খুঁজুন

এস আলম গ্রুপ-নাসা গ্রুপের লুটপাট

ব্যাংক মূলধন ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা, ঋণখেলাপী চরমে

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:০১ অপরাহ্ণ
ব্যাংক মূলধন ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা, ঋণখেলাপী চরমে

আ’লীগের আমলে নজিরবিহীন লুটপাটের কারণে একীভূতকরণের তালিকায় থাকা বেসরকারি খাতের ৫টি ইসলামি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট সম্পদের প্রায় ৭৮ শতাংশ। আর মোট সম্পদের ৯৫ শতাংশই আমানতকারীদের অর্থ থেকে বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার সিংহভাগই এখন খেলাপি ঋণ। ঋণের নামে এসব অর্থ ব্যাংক থেকে লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। শুধু তাই নয়, মন্দ বিনিয়োগের বিপরীতে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রভিশনের চাহিদার বিপরীতে এক টাকাও নেই। ফলে ব্যাংকের সম্পদ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর সব ধরনের আর্থিক সূচকে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

পাঁচ ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা হালনাগাদ এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। প্রতিবেদনটি গত আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা একীভূতকরণ করতে হলে সরকারকে জানাতে হয়। পাশাপাশি সরকারের সম্মতিও নিতে হয়। এ কারণেই পাঁচ ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি একীভূতকরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অর্থ উপদেষ্টার কাছে একটি চিঠিও দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় এতে সম্মতি দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদও এতে সম্মতি দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, পাঁচ ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেড় লাখ কোটি টাকাই ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে পরিণত হয়েছে। এসব সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর যেমন কোনো প্রভিশন সংরক্ষিত নেই, তেমনি মূলধন দিয়ে আবৃত কোনো অংশও নেই। উলটো ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পুরোটাই আমানতকারীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বিনিয়োগ হিসাবে বিতরণ করা। এর বড় অংশই লুট করেছে এস আলম গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও তাদের সহযোগীরা। লুটের টাকা দেশে রাখেনি তারা। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিনিয়োগের ৯৮ শতাংশ। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিনিয়োগের ৯৫ শতাংশ। ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৭ হাজার কোটি টাকা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ রয়েছে, যা মোট বিনিয়োগের ৮৯ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ রয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিনিয়োগের ৬৩ শতাংশ। এই চারটি ব্যাংকই ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। নাসা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল এক্সিম ব্যাংক। এটির ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা মোট বিনিয়োগের ৪৯ শতাংশ। এসব বিনিয়োগই ইতোমধ্যে আদায় অযোগ্য মন্দ বা কুবিনিয়োগে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী মন্দ বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। সে হিসাবে দেড় লাখ কোটি টাকা রাখার কথা। কিন্তু বাস্তবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতার কারণে এর বিপরীতে প্রভিশন বাবদ কোনো অর্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি। ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ মূলধন রাখার কথা। কিন্তু এসব ব্যাংকের কোনো মূলধনও নেই। উলটো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি রয়েছে। যা ব্যাংকগুলো পূরণ করা তো দূরের কথা, নিজেরাও দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে পারছে না, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। পাঁচটি ব্যাংকই লোকসানে চলে গেছে। ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যাংক লোকসান দিয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ও এক্সিম ব্যাংকের লোকসান ৪০০ কোটি টাকার বেশি। গ্লোবাল ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার বেশি। ইউনিয়ন ও সোশ্যাল ব্যাংকের লোকসান ১০০ কোটি টাকার কম।

এদিকে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর বলেছেন, ‘পাঁচ ব্যাংকের সব আর্থিক সূচক নেতিবাচক। চলতে পারছে না। আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।’

এই হুমকি মোকাবিলায় আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে টেকসই ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার প্রণীত ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এসব ব্যাংককে অতিসত্বর রেজ্যুলেশন প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা দরকার।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর আওতায় চলতি সপ্তাহেই পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে থাকবে একটি চৌকশ দল। যারা প্রশাসকদের সহায়তা করবে। প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে। প্রশাসকই ব্যাংকের পর্ষদ ও এমডির দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর নতুন কোম্পানি গঠন করে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর মালিকানায় থাকবে সরকার। সরকার পর্ষদ গঠন ও এমডি নিয়োগ দেবে। সরকারের নামে নতুন শেয়ার ইস্যু করে ব্যাংকের মালিকানা সরকার নেবে। ব্যাংকটি পুরোদমে চালু হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে শেয়ার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেবে।

বিশ্বস্ত সূত্রটি জানায়, পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ নিয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা, গ্লোবাল ব্যাংক থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা, এসআইবিএল থেকে নিয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংক থেকে নজরুল ইসলাম মজুমদার নামে-বেনামে নিয়েছেন ১৮ হাজার কোটি টাকা।

একীভূতকরণের পর পাঁচ ব্যাংক পুনরুদ্ধারের যে কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মধ্যে রয়েছে- সরকার থেকে নেওয়া হবে ২০ হাজার কোটি টাকা, আমানতবিমা তহবিল থেকে নেওয়া হবে ১২ হাজার কোটি টাকা, পাঁচ ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৩ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে। এভাবে মিলবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যা থেকে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা শুরু হবে। পাঁচ ব্যাংকে মোট আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় যাওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের কাছ থেকে আরও আমানত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিআরআর ও এসএলআরসহ নীতি সহায়তা দেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় গেলে এতে আমানতকারীরা আরও বেশি আমানত রাখতে উৎসাহিত হবেন।

বিভিন্ন উপকরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে কর ছাড় চাওয়া হয়েছে। এটি পেলে এ খাত থেকে অর্থ সাশ্রয় হবে। পাঁচ ব্যাংকের গড়ে বিদেশে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক হবে। তা কাজে লাগিয়ে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে ব্যাংকে তারল্য বাড়বে। পাশাপাশি আমানতকারীদের টাকা ধীরে ধীরে দেওয়ার সঙ্গে বিনিয়োগও বাড়ানো হবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ধরে রেখে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু