রাজারহাটে মাদরাসায় নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ
নিয়োগে ৫ কোটি টাকার বাণিজ্য, তদন্ত চেয়ে ডিজি বরাবর স্মারকলিপি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসায় ভুয়া নিয়োগ, নজিরবিহীন জালিয়াতি এবং কোটি কোটি টাকার এমপিও বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে গত ৫ মাসে অন্তত ২০টি পদে অবৈধভাবে এমপিওভুক্ত করে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সচেতন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ।
বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুল আউয়াল এনটিআরসিএ-র কোনো সুপারিশ ছাড়াই তার দুই মেয়েকে অবৈধভাবে এমপিওভুক্ত করেছেন। এমনকি জালিয়াতির দায়ে পূর্বে এমপিও বাতিল হওয়া মেয়েকেও পুনরায় ভিন্ন পদে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এছাড়া সেখানে অস্তিত্বহীন ল্যাবরেটরির বিপরীতে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদরাসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে এডহক কমিটি থাকা সত্ত্বেও, সভাপতির (ইউএনও) অজান্তে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর জাল করে সুপারের পুত্রসহ তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বুড়িরহাট আব্দুস সামাদ মন্ডল দাখিল মাদরাসা ও রাজমাল্লীরহাট ফাজিল মাদরাসাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ডিজি’র প্রতিনিধির ভুয়া চিঠি এবং পত্রিকায় জাল বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি পদের বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদরাসায় নিয়োগের আগেই ৭৫ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের তথ্য ফাঁস হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ ও ২০২২ সালের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ান পদে এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও রাজারহাটের এই চক্রটি সরাসরি ভুয়া নিয়োগ দিয়ে এমপিও হাসিল করছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে খন্দকার আরিফ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাইদুল ইসলামসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে এই ‘নিয়োগ কেলেঙ্কারি’র সাথে জড়িত মাদরাসা সুপার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুয়া এমপিও বাতিলের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসকে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে এবং প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং সংযুক্ত করা হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন