গুম, খুন, অপহরণ ও পালাক্রমে ধর্ষণ
সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ
দেশের বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম তরুণীদের টার্গেট করে পালাক্রমে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইলিং, গাজীপুরে ইমামকে গুম, দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্র সহ বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ঢাকা, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, নেত্রকোনা সহ সারাদেশে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবিতে চলছে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ।
গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুমা’র নামাজের পর দেশের বিভিন্ন যায়গায় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। বিশেষ করে নেত্রকোনায় শনিবার (২৫ অক্টোবর) খেলাফতে আন্দোলনের বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম রুহী, ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা সভাপতি মাওলানা শরিফ উদ্দিন ও সেক্রেটারি মাওলানা আবু সায়েম খান, জেলা হেফাজতে ইসলামের সদস্য সচিব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, খেলাফত আন্দোলনের নেতা মাওলানা মুস্তাফা জেহাদী, মুফতি আরিফুজ্জামান, হাফেজ জাকির হোসেন, মুফতি মুসা শেখ, মাওলানা আতাউর রহমান কমলপুরী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা ইজহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল মোতালিব, হাফেজ সাকিব আল হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, “ইসকন ধর্ম প্রচারের নামে দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশে একের পর এক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে শান্ত এই ভূমিকে বিদেশি ইন্ধনে অশান্ত করে তোলার ফন্দি এঁটেছে। চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে অ্যাডভোকেট আলিফ হত্যাকাণ্ড তার জ্বলন্ত উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরে মাদ্রাসার ১৩ বছরের এক ছাত্রীকে হিন্দু একটি চক্র পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। টঙ্গীতে একজন মসজিদের ইমামকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করে নিয়ে পঞ্চগড়ে ফেলে রেখেছে। আমরা এভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, সব ঘটনার পেছনে ইসকনের হাত রয়েছে।”
ইসকনের আওয়ামিলীগ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর এই ইসকন বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা করে দেশ-বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তারা একটি টার্গেট নিয়ে কাজ করছে। এসব অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”
শুক্রবার বাদ জুম’আ জেলা ইমাম পরিষদ যশোরের উদ্যোগে দড়াটানা ভৈরব চত্বরে মসজিদের ইমাম ও খতীবকে অপহরণের প্রতিবাদ, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন বন্ধ এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা ইসকন নিষিদ্ধ ঘোষণা, টঙ্গীতে ইমাম গুমের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার, গাজীপুর ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার এবং রাষ্ট্রীয় নীরবতার নিন্দা জানান।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “হিন্দুত্ববাদী জঙ্গী সংগঠন ইসকন দেশ বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত। দেশে এই সংগঠনের সকল কার্যক্রম বন্ধসহ অবিলম্বে বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধ করতে হবে। উগ্রবাদী এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িতরা গভীর ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ইসকনের কর্মী-সমর্থকদের দ্রুত গ্রেফতার ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যশোরের আলেম-উলামাসহ শান্তিপ্রিয় সাধারণ নাগরিকদের সময়ের দাবি উগ্রবাদী সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা। ফ্যাসিস্ট পরাজিত শক্তি এদেশে সংখ্যালঘুদের একটি অংশকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে।”
এদিকে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে পটুয়াখালীর গলাচিপায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাইউম, গলাচিপা তহসিল অফিস জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত এমপি প্রার্থী মুফতি আবু বকর সিদ্দিক, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির মাওলানা জাকির হোসাইন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উপজেলা সভাপতি মাওলানা দলিল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সমাবেশ। তাদের প্রধান দাবি- উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
বিশেষ করে দেশব্যাপী মুসলিম নারী ধর্ষণ ও ইমাম গুমের প্রতিবাদে এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুমা’র নামাজ শেষে রুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা।
মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি হয়ে তালাইমারী ঘুরে প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা, ‘শাহজালালের বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’, ‘ব্যান ব্যান, ইসকন ইসকন’, ‘ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী’, ‘গুম খুন ধর্ষণ, ইসকন ইসকন’, ‘ভারতের আগ্রাসন, রুখে দাঁড়াও জনগণসহ নানা স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসকন শুধু বাংলাদেশের মুসলিমদের শত্রু নয়, ইসকন বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ইসকন এ দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবার শত্রু। আমরা একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ গড়তে চাই। ইসকনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সীমা অনেক লম্বা। আবরার হত্যার প্রধান আসামি অমিত সাহা ইসকনের সদস্য। অ্যাডভোকেট আলিফ হত্যার সাথে ইসকন জড়িত। ইসকনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করতে হবে। টঙ্গীর মসজিদের ইমামকে গুম করেছে, ইমামকে পঞ্চগড়ে হাতে-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে, ১৩ বছরের মুসলিম মেয়েকে ধর্ষণ করেছে—ধর্ষকদের অবিলম্বে ফাঁসি দেয়া হোক।
দেশে চলমান ধর্ষণ-নিপীড়ন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী অপতৎপরতা এবং সম্প্রতি টঙ্গীতে এক মসজিদের খতিবকে অপহরণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বটতলায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের ‘ব্যান ব্যান, ইসকন’,’ইসকনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’,’অপহরণ ধর্ষণ, ইসকন’,’স্বৈরাচারের সঙ্গী, ইসকন তুই জঙ্গি’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এসময় জাকসুর পরিবেশ সম্পাদক ও শাখা শিবির স্কিল ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক শাফায়েত মীর বলেন, দেশে লাগাতার ধর্ষণ, নিপীড়ন ও ইসলামবিদ্বেষী অপতৎপরতা সমাজে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। টঙ্গীতে মসজিদের খতিবকে অপহরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা। রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা সহিংস আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জুমার খুতবায় টঙ্গী মসজিদের খতিব ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন’ ও ‘লাভ ট্র্যাপ’ নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন। এরপর থেকেই তিনি ইসকনের নাম লেখা উড়োচিঠিতে হুমকি পেয়ে আসছিলেন। হুমকির পরে গতকাল তাকে অপহরণ করা হয়। গতকাল সকালে পঞ্চগড়ের এক সীমান্তবর্তী এলাকায় এলাকাবাসী তাকে শেকল দিয়ে গাছের সাথে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে।
এছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, ইসলাম ও আলেম সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে জোরালো দাবি আসছে উগ্রবাদী কট্টরপন্থী হিন্দু সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধ করার। বিশেষ করে বিতর্কিত চিন্ময় কৃষ্ণ সহ তাদের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র ও এজেন্ডার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার সকল পায়তারা বন্ধে একাট্টা সকলে।




আপনার মতামত লিখুন