খুঁজুন

ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা, চুক্তির আশা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা, চুক্তির আশা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা যুদ্ধের অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে মিশরীয় শহর শার্ম আল শেখে পরোক্ষ বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফিলিস্তিনি ও মিশরীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, এই বৈঠকে মূলত সম্ভাব্য বন্দি বিনিময়ের জন্য ‘মাঠ পর্যায়ের পরিবেশ তৈরি’ করা নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। যাতে ইসরায়েলি সব জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিরা মুক্তি পেতে পারে।

হামাস জানিয়েছে, তারা এই শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাবে আংশিকভাবে সম্মত হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু মূল বা গুরুত্বপূর্ণ দাবি যেমন নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যত সরকারের নিজেদের ভূমিকা নিয়ে তারা সাড়া দেয়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী শনিবার বলেছেন, ‘সামনের দিনগুলোতে’ জিম্মিদের মুক্তির ঘোষণা দেওয়ার আশা করছেন।

এই আলোচনায় ইসরায়েল এবং হামাস উভয়েরই প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বৈঠক করবেন মিশরীয় ও কাতারীয় কর্মকর্তারা।

এদিকে, সোমবার কর্মকর্তারা যখন বৈঠকে মিলিত হন, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে একটি চুক্তি করার সত্যিই ভালো সুযোগ রয়েছে এবং এটি হবে একটি স্থায়ী চুক্তি।

২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর ঠিক আগে আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই হামলায় প্রায় ১২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এই হামলার পাল্টা জবাবে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় থেকে গাজায় এই সামরিক অভিযানে ৬৭ হাজার ১৬০ জন নিহত হয়েছে, হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী যাদের মধ্যে ১৮ হাজার শিশুও রয়েছে।

ইসরায়েলে হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা “এই মর্মান্তিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য একটি সুযোগ এনে দিয়েছে যা কাজে লাগাতে হবে”।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার বার্ষিকী উপলক্ষে তার বিবৃতিতে এই পরিকল্পনার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, “আমরা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য মার্কিন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং এই সরকার এমন একটি দিন আনার জন্য আমাদের ক্ষমতার মধ্যে সবকিছু করবে যেখানে ইসরায়েলের প্রতিটি শিশু তাদের ফিলিস্তিনি প্রতিবেশীদের সাথে, নিরাপদে ও নিরাপত্তার সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।”

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছেন, আলোচনা প্রাথমিকভাবে কেবল জিম্মিদের মুক্তির ওপর আলোকপাত করবে এবং হামাসকে সেই পর্যায়টি সম্পন্ন করার জন্য কয়েক দিন সময় দেওয়া হবে।

মিশরে আলোচনায় যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি।

গাজা যুদ্ধের অবসানের প্রচেষ্টায় জড়িত সকলকে ‘দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, তাকে বলা হয়েছে, শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপের মধ্যে জিম্মি মুক্তি অন্তর্ভুক্ত।

ট্রাম্প লিখেছেন, জিম্মি মুক্তি এই সপ্তাহে শেষ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০ দফা পরিকল্পনায় একমত হয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ এবং আটক শত শত গাজার নাগরিকের বিনিময়ে ৪৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে মাত্র ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনায় শর্ত দেওয়া হয়েছে, যদি একবার উভয় পক্ষ এই পরিকল্পনায় রাজি হয় তাহলে “গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা পাঠানো হবে।”

এতে আরও বলা হয়েছে, গাজা শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না এবং চূড়ান্তভাবে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য দরজা উন্মুখ রাখা হয়েছে।

কিন্তু এক সপ্তাহ আগে প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনা ঘোষণার পর নেতানিয়াহু একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি তার দীর্ঘদিনের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এক ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটা চুক্তিতে লেখা নাই। আমরা বলেছিলাম একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি আমরা জোরালোভাবে বিরোধিতা করবো।”
শুক্রবার, হামাস এক বিবৃতিতে এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

যেখানে এই গ্রুপটি “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবে থাকা বিনিময়ের শর্ত অনুযায়ী জীবিত এবং মৃত সকল ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে” রাজি হয়েছে, যদি বিনিময়ের জন্য যথাযথভাবে শর্ত পূরণ করা হয়।

এতে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ বা গ্রহণ করা হয়নি।

কিন্তু এতে বলা হয়েছে, এটি “ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐকমত্য এবং আরব ও ইসলামী সমর্থনের ভিত্তিতে গাজা উপত্যকার প্রশাসন একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি সংস্থা বা টেকনোক্রেটের কাছে হস্তান্তরের চুক্তি নবায়ন করছে।”

হামাসের এই বিবৃতিতে পরিকল্পনার একটি প্রধান দাবির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

যেটি হলো হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে রাজি হতে হবে এবং গাজার শাসন ব্যবস্থায় আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, গাজার ভবিষ্যৎ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর অংশটি এখনো “একটি জাতীয় কাঠামোর মধ্যে” আলোচনা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে হামাসও একটি অংশ হিসেবে থাকবে বলে তারা এতে জানিয়েছে। অনেক ফিলিস্তিনি শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের এই প্রতিক্রিয়াকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করছেন।

কারণ কয়েকদিন ধরেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল যে, হামাস ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বা অন্তত কঠোর শর্তসাপেক্ষে গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পরিবর্তে, হামাস তাদের অফিসিয়াল এই বিবৃতিতে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘লাল রেখা’ অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থাকে। যেটিকে অনেকেই বহিরাগত চাপের লক্ষণ বলে ব্যাখ্যা করছেন।

ইউরোপীয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই প্রচেষ্টাকে ‘আন্তরিক এবং বলিষ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছে ইসরায়েলি অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)।

বহু বছর ধরে হামাসের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ইরানও এখন ট্রাম্পের এই গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সোমবার আলোচনা শুরুর আগেও গাজা উপত্যকার বেশ কয়েকটি অংশে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল।

বাকি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শহরে ইসরায়েল হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে।

হামাস পরিচালিত গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বিবিসিকে বলেছেন, “চার সপ্তাহ আগে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় কোনো ত্রাণের ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় এখনো এমন কিছু মরদেহ রয়েছে যা আমাদের উদ্ধার করা সম্ভব নয়।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্ধারণ করা দক্ষিণে একটি ‘মানবিক এলাকায়’ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে গাজা শহরের লাখ লাখ অধিবাসী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আরও লাখ লাখ অধিবাসী এখনো রয়ে গেছেন সেখানে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, হামলার সময় যারা থাকবে তারা ‘সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসের সমর্থক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ এক আপডেটে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৯৬ জন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে উভয় পক্ষের দাবিগুলো যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু