খুঁজুন

থাকবে যোগ্যতা ও দক্ষতার হিসাবনিকাশ

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি কমিটি বিলুপ্তির গুঞ্জন, সমীকরণে সংশয়

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৪০ অপরাহ্ণ
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি কমিটি বিলুপ্তির গুঞ্জন, সমীকরণে সংশয়

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অনেকটা ভরাডুবির পর নেতৃত্বে পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে। সেক্ষেত্রে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এবং এক নম্বর ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার কমিটিতে আসতে পারে নতুন নেতৃত্ব। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে কমিটি ভাঙা নিয়ে সংশয়ও বিদ্যমান পদপ্রত্যাশীদের মাঝে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ভোটের ইমেজ তৈরি হলেও ছাত্রশিবিরের কাছে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছে; যা শুধু ছাত্রদলের জন্যই নয়, বরং বিএনপির জন্যও ভাবনার বিষয়। কেননা দেশে প্রায় ৫ কোটি ভোটার তরুণ, যাদের অধিকাংশই শিক্ষিত। তাই ছাত্র সংসদ পরাজয়ের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে। তাছাড়া ডাকসু নির্বাচনের আগে প্যানেলটি গঠন করা নিয়েও সংগঠনের ভেতরে নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ ছিল, যা এখনো বিদ্যমান। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ডাকসু নির্বাচনের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে কয়েকজন নেতার অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা কারণে সংগঠনের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আরও বিরূপ ধারণার জন্ম নেয়। ওই ঘটনার সমালোচনার রেষ এখনো চলমান।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা নতুন বাংলাদেশে সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জানান, ছাত্র সংগঠন হিসেবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও ক্যাম্পাসগুলোতে সংগঠন প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছে যেতে পারেনি। অথচ ছাত্রশিবির এই জায়গাটায় অনেকটাই সফল। তাছাড়া, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর, জেলাসহ বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের কারণেও বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনেকের মাঝে অসন্তোষ দেখা গেছে। আরও নানা কারণে সংগঠনটি স্থিতিশীলতা ও স্বকীয়তা হারাতে বসেছে। যার কারণে, সংগঠনের গতিশীলতা ফেরাতে নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সামনে জাতীয় নির্বাচনের কারণে এ ভাবনার প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আলাপ-গুঞ্জণ যা-ই হোক; সর্বোচ্চ ফোরাম থেকেই সিদ্ধান্ত আসবে বলেও জানান তারা।

কিছু বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের ডাকসু ও জাকসুকেন্দ্রিক বিপর্যয় এবং সার্বিক বিষয়ে সঠিক তত্ত্বাবধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নিয়ে স্কাইপিতে একাধিক ভার্চুয়াল সভা ডেকেছেন। তাছাড়া বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাতেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এরই মধ্যে গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা মতবিনিময় সভা করেছেন বলে জানা গেছে। এতে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন পরবর্তীতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা, কমিটিহীন শাখাগুলোতে কমিটি দেওয়া, ২০টি জেলা কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। তাছাড়া, এ সভায় বিএনপি নেতারা ছাত্রদলের নেতাদেরকে কেন্দ্র ও ঢাবির নতুন কমিটি নিয়ে চিন্তা না করার নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়।

তবে আশা-আকাঙ্ক্ষার যায়গা থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্র ও ঢাবি শাখার পদপ্রত্যাশী নেতারা সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। এছাড়া, তাদের অনেকেই নিজেদের সিভি বা বায়োডাটা ও পোর্টফোলিও প্রস্তুতের কাজও সম্পন্ন করে ফেলেছেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে নিজেদের কর্মযজ্ঞ সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরে নিজেদের যোগ্য প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেতা বিডিনিউজ ৯৯৯ কে বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির মেয়াদ শেষ না হলেও সংগঠনকে গতিশীল করতে এবং ভাবমূর্তি রক্ষার্থে নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথা সংগঠনের ভেতরে শোনা যাচ্ছে। আমরা আভাস পেয়েছি, আগামী চলতি মাসেই কেন্দ্র ও ঢাবির কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে। মূলকথা সংগঠন তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ তৎপর।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ মর্যাদার এক নেতা বলেন, কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা শুনতে পাচ্ছি। যেকোনো সময় সামগ্রিক পরিবর্তন আসতে পারে। সংগঠনের ভালোর জন্য যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তন সবসময়ই কাম্য।

বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, কিছু বিষয় নিয়ে বিশেষ করে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের পর থেকেই ছাত্রদল ঘিরে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। যার কারণে বর্তমান কেন্দ্রীয় ও ঢাবি কমিটি নিয়ে দলে অসন্তোষ আছে। তবে সিনিয়র নেতারা কী ব্যবস্থা নেবেন, সেটা এখনো বলা যাচ্ছে না। সর্বোচ্চ ফোরাম থেকেই মূলত সিদ্ধান্ত আসবে। আর সেটা অবশ্যই কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, ছাত্রদলের নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে আপাতত দলে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। তবে নানা ত্রুটিবিচ্যুতি এবং বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে যখন সংশ্লিষ্টদের পরামর্শের ভিত্তিতে পরিবর্তন হবে, তখন সবাই সেটা জানতে পারবে। এই মুহুর্তে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

