খুঁজুন

রাতারাতি বদলে গেল দিল্লি-ঢাকার কূটনৈতিক সমীকরণ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
রাতারাতি বদলে গেল দিল্লি-ঢাকার কূটনৈতিক সমীকরণ

ভারতের রাজধানীর বুকে একেবারে আক্ষরিক অর্থেই এক রাতের মধ্যে বদলে গেল দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কের রূপরেখা। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যাতেও যেখানে দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে ভারতের বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকরা, সেনা কর্মকর্তা বা থিংকট্যাংক ফেলো-রা দুই দেশের ঐতিহাসিক মৈত্রীর উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন, পরদিন (বুধবার) সকালে সেই রাষ্ট্রদূতকেই সাউথ ব্লকে তলব করে একগুচ্ছ প্রতিবাদ জানিয়ে রাখল দিল্লি।

যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকায় কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী’ যেভাবে ভারতীয় দূতাবাসকে ঘিরে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে সেটাই রাষ্ট্রদূতকে তলব করার প্রধান উদ্দেশ্য– তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের কোনো কোনো রাজনীতিবিদ যেভাবে প্রকাশ্য ভারত বিরোধী মন্তব্য করেছেন সেই সব ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানোটাও ছিল এই সমন পাঠানোর আর একটা বড় কারণ।এর আগে চাণক্যপুরীর বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রাঙ্গণে গত রাতের বিজয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ মন্তব্য করেছিলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আসলে অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক, অতি সমৃদ্ধ একটি অতীতের পটভূমিতে এর পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও অনুধাবন করা প্রয়োজন।

এই সম্পর্ককে তিনি বর্ণনা করেছিলেন ‘অর্গানিক রিলেশনশিপ’ হিসেবে, একাত্তরের যুদ্ধে যে ১৬৬৮জন ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশের ভূখন্ডে চরম আত্মত্যাগ করেছিলেন, প্রগাঢ় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছিলেন তাদের কথাও।

সেই অনুষ্ঠানে তখন হাজির বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া একাধিক ভারতীয় সেনানী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল রাকেশ কাপুর, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগের প্রধান বি শ্যাম, ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণিশংকর আইয়ার, ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা অন্তত চারজন সাবেক কূটনীতিবিদ, ওআরএফ-ব্রুকিংস-আইডিএসএর মতো বহু থিংকট্যাংকের অজস্র গবেষক ও দিল্লির প্রথম সারির সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠানের ঠিক পর রিয়াজ হামিদুল্লাহ একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা, প্রগতিশীলতা, সুফল ভাগাভাগি আর অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতেই দুদেশের মানুষের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। ওই পোস্টে তিনি ট্যাগ করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও।

রাত পোহাতেই সেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই সাউথ ব্লকে ডেকে পাঠায় হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে।

ভারত যে মনে করছে বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিবেশের দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে তারা উদ্বিগ্ন ও বিচলিত, সেটাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষ করে, ভারতের ভাষায় ‘কোনো কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠী’ যে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসকে নিরাপত্তা হুমকি তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, সে দিকেও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

সাউথ ব্লকে ওই বৈঠকের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিবিসি বাংলাকে আভাস দিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে ‘বিবৃতির লড়াই’য়ের পর এই তলব তাদের কাছে একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না।

এর আগে গত রোববার ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানির সুযোগ দেওয়া এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টার অভিযোগে’ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় রাষ্ট্রদূতের কাছে।

বস্তুত গত বছর দেড়েকের মধ্যে বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও ভারতে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের মধ্যে নানা ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি রাষ্ট্রদূত তলব, পারস্পরিক দোষারোপ ও বিবৃতি জারির অজস্র ঘটনা ঘটেছে– বুধবারের ঘটনাপ্রবাহ তাতে সবশেষ সংযোজন।

দিল্লি কেন তলব করল হাই কমিশনারকে?

বাংলাদেশে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠনের ডাকে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাই কমিশন’ নামে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল দূতাবাসের সামনে গিয়ে ‘প্রতিবাদ সমাবেশ’ করা।

যদিও এদিন স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বাংলাদেশের পুলিশ ঢাকার উত্তর বাড্ডাতে ব্যারিকেড দিয়ে মাঝপথেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়।

তাছাড়া বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম প্রায় ১৫ বছর আগে বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মরণে ‘ফেলানী এভিনিউ’ রাখার কথা ঘোষণা করে।

দেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সেই অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ সীমান্ত হত্যা বন্ধ চায়। আমাদের বোন ফেলানী কাটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় জীবন দিয়েছিল। ভারতের এই নৃশংসতা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা এই সড়কের নাম করেছি ফেলানী সড়ক।

এর ক’দিন আগেই ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি চালানো বন্দুকধারীরা ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের এক অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিপি-র শীর্ষস্থানীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছিলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের শত্রুদের তাদের ভূখন্ডে আশ্রয় দেয় তাহলে বাংলাদেশও ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোকে আশ্রয় দিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’কে (ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল) ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চাইবে।

উত্তর-পূর্ব ভারত জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দিল্লির চোখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি ইস্যু। সেই আঙ্গিকে হাসনাত আবদুল্লাহ’র এই মন্তব্যকে ভারত খুবই ‘প্ররোচনামূলক’ বলে মনে করেছে।

বিশেষ করে ভারত যেহেতু মনে করে, অতীতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহু সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় পেয়েছে এবং সে দেশের বিগত কিছু কিছু সরকার তাদের প্রশ্রয়ও দিয়েছে– তাই হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্যকে হালকা করে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই দিল্লিতে কর্মকর্তাদের অভিমত।

সাউথ ব্লকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আজ (১৭ ডিসেম্বর) সকালে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল, তার পেছনে এই সবগুলো কারণই দায়ী।

পরে ভারতের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠী একটি ‘মিথ্যা বয়ান’ (ফলস ন্যারেটিভ) তৈরি করতে চাইছে– ভারত যা সম্পূর্ণ রূপে প্রত্যাখ্যান করে।

আরো বলা হয়, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই সব ঘটনার কোনো যথাযথ তদন্তও করেনি, ভারতের সঙ্গেও কোনো অর্থবহ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেয়ার করেনি!

বাংলাদেশে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’র স্বার্থেই ভারত যে সেখানে একটি ‘সুষ্ঠু, অবাধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ চায়– দিল্লির এই পুরনো অবস্থানের কথাও রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ্-কে এদিন আনো একবার বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে মৈত্রীর আবহে যেভাবে তালভঙ্গ:

অথচ ঠিক এর আগের সন্ধ্যাতেই দিল্লি সাক্ষী থেকেছে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর এক অসাধারণ মুহুর্তের, যেখানে একাত্তরের স্মৃতিচারণায় নানা মধুর প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল দু’দেশের বক্তাদের কন্ঠেই।

বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজয় দিবস উদযাপনের সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ভারতের ফরেন পলিসির জীবন্ত কিংবদন্তি, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এম কে রাসগোত্রারও।

এম কে রাসগোত্রার বয়স এখন ১০১ পেরিয়ে গেছে, সেই শতবর্ষী লেজেন্ডকে তার দিল্লির বাসভবনে গিয়ে নিজে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

এম কে রাসগোত্রা কথাও দিয়েছিলেন আসবেন, এবং ‘৭১-র ১৬ই ডিসেম্বর কীভাবে দিল্লিতে একের পর এক ঘটনাগুলো ঘটছিল সেই স্মৃতি ভাগ করে নেবেন বলেও জানিয়েছিলেন। সে সময় রাসগোত্রা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা।

যদিও শেষ মুহুর্তে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাসগোত্রা গতকালের অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি, তবে রাষ্ট্রদূত তাঁর বদান্যতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন।

বস্তুত ভারতে অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, বাংলাদেশে গত বছর দেড়েক ধরে মুক্তিযুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশের কাঁধে কাধ মিলিয়ে লড়ার গৌরবময় ইতিহাসকে ম্লান করার একটা সচেতন প্রচেষ্টা চলছে।

সেই আবহে গত সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানকে তারা একটি খুব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবেই দেখেছেন- এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য খুব ইতিবাচক লক্ষণ বলেই মনে করেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার বিবিসিকে বলছিলেন, ঢাকায় যেখানে অন্তর্বর্তী সরকার পরপর দু’বছর বিজয় দিবসের প্যারেডই বাতিল করে দিল, আমি তো ভাবতেই পারিনি এখানে তাদের হাই কমিশন এতো ধূমধামের সঙ্গে বিজয় দিবস পালন করবে।
কিন্তু এই মৈত্রীর আবহে তালভঙ্গ হতেও বেশি সময় লাগেনি।

ওই অনুষ্ঠানের কয়েক ঘন্টা পরেই আজ সকালে যখন ভারতে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের পর্দায় লাগাতার দেখানো শুরু হল ‘সাউথ ব্লকে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব’- তখনই আবার সবাই অনুধাবন করলেন সম্পর্ক মেরামতের যত যা-ই চেষ্টা হোক, দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সব কিছু মোটেও ঠিকঠাক চলছে না!

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু