জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্প
গাজায় এখনই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে
গাজায় এখনই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনের মূল পর্বের রাষ্ট্রনেতাদের বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইসরাইলের হামলায় ইতোমধ্যে ৬৫,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আমাদের গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এখনই শান্তি আলোচনা শুরু করতে হবে।’ জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে হবে বলেও জানান ট্রাম্প। বরাদ্দ ১৫ মিনিটের চেয়ে বেশি সময় ধরে ভাষণ দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের আলোচ্য বিষয়-‘বেটার টুগেদার : ৮০ ইয়ার্স অ্যান্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্টস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, হামাস বারবার শান্তির যৌক্তিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। আবার হামাসই বারবার ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, সম্প্রতি পশ্চিমা কয়েকটি দেশের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হামাসের জন্য একটি ‘পুরস্কার’। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, ‘তিন মাস আগে, অপারেশন মিডনাইট হ্যামার-এ, সাতটি আমেরিকান ই-২ বোমারু বিমান ইরানের মূল পারমাণবিক স্থাপনায় ৩০,০০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে সবকিছু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ এটি করতে পারত না।’ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প।
তিনি অভিযোগ করেছেন, সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিলেও জাতিসংঘ কোনো সাহায্য করেনি। সাতটি যুদ্ধের অবসান ঘটানোর দাবি করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে জাতিসংঘের পরিবর্তে আমাকে এসব করতে হলো।’ ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘জাতিসংঘের বিশাল সম্ভাবনা আছে, কিন্তু তারা সেখানে পৌঁছাচ্ছে না। বেশির ভাগ সময় তারা শুধু শক্ত ভাষার একটি চিঠি লিখে, কিন্তু তা অনুসরণও করে না।’ জাতিসংঘ পশ্চিমা দেশে অভিবাসন সহজ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘জাতিসংঘের কাজ হলো আক্রমণ থামানো, সৃষ্টি বা অর্থায়ন করা নয়।’ ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী শুল্ক আরোপের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।’ তিনি ইউরোপীয় মিত্রদেরও সতর্ক করে বলেছেন, ‘তাদেরও (রাশিয়া-ইউক্রেন) আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে হবে এবং একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
এদিকে, অধিবেশনের সাইড লাইনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর উচিত রুশ বিমানে হামলা চালানো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনেস্কি এ ধরনের অ্যাকশনের জন্য সহযোগিতার কথা বললে তিনি (ট্রাম্প) ইতিবাচক সংকেত দেন।
এদিকে, আল আকসায় ইসরাইলের হামলার হুমকির কড়া নিন্দা জানিয়েছেন জর্ডানের বাদশা। তিনি উল্লেখ করেন, আল আকসায় হামলার হুমকির মাধ্যমে ইসরাইল ধর্ম যুদ্ধের উসকানি ছড়াচ্ছে। আর এই যুদ্ধ ছড়িয়ে গেলে কোনো জাতিই রেহাই পাবে না বলেও সাধারণ পরিষদের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন।




আপনার মতামত লিখুন