সম্প্রতি ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের পরাজয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিকে বিএনপি কীভাবে বিবেচনা করছে, তা জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, প্রথমত- ডাকসুতে নির্বাচিতদেরকে দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত- নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে ব্যবধান ও বাস্তবতা ফ্যাক্ট। কারণ ইতিহাস বলছে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সুতরাং কোনো মন্তব্য করার আগে সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে ও বুঝতে হবে। ডাকসু নির্বাচনে সাবেক ডাকসু ও ছাত্র নেতারা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই এটাকে একটা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যা কখনো সার্বজনীনতা পেতে পারে না। তবে সেগুলোকে অবহেলা বা অস্বীকারও করছি না।

কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে আছেন যারা:

ছাত্রদলের নতুন কমিটির সম্ভাবনা ও সামগ্রিক বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয় ৩টি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযেগ্য সূত্রের মাধ্যমে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে ২০০৯-১০, ২০১০-১১ সেশন থেকে ২০১২-১৩ সেশনের (ঢাবি) যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের নেতারা কমিটির জন্য বিবেচিত হতে পারে। সেই হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে।

“কারণ মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক মনোনীত ভিপি প্রার্থী ছিলেন। তৎকালীন আওয়ামিলীগ সরকারের দমন-পীড়ন সহ্য করেও মোস্তাফিজুর রহমান ডাকসু সহ রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ নজর কাড়েন। যার কারণে তিনি ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয় ছাত্র নেতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন তিনি।”

তবে,
শ্যামল মালুম (০৭-০৮)- কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,
খোরশেদ আলম সোহেল (০৮-০৯)- কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাবেক সভাপতি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল,
মঞ্জুরুল রিয়াদ (০৮-০৯)- কেন্দ্রীয় সহসভাপতি,
মমিনুল ইসলাম জিসান (০৯-১০)- কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,
মাসুদুর রহমান মাসুদ (০৯-১০)- কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,
সালেহ মোহাম্মদ আদনান (০৯-১০)- কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,
আমানউল্লাহ আমান (০৯-১০)- কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক,
শরিফ প্রধান শুভ (০৯-১০)- কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক,
মিনহাজ আহমেদ- কেন্দ্রীয় সহ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সহ বেশ কিছু নাম রয়েছে আলোচনায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্য সুপার ইউনিট থেকেও নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ আসতে পারে। জুলাই আন্দোলনের বিবেচনায় অন্যান্য ইউনিট অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সহ সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, ঢাকা কলেজ থেকে কেন্দ্রীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ তানু, ইব্রাহীম কাদ্রি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিসালাত সজিব, সহ সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বাপ্পি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল, জাহাঙ্গীরনগরের সভাপতি জহির উদ্দিন বাবরের নাম আলোচনায় শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান প্রজন্মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে গঠনমূলক আলোচনা এবং রাজপথেও বেশ অবদান রেখেছেন তারা। তাদের প্রত্যেকেই বিগত কমিটিতে সামনে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রেখেছে।

সুপার ফাইভের আলোচনায় আছেন যারা:

গণেশ চন্দ্র রায় সাহস (১০-১১)- সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল,
নাহিদুজ্জামান শিপন (১১-১২)- সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল,
নাসির উদ্দীন শাওন (১১-১২)- সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এর বাইরেও কেন্দ্রীয় ও ঢাবি কমিটির অনেকেই সুপার ফাইভে স্থান পেতে পারেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই এগিয়ে রয়েছেন এ প্রতিযোগিতায়।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস আলোচনায় থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে ডাকসু নির্বাচনের দিন চরম অসদাচরণ করার জন্য বিতর্কিত হয়েছেন। একজন ছাত্র তার ভিসির সাথে এমন বেয়াদবি বা অসৌজন্য মূলক আচরণ সারাদেশব্যপী ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে আসতে পারেন যারা:

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নম্বর ইউনিট হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ শাখায় ২০১৩-১৪ সেশন থেকে শুরু করে ২০১৫-১৬ সেশনের নেতাদের মধ্য থেকে নেতৃত্বে আসতে পারে বলে জানা গেছে। ২০১৩-১৪ সেশন থেকে ঢাবি শাখা ছাত্রদলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক, আল আমিন ও জসিম খান সহ আলোচনায় রয়েছে বেশ কিছু নাম।

২০১৪-১৫ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম কাওসার। এছাড়া ফেরদৌস আলম, সাইফ খান, আলমগীর হোসেন, আকিব জাবেদ রাফি সাইফ খান, মিনহাজুল ইসলাম নয়ন, বজলুর রহমান বিজয়, নুরুল আমিন নুর এবং আখতারুজ্জামান বাপ্পিও আলোচনায় রয়েছেন।

তবে সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ডাকসুর প্যানেলে থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করা ২০১৫-১৬ সেশনের আবিদুল ইসলাম খানকে ঢাবি শাখার নেতৃত্বের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চে মো: রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ কমিটির অনুমোদন দেয়। ওই সময়েই গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়।

তারও আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে খোঁড়া অজুহাতে ত্যাগী ও তুমুল জনপ্রিয় ছাত্রনেতা তৎকালীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যা নিয়ে তিব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে পড়ে ছাত্রদল। তাই এবারের কমিটি গঠনে যে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, এ-কথা বলাই যায়।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু