জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এতিম মেয়েকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট, ধর্ষণের হুমকি
খালার সাথে ষড়যন্ত্র করে এতিমের জমি জবরদখলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় জমির প্রকৃত ওয়ারিশ এতিম মেয়ে আন্নি (২০) কে বেধড়ক পিটিয়ে জখম ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ভুক্তভোগীর সাথে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও লুট করেছে আত্মীয়-স্বজনরা। গত ১৫ অক্টোবর রাতে রাজশাহীর পবা থানাধীন ওবাইয়ের মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। আন্নি কাশিয়াডাঙ্গার মৃত মোঃ নাসিরুদ্দিন হিরার মেয়ে।
ভুক্তভোগী আন্নি জানান, “আমি ওইদিন জানতে পারি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাদীপক্ষ ও দোকানদার যোগসাজশ করে দোকান ভাড়ার টাকা লেনদেন করছে। আমি ঘটনা জানার জন্য সেখানে যায় এবং প্রতিবাদ করি। কিন্তু জনি, আজানুর, সামারুল, নিরব, আমার ফুপু সেলিনা বেগম সহ ওরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলে, তুই যদি মামলা তুলে না নিস, তাহলে তোর এমন অবস্থা করবো- যাতে বিয়েতো দূরের কথা, তুই মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবি না। তখন আমি ভয়ে সেখান থেকে চলে আসি। কারণ তারা এর আগেও আমাকে কয়েকবার মারধর করেছে।”
শ্লীলতাহানির বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী আন্নি বলেন, “কাশিয়াডাঙ্গা থেকে আমার নানি বাড়ি ফদকীপাড়া যায় কিছু দরকারি কাগজপত্র নিতে। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে ওবাইয়ের মোড়ে পিছনে থেকে হঠাৎ করে জনি, আজানুর, সামারুল, নিরব, সেলিনা বেগম, শাহানাজ সহ ৭-৮ জন আমাকে জাপ্টে ধরে এবং রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে নিয়ে যেতে চাই। এ-সময় জনি আমার মুখ ও এক হাত চেপে ধরে এবং পা দিয়ে লাথি মারতে থাকে। আর আজানুর আমার আরেক হাত ধরে শরীরের স্পর্শকাতর যায়গায় হাত দেয় এবং মুখে এবং গলায় খামচি দেয়। সামারুল আমার গলা, মাথা এবং মুখে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে চোখের নীচে কালসিরা ফেলায়। একইসাথে নিরব আমার জামা এবং পাজামা খোলার চেষ্টা করে। কষ্টের বিষয় আমার ফুপু সেলিনা বেগম এবং শাহানাজ আমার চুলি মুঠি ধরে অনেক মেরেছে। অন্ধকার থাকায় আরও কয়েকজনকে স্পষ্ট চিনতে পারিনি। তবে জনি, আজানুর, সামারুল ও নিরবকে স্পষ্ট চিনেছি। আমার গলায় থাকা ৮ আনির স্বর্ণের চেন এবং ব্যাগে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আমি চিৎকার করলে স্থানীয় কয়েকজন দৌড়ে আসে। তখন বদমাশরা আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় উপস্থিত লোকজন আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরবর্তী দিন ১৬ অক্টোবর আমি রাজশাহী সরকারি মেডিকেলে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। আমি এই জঘন্য অপরাধের জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মূলত রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে অসুস্থ ও মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা গোলেনুর এর জমি তার মেয়ে সেলিনা বেগম ও নাতি নিরব গ্যাংদের চক্রান্তে প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে জোরপূর্বক লিখে নেয়ার অপচেষ্টার ফলশ্রুতিতে বাগবিতণ্ডা ও মামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী এতিম ও অসহায় আন্নি, শিরিন বেগম সহ বঞ্চিতরা আদালতের দারস্থ হয়। তথ্য-প্রমাণ, প্রকাশিত সংবাদ, স্বাক্ষ গ্রহণ শেষে রাজশাহীর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উক্ত জমির উপর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা জারি করেন। মামলা নং- ২৬০/পি/২০২৫ (কাশিয়াডাঙ্গা)। এছাড়াও আন্নিকে নিরাপত্তার জন্য ১০৭ ধারায় মামলা করেন আন্নি। মামলা নং- ৭১৯পি/২০২৫ (কাশিয়াডাঙ্গা)
ইতোপূর্বে দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলেন- ১.মোসাঃ সেলিনা বেগম (৫৫), পিতা- মৃত নওসাদ আলী @ নওসের আলী মন্ডল, বর্তমান স্বামী- মোঃ নুর ইসলাম, প্রাক্তন স্বামী- মৃত সুবেদ আলী, ২. মোসাঃ শাহানাজ বেগম (৫২), পিতা- মৃত নওসাদ আলী @ নওসের আলী মন্ডল, ৩.মোঃ জনি (২৭), পিতা- মৃত সুবেদ আলী, ৪.মোঃ আজানুর (৩৩), পিতা- মৃত সুবেদ আলী, ৫.মোসাঃ হাজেরা খাতুন (২০), পিতা- মৃত নাসির উদ্দিন হীরা, ৬.মোঃ নিরব (২৬), পিতা- মোঃ আনোয়ার মুকিত, ৭.মোসাঃ আঁখি বেগম (২১), স্বামী মোঃ নিরব– সর্বসাং: ৪৪, কাশিয়াডাঙ্গা, থানা- কাশিয়াডাঙ্গা, মহানগর রাজশাহী।
কিন্তু ১৫ অক্টোবর রাতে আন্নিকে একা পেয়ে মামলা তুলে নিতে আন্নিকে শ্লীলতাহানি করে জনি, আজানুর, সামারুল, নিরব ও তাদের গ্যাং। মূলত জনির মা সেলিনা বেগমের সাথে বাগবিতণ্ডা হওয়ায় সেলিনা বেগমের নির্দেশেই আন্নির সাথে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় একজন বলেন, ” জনি ও তার মা সেলিনা বেগম ইয়াবার ব্যবসা করে হারাম টাকার পাহাড় গড়েছে। ওই টাকার গরমেই ওরা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না”
উল্লেখ্য, ৮৩ বছর বয়সী অসুস্থ বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্যহীন গোলেনুর নিজ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নেই। সেই সুযোগেই গোলেনুর এর মেয়ে সেলিনা বেগম ও তার নাতি নিরব ষড়যন্ত্র করে আরও কিছু জালিয়াতি চক্রকে রাজি করিয়ে জমির প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে গোপনে লিখে নেয়ার পায়তারা শুরু করে। যা প্রকাশ হতেই বাধে বিপত্তি।
কারণ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মিশে বিপথে যাওয়া নিরবের মা ও মূল ষড়যন্ত্রকারী সেলিনা বেগমের আপন বোন শিরিন বেগম। আরেক ওয়ারিশ আন্নি গোলেনুর এর আপন নাতনী এবং সেলিনা বেগমের ভাইয়ের মেয়ে ও বাটপার নিরবের মামাতো বোন। অথচ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রকৃতি ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে গোপনে মানসিক ভারসাম্যহীন গোলেনুরকে ভুল বুঝিয়ে জমি লিখে নেয়ার অপচেষ্টা শুরু করে চক্রটি। সকলকে আইন অনুযায়ী সমানভাবে অধিকার বুঝিয়ে দিতে বললেই ভুক্তভোগী শিরিন বেগমকে (১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর) তার বোন সেলিনা বেগমের উস্কানিতে নিরব বেধড়ক মারধর করে। সাথে ছিলো উল্লেখিত অভিযুক্তরা। ঠেকাতে গেলে আরেক ওয়ারিশ ও ভুক্তভোগী ইভাকেও মারধর করে তারা। পরবর্তীতে এতিম মেয়ে আন্নি সেখানে ঠেকাতে তাকেও নির্মমভাবে পেটানো হয়। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম অনুসন্ধান সাপেক্ষে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।
এবিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলতে গেলে দরজার ভিতর থেকে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তারা। ইতোপূর্বে জনি, নিরব, সেলিনা বেগম গ্যাংদের মাদক চোরাকারবারির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর ব্যাপক ক্ষিপ্ত তারা। সাংবাদিকদের সাথে তারা কোনো কথা না বলে বাসা থেকে বের করে দেয়।




আপনার মতামত লিখুন