্যা করলো কিন্তু পুলিশ হত্যা করলো কে বা কারা? এইটুকু লেখার জন্য পত্রিকার বিরুদ্ধে তোপ দাগা একেবারেই অনুচিত।

সব মিলিয়ে পত্রিকায় আমার অবস্থা তাই খুবই নাজুক। সজ্জন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চাপ সইতে না পেরে আমার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করেছেন।

আমি এখন কী করি? কোন পথে হাঁটি?

আমি লিখি, কারণ আমি জানতাম সাংবাদিকতা মানে সাহস। সত্য প্রকাশ মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়ার নাম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, সত্য লিখতে হলে কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য হারাতে হয়। আমি তেমন স্বাচ্ছন্দ্য চাইনি কখনো। তবে সারাজীবন হাত পেতে চলতে হবে এটাও চাইনি।

আমার সাংবাদিক বন্ধু মাহবুব কামাল মনে করেন, আমার কোনো বড় ধরনের সমস্যা আছে। না হলে তিনি এখন অনেকটা নিরাপদ জীবন কাটালেও আমার অনিশ্চয়তা কেন দূর হলো না? আসলে তাই তো? আমার অভাব কেন দূর হয় না? মাহবুব ভাই শেখ হাসিনার কাছ থেকে জমি পেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য দুই দফায় নগদ টাকাও পেয়েছেন। তারপর পৃথিবীজুড়ে তার অগণিত ভক্তকুল তাকে কত উপলক্ষেই না মুক্তহস্তে দান করেন। চিকিৎসার জন্য লাগবে লাখ কয়েক তিনি পেয়ে যান কোটি খানেক। আমার তো কপাল মন্দ। কোনো ভক্ত নেই। তবে আমিও একেবারে ঋণধার পাই না, সেটা বললে অসত্য বলা হবে। আমারও কিছু খুচরা দরদি আছে বলেই না এখনো বেঁচেবর্তে আছি।

আবার দেখুন, মাহবুব কামালের দুই পুত্র সন্তান। তারাও পিতার মতো সাফল্যের পরীক্ষায় পাস করে দেশে বিদেশে ভালো চাকরি করছে। আর আমার এক কন্যা ও এক পুত্র। ছাত্র হিসেবে মেধাবী কিন্তু…

এত এত মানুষ থাকতে মাহবুব কামালের কথাই কেন লিখছি? কারণ তার আজকের অবস্থানের পেছনে খুব সামান্য হলেও আমি ভূমিকা রেখেছিলাম! ‘যায়যায়দিনে’ কাজের জন্য পাটগ্রাম থেকে ঢাকা নিয়ে আসার জন্য শফিক রেহমানকে প্রভাবিত করেছিলাম। ‘যায়যায়দিনে’ লিখেই তো এখন বিশ্বসেরা সাংবাদিক।

আমি ক্ষুদ্র মানুষ। মনটাও সংকীর্ণ। সেজন্য আমার প্রতি সবাই বিদ্বেষ পোষণ করতেই পারে। আমি কিন্তু কারও প্রতি সামান্য বিদ্বিষ্ট নই। উপকার করার ক্ষমতা নেই বলে কারও অপকারের কথা স্বপ্নেও ভাবি না। নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। আমি যে খুব কম জানাবোঝা একজন মানুষ, সেটা আমি খুব ভালো জানি।

আমার সংসারে স্ত্রী ছাড়া দুই সন্তান। এক মেয়ে, এক ছেলে। ছেলেমেয়েরাও আমার মতো একটু বোকাসোকা। বর্তমান সময়ের সঙ্গে বেমানান। মেয়ে বড়। জীবনে কখনো কোনো পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেনি। ডাক্তার হয়েছে। বিসিএস পাস করে চাকরিও পেয়েছে। গ্যাসট্রোএনটোরোলোজিতে এমডি করতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে ধরা খেল। সরকার বদলের পর বিভাগীয় প্রধানের কোপানলে পড়ে আমার মেধাবী মেয়েটি থিসিস পরীক্ষায় অসফল হলো। অথচ ও কোনো রাজনীতির সাতে-পাঁচে নেই। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অবশ্য পাস করেছে, এখন থিসিসের জন্য আবার অপেক্ষা। এর মধ্যে আবার কোন নিভৃত অঞ্চলে পোস্টিং দিয়ে দেবে, কে জানে!

আমার ছেলেটি বুয়েট থেকে এমএমইতে পাস করেছে। আমেরিকায় একটি বৃত্তি পেয়েও শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে সময়মতো যেতে পারেনি। আমার ছেলেটি চার বছর বয়সে গুলেনবারি সিনডর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনমৃত্যুর সঙ্গে কয়েক মাস পাঞ্জা লড়ে তবে বেঁচেছে। ওর ব্যয়বহুল চিকিৎসার ধকল আমি সয়েছি। বুয়েট পাস হয়ে দেশে কত চাকরির পরীক্ষা দিয়ে পাস করেও এখন পর্যন্ত নিয়োগ নিশ্চিত হলো না। অপরাধ কি ওর নাম, নাকি বাবা হিসেবে আমি, বুঝতে পারছি না।

আমি কেন এই খোলা চিঠি লিখছি, সেটাও যে খুব ভালো বুঝতে পারছি তা নয়। তবে কয়দিন ধরে আমার কান কেন যেন কু ডাক শুনছে। মনটাও কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। মাহবুব কামাল কিছু অর্থ সাহায্য করতে চেয়েও আমার কোনো ব্যবহারে কুপিত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

শেষে ‘প্রথম আলো’ সম্পাদক মতিউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছি না। আমি একতায় মতি ভাইয়ের সহযোগী ছিলাম। তিনিই আমাকে শফিক রেহমানকে বলে ‘যায়যায়দিন’র সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে স্নেহ করতেন, বিশ্বাস করতেন। তার পত্রিকায় (তখন ভোরের কাগজ) আমাকে যোগ দিতে বলেছিলেন। আমার বাসায়ও এসেছিলেন। কিন্তু আমি তখন ‘যায়যায়দিন’ ছাড়তে চাইনি। জীবনে এর চেয়ে বড় ভুল আর আমার কোনোটা নয়। মতি ভাই, পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন।

আমার জীবনে কোনো সাফল্যের গল্প নেই। সাংবাদিক হিসেবেও এ-ডাল ও-ডাল করে কোনো শক্ত ডাল ধরতে পারিনি। আমার কোথাও না কোথাও বড় ঘাটতি আছে। এই ঘাটতি আর কাটিয়ে ওঠা হলো না।

দুঃখই হোক আমার জীবনের শেষ সঙ্গী। আর পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক।

২১ অগাস্ট, ভোর ৫টা। সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা।

★ জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।

নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ৫’বছরে ২৫’কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি’র উদ্বোধনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে-সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় আলোচনাসভা শেষে জনপ্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনটি করে ফলজ বৃক্ষ বিতরণ করা সহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায়  কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এডমিকি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়- শনিবার (১৩জুন)  দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২,০০০-এর অধিক বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ  জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম। এসময়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) শাহাদাত হুসেইন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহমেদ, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, সামাজিক বনবিভাগ সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজিয়া পারভীন মিষ্টি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার উম্মে নাজনীন নিশাত। এ সময়ে  জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এডমিকি ফাউন্ডেশনের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ, সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।।

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও তাকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে ঢাকায় রয়েছেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। তিনি এসআই শফিকুল ইসলামকে তথ্য দেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোনার চোরাচালান আসবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শফিকুল লালখান বাজার এলাকায় অভিযানে যান। মনিরুল একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে চোরাচালানের এই তথ্য পেয়েছেন দাবি করেছেন।

তবে নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তাঁর। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য থামার সংকেত দেন।

অটোরিকশাটি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেন জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের এই স্পিনার বলেন, তারা আমাকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন আমি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেই, পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু আমাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম বলেন, মারধরের সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল-তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। মারধরের একপর্যায়ে আরেকটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের গাড়ি থাকলেও সেখানে আমাকে তোলা হয়নি। মারধরের একপর্যায়ে আমাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল। এরপর ওসির কক্ষে নেওয়া হয় আমাকে।

ওসির কক্ষেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানিয়ে নাঈম বলেন, ওসিকে আমি যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলাম তখন ওসি বারবার বলেন চোখ নিচু করে কথা বলতে। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।

তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে নামানোর পর আমার ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় আসার পর ফোনটি পেয়ে আমি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।’

আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই জানিয়ে নাঈম বলেন, ‘আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন,‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এই তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। আর অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কি না তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

অভিযান চালানোর নিয়ম রয়েছে জানিয়ে আমিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী বেলকুচিতে উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত