গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
গাজা সিটি দখলের লক্ষ্যে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। চলমান যুদ্ধের দুই বছরে এটিকে সবচেয়ে তীব্র হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের উপকূলঘেঁষা আল-রাশিদ সড়ক ধরে দক্ষিণে সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সেনাদের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচায় আদরাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার নজিরবিহীন শক্তি ব্যবহার করা হবে।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম জানান, গাজা নগরীর মানুষরা পশ্চিম দিকে উপকূলের দিকে পালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু হামলার তীব্রতার কারণে তারা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, অভিযানটি পুরো ব্লক ধ্বংস করে দিচ্ছে, অনেক পরিবার এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছে, বিশেষ করে তাল আল-হাওয়া এলাকায়।
শুক্রবার ভোর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে গাজা সিটিতেই ২৬ জন। তাল আল-হাওয়ায় একটি আবাসিক ভবনে বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন বেসামরিক নাগরিক। দক্ষিণ গাজায় সাহায্য নিতে যাওয়া দু’জনও নিহত হয়েছেন।
মধ্য গাজার আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল জানায়, অপুষ্টিজনিত কারণে নয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্ভিক্ষে অন্তত ৪৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
চলমান সংকটে অনেক ফিলিস্তিনি দক্ষিণে যেতে চাইছেন। তবে গাড়ি ভাড়া বা আসবাবপত্র বহনের সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই পায়ে হেঁটে বা ছোট গাড়ি টেনে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করছেন।
৫০ বছর বয়সী নিভিন আহমেদ তার সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে ১৫ কিলোমিটার হেঁটে গাজা নগরী থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এত ক্লান্ত ছিলাম যে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়েছি। ছোট ছেলেটি কান্না থামাতে পারছিল না। আমরা পালাক্রমে একটি ছোট গাড়ি টেনে নিয়েছি।
আল জাজিরার তথ্যমতে, দক্ষিণের আল-মাওয়াসি এলাকায় অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন। যদিও এলাকাটিকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও এর আগে হামলা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ গাজা নগরী ছেড়েছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ উত্তর গাজায় আটকা রয়েছেন।




আপনার মতামত লিখুন