নানা-নানির জমি লিখে নিতে খালার উস্কানিতে মা-বোনকে মারধর, আদালতে মামলা
রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গায় খালার সাথে ষড়যন্ত্র করে নিজের মা-বোন ও এতিমের জমি জবরদখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করায় খালা ও জালিয়াতি চক্রের উস্কানিতে আপন মা’কে মারধর করেছে নিরব হোসেন নামের এক কুলাঙ্গার ছেলে। বাধ্য হয়ে নিজের ছেলে, বোন ও চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন অসহায় ভুক্তভোগী শিরিন বেগম (৪৬)।
মূলত কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে অসুস্থ ও মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা গোলেনুর এর জমি তার মেয়ে সেলিনা বেগম ও নাতি নিরব গ্যাংদের চক্রান্তে প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে জোরপূর্বক লিখে নেয়ার অপচেষ্টার ফলশ্রুতিতে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী এতিম ও অসহায় আন্নি, শিরিন বেগম সহ বঞ্চিতরা আদালতের দারস্থ হয়। শিরিন বেগম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞ সিএমএম আমলী কাশিয়াডাঙ্গা থানা আদালতে রাজশাহী তে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৪১/৩৫৪/৫০৬(||)/১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ২১৩ সি/২০২৫ (কাশিয়াডাঙ্গা)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী মোসাঃ শিরিন বেগম (৪৬), পিতা- মৃত নওসাদ আলী @ নওসের আলী মন্ডল, স্বামী- মোঃ আনোয়ার মুকিত, বর্তামান সাং- ৪৪, কাশিয়াডাঙ্গা, থানা- কাশিয়াডাঙ্গা, মহানগর রাজশাহীতে বসবাস করছেন।
প্রতিপক্ষ,
১.মোসাঃ সেলিনা বেগম (৫৫), পিতা- মৃত নওসাদ আলী @ নওসের আলী মন্ডল, বর্তমান স্বামী- মোঃ নুর ইসলাম, প্রাক্তন স্বামী- মৃত সুবেদ আলী
২.মোঃ জনি (২৭), পিতা- মৃত সুবেদ আলী,
৩.মোঃ আজানুর (৩৩), পিতা- মৃত সুবেদ আলী,
৪.মোঃ নিরব (২৬), পিতা- মোঃ আনোয়ার মুকিত,
সর্বসাং- ৪৪, কাশিয়াডাঙ্গা, থানা- কাশিয়াডাঙ্গা, মহানগর রাজশাহী।
জেলা- রাজশাহী, উপজেলা- পবা এর মধ্যে নালিশী সম্পত্তির তফশিল সমূহ:
তফশিল ক: মৌজা- গোয়ালপাড়া, আর.এস-১১, দাগ নং- ৭২/২৮৪, রকম- বাড়ী, পরিমাণ- ৩.২৮১২ শতাংশ এর কাতে
তফশিল খ: মৌজা- গোবিন্দপুর, আর.এস- ৮৩, দাগ নং- ১৬৮, রকম- আম বাগান, পরিমাণ- ৪.৮০০ শতাংশ
তফশিল গ: মৌজা- মধুপুর, খতিয়ান- প্রস্তাবিত ১১৩০, দাগ নং- ১৬৬৯, রকম- ধানী, পরিমাণ- ৬.৬০ শতাংশ।
বিজ্ঞ আদালত বাদীর অভিযোগে সন্তুষ্ট হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
উল্লেখ্য, ৮৩ বছর বয়সী অসুস্থ বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্যহীন গোলেনুর নিজ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নেই। সেই সুযোগেই গোলেনুর এর মেয়ে সেলিনা বেগম ও তার নাতি নিরব, জনি, আজানুর ষড়যন্ত্র করে জমির প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে গোপনে লিখে নেয়ার পায়তারা শুরু করে। যা প্রকাশ হতেই বাধে বিপত্তি।
কারণ চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি ও মাদকে আসক্ত জনি ও আজানুরের ছত্রছায়ায় বিপথে যাওয়া নিরব এখন খালার কথাই ওঠে-বসে। নিরবের মা ও মূল ষড়যন্ত্রকারী সেলিনা বেগমের আপন বোন শিরিন বেগম। আরেক ওয়ারিশ আন্নি গোলেনুর এর আপন নাতনী এবং সেলিনা বেগমের ভাইয়ের মেয়ে ও বাটপার নিরবের মামাতো বোন। অথচ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে গোপনে মানসিক ভারসাম্যহীন গোলেনুরকে ভুল বুঝিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জমি লিখে নেয়ার অপচেষ্টা করে চক্রটি। ঘটনা জানতে পেরে অনৈতিকভাবে জমি রেজিস্ট্রি আটকে দেয় ভুক্তভোগী শিরিন, আন্নি ও ইভা।
সকলকে আইন অনুযায়ী সমানভাবে অধিকার বুঝিয়ে দিতে বললেই ভুক্তভোগী শিরিন বেগমকে (১৪ সেপ্টেম্বর) তারই বোন সেলিনা বেগমের সরাসরি মদদে ছেলে নিরব মারধর করে। পরদিন সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় এলাকায় বাদী, তার মেয়ে ইভা ও এতিম মেয়ে আন্নিকে রাস্তায় পেয়ে শিরিন বেগমের বোন সেলিনা বেগমের উস্কানিতে জনি, আজানুর ও নিরব বেধড়ক মারধর করে। সাথে ছিলো আরও কিছু অভিযুক্ত। ঠেকাতে গেলে ওয়ারিশ ও ভুক্তভোগী ইভাকেও মারধর করে তারা। পরবর্তীতে এতিম মেয়ে আন্নি সেখানে ঠেকাতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে পেটানো হয় এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। সেই সাথে তাদেরকে হত্যার হুমকিও দেয় চক্রটি। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম অনুসন্ধান সাপেক্ষে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর পুনরায় তাদের উপর ওই গ্যাংদের দ্বারা নির্যাতন হলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আদালতের দারস্থ হন শিরিন বেগম। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে ভুক্তভোগী শিরিন বেগম বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্ব শরীরে হাজির হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখিত জমি জোরপূর্বক লিখে নেয়ার অপচেষ্টা ও উক্ত গ্যাংদের বিষয় বিভিন্ন আইনজীবী বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে গোপনে আরেক পক্ষ জমির দাতাকে ভুল বুঝিয়ে জমি লিখে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া নিজের মা’কে যে ছেলে খালার সাথে ষড়যন্ত্র করে নির্যাতন করতে পারে। তার মতো জালেম লোকদের বিচার অবশ্যই দ্রুত হওয়া উচিত।
খালা, খালাতো ভাই ও স্ত্রীর সাথে মিলে নিজের মা সহ জমির প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে গোপনে জমি লিখে নেয়ার অপচেষ্টা ও মা-বোনকে মারধরের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত সেলিনা বেগম, জনি, আজানুর ও কুলাঙ্গার নিরবের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হওয়া দরকার।





আপনার মতামত লিখুন