মা-বোনকে মারধর, হত্যার হুমকি
ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে খালা ও খালাতো ভাইদের সাথে ষড়যন্ত্র
ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে নানা-নানির জমি নিজের নামে লিখে নিতে খালা ও খালাতো ভাইদের সাথে ষড়যন্ত্র করে নিজের মা’কে বেধড়ক মারধর করেছে এক কুলাঙ্গার ছেলে। রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে নিরব হোসেন তার খালা সেলিনা বেগম ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা এই নারকীয় ঘটনা ঘটিয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের মা, বোন ও মামাতো বোনকে মারধরের সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে যায় গণমাধ্যম কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভুক্তভোগী মা সহ আহত সবাই সরাসরি অভিযোগ করেন বিপথে যাওয়া ছেলে নিরব ও সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই মা শিরিন বেগম সহ আহত ৩ জন রাজশাহী সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
নিরবের মা শিরিন বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে নিরব দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী আজানুর ও জনির সাথে মিশে বিপথগামী হয়ে গেছে। আজানুরের নামে একটি মাদক মামলা আছে। সে কিছুদিন আগে জেল থেকে বের হয়েছে। নিরব সহ পুরো মাদকের গ্যাংকে শেল্টার দেয় আমার বোন সেলিনা। আমরা নিষেধ করলেই সেলিনার মদদে নিরব আমাকে মারধর করে। সবশেষ আমার মা গোলেনুর বেওয়ার (৮৩) জমি আত্মসাৎ করতে আমার বোন সেলিনা বেগমের সাথে ষড়যন্ত্র করেছে নিরব, আজানুর ও জনি গং। আমার বাবার জমি থেকে আমাকে সরিয়ে দিতে জবরদস্তি শুরু করে তারা। আমি ও আমার ভাইয়ের মেয়ে আন্নি সহ অন্যান্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত না করতে বললে আজ আবারও আমাকে মারধর করে। এমনকি অসহায় এতিম মেয়ে আন্নি ও আমার মেয়ে ইভাকেও নিরব মেরেছে। পিছন থেকে ওকে উস্কানি দিচ্ছে সেলিনা বেগম ও তার ছেলেরা। আমরা ওদের বিচার চাই, ওদেরকে অতিসত্বর গ্রেফতার করা হোক। কারণ আমার মা গোলেনুর বেওয়া একজন অসুস্থ ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ। ডাক্তার অনেক আগেই তাকে মানসিক রোগী বলে চিকিৎসা করতে বলেছেন। সেলিনা, তার ছেলেরা, আমার ছেলে নিরব মিলে গোপনে আমার মা’কে ভুল বুঝিয়ে জমি আত্মসাৎ করতে চাচ্ছে।’
বাবা হারিয়ে এতিম মেয়ে আন্নির অভিযোগ আরও গুরুতর। আন্নির অভিযোগ, ‘আমি এই বাড়িতে থাকতেই পারি না। আমার ফুপু সেলিনা বেগম, তার ছেলেরা, আরেক ফুপাতো ভাই নিরব আমাকে প্রচন্ড টর্চার করে। এর আগেও ওরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আজ আমার ফুপু শিরিন বেগম আমার পক্ষ নিয়ে সমান অধিকারের কথা বলতেই ওরা আক্রমণ করে বসে। বিশেষ করে তারা সবাই বেধড়ক মেরেছে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। মূলত আমাদেরকে জমি থেকে বঞ্চিত করে সব জমি ওদের নামে লিখে নিতেই এবং কাশিয়াডাঙ্গার জমি জবরদখল করতে এই অপকর্ম করছে তারা।’
আন্নি বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমার পায়ের নিচে মাটি নেই। একারণেই আমার ফুপু সেলিনা বেগম, নিরব হোসেন, সাহানাজ, হাজেরা, জনি সহ সবাই একজোট হয়ে আমাকে বিতারিত করতে চাই। আমার আরেক ফুপু শিরিন বেগম আমার পক্ষে কথা বলা এবং ওই বদমাশদের মাদকের ব্যবসায়ে সাপোর্ট না দেয়ায় তারা আমাদের সাথে এসব করছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো- আমার দাদি গোলেনুর বেগম একজন অসুস্থ বৃদ্ধা, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ। তার নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই। দাদি যে মানসিকভাবে অসুস্থ- তার মেডিকেল ডকুমেন্টসও রয়েছে। সেলিনা ফুপু আগের ৭-৮ টা প্রেসক্রিপশন, ঔষধ ইত্যাদি লুকিয়ে রাখলেও কিছু ডকুমেন্টস এখনো আমাদের কাছে আছে। তাহলে এই অবস্থাই দাদি কিভাবে তার জমি গুটিকয়েক মানুষকে লিখে দিতে পারে ?’
প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইভা। সেই সাথে স্থানীয় লোকজন বেজায় ক্ষিপ্ত সেলিনা বেগম, তার গুণধর ছেলে ও নিরবের উপর। কারণ প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে জমির মালিক গোলেনুর বেওয়াকে ভুল বোঝানোর বিষয়ে স্থানীয় সকলেই অবগত। সকলের দাবি- ষড়যন্ত্র না করে সকল ওয়ারিশদের মাঝে সমানভাবে জমি বন্টন করা হোক। সেই সাথে অভিযুক্ত কুলাঙ্গার ছেলে নিরব, ষড়যন্ত্রের মূল হোতা সেলিনা ও আজানুর গংদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও তাদের।
মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা গোলেনুর বেওয়ার জমির বিষয়ে ষড়যন্ত্রকারী, সেলিনা বেগম, নিরব, হাজেরা, সাহানাজ, জনি সহ সকলের বিষয় গভীর অনুসন্ধান করে গণমাধ্যম কর্মীরা। যেখানে সেলিনা বেগম, জনি, আজানুর, নিরবের যোগসাজশে এই ষড়যন্ত্র পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। স্থানীয় ভূমি সাবরেজিস্টার অফিসে খোঁজ নিয়েও মেলে এমন তথ্য। যেখানে দেখা যায়- সেলিনা বেগম, নিরব হেসেন, সাহানাজ ও হাজেরাকে জমি লিখে দিতে অবৈধ ও অনৈতিকভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জমির দলিল তৈরিরও অপচেষ্টা করেছে তারা। তবে সেলিনা বেগম ও নিরবের ষড়যন্ত্রের মূল ঘটনা শুনে হতবাক সবাই।
প্রকৃত ঘটনা শুনে জমির দলিল লেখক জানান, ‘আমাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে সেলিনা বেগম ও নিরব গং। এমন নির্লজ্জ কাজের জন্য অবশ্যই ওদেরকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। কারো হক নষ্ট করে দলিল লেখা আমাদের কাজ নয়। আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করছি।’
এখন বাংলাদেশ আইন ও প্রশাসনের নিকট ভুক্তভোগীদের দাবি- উপরোক্ত অভিযোগ ও বাস্তবতা তদন্ত করে জমির প্রকৃত সকল ওয়ারিশদের তা বুঝিয়ে দেয়া হোক। সেই সাথে অভিযুক্ত সেলিনা বেগম, নিরব হোসেন, সাহানাজ, হাজেরা, জনি সহ সকলকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
চিকিৎসার বিষয়ে রাজশাহী নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোঃ এমদাদুল হক বলেন, গোলেনুর বেওয়ার বেশ বয়স হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ হয়ে বিছানাগত। তিনি অনেক কিছু ভুলে যান এবং তার মানসিক সমস্যা আছে বলেও সত্যতা নিশ্চিত করেন ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
এ বিষয়ে গোলেনুর বেওয়ার ভাই ইলিয়াস এবং জাফরের সাথে কথা বললে তারা বলেন, “আমার বোন গোলেনুর বেওয়া অনেক দিন ধরে অসুস্থ এবং তার মানসিক রোগের চিকিৎসা চলমান। তাকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে জমি লিখে নেওয়ার ঘটনার চক্রান্ত দুঃখজনক।”
এ ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায় এবং এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিনা, জনি, আজানুর ও নিরব গংদের বিচার দাবি করেছেন।




আপনার মতামত লিখুন