খুঁজুন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ, ১৪৩২

গোপন নথি ফাঁস: অর্থ-অস্ত্র দিয়ে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
গোপন নথি ফাঁস: অর্থ-অস্ত্র দিয়ে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে আরব আমিরাত

গাজায় চলমান যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে লোহিত সাগরে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার।

ফাঁস হওয়া একটি গোপন নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘এমিরেটলিকস’ নামের একটি অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম নথিটি সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেছে।

নথিটির তারিখ অক্টোবর ২০২৩। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ অভিযান কমান্ডের উদ্দেশে লেখা। নথিটির লেখক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের নাম। তিনি আল-ধাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি ও ইউএই রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।

নথির শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার’ প্রেক্ষাপটে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ‘ঐতিহাসিক চুক্তির’ আলোকে ইসরায়েলকে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, যৌথ অভিযান কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থিত ইউএই সামরিক ঘাঁটিগুলো, যেমন- ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আল-মোখা, ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব এবং সোমালিয়ায় থাকা ঘাঁটিগুলো—ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিশেষ করে ইয়েমেনে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা দিয়ে প্রস্তুত করার কথা এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলকে শক্তিশালী করা’ এবং ‘সন্ত্রাসীরা পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত’ এই সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ‘সামাজিক সংহতি’ বাড়াতে তথাকথিত ‘কমিউনিটি উদ্যোগ’ চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান এবং সামরিক প্রযুক্তি’ ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ, সমন্বিত ও সমন্বয়পূর্ণ’ সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান। এতে নিশ্চিত করা হয়েছে, ইসরায়েলকে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে।

নথির একটি অংশে কাতারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে হামাসকে কাতারের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কুয়েতও ‘কাতারের সঙ্গে মিলিত হয়ে’ ফিলিস্তিনে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোকে ‘বিপুল আর্থিক সহায়তা’ দিচ্ছে। এটিকে ইউএইর রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে এবং কুয়েতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ‘স্পষ্ট বিরোধিতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে ইউএইর পূর্ববর্তী সম্পর্ক এমন যে, তা দেশটিকে সহযোগিতা ও সংকট–সচ্ছলতা উভয় সময়েই পাশে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএই ও ইসরায়েলের মধ্যে সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ২০২০ সালের ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’র পর থেকে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইউএই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করতে চাপ দিয়ে আসছে।

এর আগেও, ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধ শুরুর পরবর্তী সময়ে, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইয়েমেনের বিভিন্ন বন্দর, দ্বীপ ও নৌপথে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে ইউএই সেনাবাহিনী। একইভাবে সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকাতেও ইউএই সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।

গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে আবুধাবি ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে ইউএই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আরব বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবেও বিবেচিত।

২০২৪ সালে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘বালকান ইনসাইট’ প্রকাশ করে, ইউএই–সংযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ইয়ুগোইমপোর্ট–এসডিপিআর সামরিক বিমানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের অস্ত্র ইসরায়েলে রপ্তানি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অস্ত্র সরাসরি গাজায় চলমান গণহত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউএইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাবেক মোসাদ প্রধানের সহ-প্রতিষ্ঠিত সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএম সাইবারের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যার লক্ষ্য জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এক্সএম সাইবার ইসরায়েলের শীর্ষ সামরিক প্রতিষ্ঠান রাফায়েলসহ অন্যান্য এলিট প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে একটি কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে কাজ করছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সংবেদনশীল জ্বালানি, তেল ও তথ্যখাতকে লক্ষ্য করে।

এদিকে ইউএইর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা জোট ‘এজ’ ইসরায়েলের শীর্ষ অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রাফায়েল ও ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)-এর শেয়ার ধারণ করে বলেও নথি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

লীগের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা শীর্ষ পদে

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পদায়নে আওয়ামী পুনর্বাসনের নানা অভিযোগ ও বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পদায়নে আওয়ামী পুনর্বাসনের নানা অভিযোগ ও বিতর্ক

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে সাম্প্রতিক বদলি ও নিয়োগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলের ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের দিয়েই সচিবালয় সাজানো হচ্ছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। সম্প্রতি এই পদায়ন নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত আইনজীবীরা। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বিতর্কিত শেখ আশফাকুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রুহুল আমিন। এই দুই কর্মকর্তার অতীতের বিতর্কিত ভূমিকা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তখন ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখব আমরা অম্লান’ স্লোগানে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। দেশের অন্য কোথাও বিচারকদের এমন সমাবেশ দেখা না গেলেও চট্টগ্রামে বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত ওই সমাবেশে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।

দেশের ইতিহাসে বিচারকদের আচরণবিধি উপেক্ষা করে এ ধরনের সমাবেশে অংশ নিয়ে দলীয় আনুগত্য পোষণকারী এই বিচারক পরে আরও ভালো ভালো পেস্টিং ও সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। অথচ দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন সে ব্যক্তিকেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সচিবালয়ের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিচারকরা। সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিচারক গণমাধ্যমে বলেন, বিচারক শেখ আশফাকুর রহমান বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন সুবিধাভোগী। বিচার বিভাগে ফ্যাসিজম কায়েমের দায়ে তার শাস্তি হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সেটা না হয়ে তিনি পুরস্কৃত হচ্ছেন।

শুরুতেই যদি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়, তাহলে স্বাধীন সচিবালয় হবে কীভাবে- এমন প্রশ্ন রেখে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খান গণমাধ্যমে বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বাস্তবায়ন জরুরি। বিগত সময়ের বিচার বিভাগের নতজানু অবস্থা এবং রাজনৈতিক ফরমায়েশি রায়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্তির জন্যই আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি ছিল। কিন্তু পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় প্রথম পদায়নেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের সেখানে পদায়ন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের অনেকেই এই নিয়োগ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে এই নিয়োগের ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ২ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে এবং অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ রুহুল আমীনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া অন্য এক প্রজ্ঞাপনে যুগ্ম সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ বি এম তারিকুল কবির, উপসচিব হিসেবে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুল ইসলাম ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সুব্রত ঘোষ শুভ, সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে মহসিনা হোসেন তুষি ও সাদিয়া আফরিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগের পরপরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় আদালত প্রাঙ্গণে। এরমধ্যে বেশি সমালোচনা চলছে সচিব নিয়োগ নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বিচারকরা রাজপথে সমাবেশ করেন। ওই সমাবেশের নেতৃত্ব দেন বিচারক শেখ আশফাকুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন বিচারকরা। নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন সংলগ্ন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সামনের সড়কে ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখব আমরা অম্লান’ স্লোগানে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন করেন তারা। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যান।

সমাবেশে বক্তৃতায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান বলেন, বিচারক হলেও আমরা মানুষ। তাই আজ হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, যখন জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনে দেশে একটা ন্যক্কারজনক উদ্যোগ ও তার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আমরা। যেটা আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে একটি মৌলবাদী গ্রুপ। এ ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপ পৃথিবীর যে দেশেই কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তারা শুধু দেশের নয় ইসলামের ক্ষতি করেছে সবচেয়ে বেশি। তারা জানে না, তাদের জানা কত কম। ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্য, যেখানেই তা গেছে প্রচারের জন্য সেখানকার কৃষ্টি সংস্কৃতিকে ধারণ করে নিয়েছে। কিন্তু এখন কিছু মৌলবাদী গ্রুপ বুঝতেই চাইছে না। ইসলাম প্রচারিত ও প্রসারিত হয়েছে সৌন্দর্যের মধ্যে। কূপমণ্ডূক কিছু মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে ইসলামের।’

জানা গেছে, বিতর্কিত শেখ আশফাকুর রহমানের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তার পিতার নাম অ্যাডভোকেট দেলদার রহমান। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে দুবারের জন্য সভাপতি হয়েছিলেন। কট্টর আওয়ামী পরিবারের সদস্য আশফাকুর রহমান বিচার বিভাগে আওয়ামী তন্ত্র চালিয়েছে ব্যাপকভাবে। শুধু প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণই নয়, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সুবিধাভোগীদের অন্যতম একজন। আওয়ামী লীগ আমলে আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কোর্ট, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ, সিলেট মহানগর দায়রা জজসহ গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় ছিল বিচারক আশফাকুর রহমানের পোস্টিং।

এখানেই শেষ নয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাত্র তিন মাস আগে ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত শেখ হাসিনার পক্ষে জুডিসিয়াল ক্যু করার চেষ্টাকারী সাবেক প্রধান বিচারপতির ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে আমেরিকা সফর করেন তিনি। চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় বিচারকদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে পরিচালক পদে পদায়ন পান। কিছুদিনের জন্য আশফাকুর রহমানকে সিলেটের জেলা জজ হিসেবে পাঠানো হলেও তিনি আবার ঢাকায় লিগ্যাল এইডের পরিচালক হিসাবে পদায়ন নিয়ে চলে আসেন। এবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের শীর্ষ পদটিও বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

সচিবের পাশাপাশি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ রুহুল আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও আওয়ামী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে রাজবাড়ীর জেলা জজ হন। সবশেষ আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ করা হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে এভাবে সুবিধাভোগীদের সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষমতায় গেলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
ক্ষমতায় গেলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনোভাবেই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেল-এ ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গৌরব অর্জন ও ধারণ করার বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর নিজেদেরই নিতে হবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হবে না। পেশাদারিত্ব যেন রাজনীতির আড়ালে চাপা না পড়ে, সে বিষয়ে সেনাসদস্যদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়- এমন কোনো কাজ বিএনপি অতীতে করেনি, বর্তমানেও করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তার মতে, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও শক্তিশালী থাকে।

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিবসটিকে শহীদ সেনা দিবস, সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে যুক্ত করা হলে তাদের মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয় বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সেনা সদস্যরা নিজের বিবেককে প্রশ্ন করলে অনেক বিষয়ে উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিকল্পিত ওই হত্যাযজ্ঞের দিনটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়নি বা করতে দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হয়েছিল।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং সেনাবাহিনীর কিছু বিধিমালা সংস্কারসহ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সুপারিশের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা-নেই কার্যালয়

সেই ‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত, চলছে অনুসন্ধান

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
সেই ‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত, চলছে অনুসন্ধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘পাশা’ (পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট) নামে একটি দেশি সংস্থাকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

আজাদ মজুমদার বলেন, ‘আজকের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব এ বিষয়ে (পাশা) অবহিত করে বলেন, সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে পাশা নামে একটি এনজিও দাবি করেছে যে তারা ১০ হাজার নির্বাচনি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেবে। বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশন তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। যাচাইবাছাই করে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপাতত তাদের পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি বলেন, এখন পর্যন্ত ওই এনজিওটির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও বাহিনী মোতায়েন কার্যক্রম নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে, কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণও হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটি খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট, উই আর ভেরি হ্যাপি। আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে টু মেক ইট পারফেক্ট। ভোটটা যাতে পারফেক্ট হয়, সেটা হচ্ছে আমাদের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভোট উৎসবমুখর হবে, সেখানে নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন। মানুষ পুরো পরিবার নিয়ে একসঙ্গে ভোট উৎসবে যোগ দেবে। আমি আশা করি, এই ভোট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, পুলিশকে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্র, তার মধ্যে ২৫ হাজার ৭শ বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। এই বডি ক্যামেরা কীভাবে কাজ করছে, আজকের মিটিংয়ে প্রথমেই রেন্ডমলি পাঁচটা জায়গায় প্রধান উপদেষ্টা যারা বডি ক্যামেরা বহন করছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপও এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে। এই নির্বাচনে সুরক্ষা অ্যাপটা শুধু তারাই ব্যবহার করবেন, যারা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে থাকবেন। কোনো নির্বাচন কেন্দ্রে বা নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে যদি গণ্ডগোল-গোলযোগ হয়, কোনো সংঘর্ষ হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে খুব দ্রুত বিভিন্ন সিকিউরিটি ফোর্সের কাছে বার্তা চলে যাবে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে বার্তা চলে যাবে। সেন্ট্রালি নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা চলে যাবে। এর ফলে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ফোর্স তারা খুব দ্রুত ইন্টারভেন করতে পারবেন। খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। এটা হচ্ছে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপের কাজ।

তিনি বলেন, এবারে নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৪০০ জন এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক ৫০ হাজার থাকবেন।

এসব পোস্টাল ব্যালটের ভোট কিভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে-সে বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ জানতে চেয়েছে বলেও অবগত করেন তিনি।

‘পাশা’ নামে যে পর্যবেক্ষক সংস্থাটির ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড দেয়া স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন বলেও জানান শফিকুল।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন-আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনের ভোটটা সুষ্ঠু ও সঠিক যেন হয়। নির্বাচনের সময়টা আসলে একটা কঠিন সময় পার করা হচ্ছে জানান প্রেস সচিব।

আগমী ১২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত থেকে পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, জানা যায়- নিজের বাসার একটি কক্ষকে সংস্থার কার্যালয় বানিয়ে এক ব্যক্তিনির্ভর সংস্থা ‘পাশা’ একাই ১০ হাজার পর্যবেক্ষকের জন্য আবেদন করে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নামের জনৈক ব্যক্তি।

সংস্থার লোকবল বলতে তিনি একজনই। এ নিয়ে একটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া পাশা নামক ওই এনজিওর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও নানা মহলে অভিযোগ উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পদায়নে আওয়ামী পুনর্বাসনের নানা অভিযোগ ও বিতর্ক ক্ষমতায় গেলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না বিএনপি: তারেক রহমান সেই ‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত, চলছে অনুসন্ধান তওবা করে নাও, অন্ধকার জগতের রাজারা রক্ষা পাবে না: শিবির সভাপতি সাদ্দাম মারাত্মক আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ, বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র