ময়মনসিংহ-১১ আসন
বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় মধ্যরাতে আটক, ৬ জনকে কারাদণ্ড
ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে ৬ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- আবদুল হামিদ (৭৫), মো. তানভীর (৪২), গোলাম রাব্বী (২৩), মেহেদী হাসান (৪০), মো. শামসুদ্দিন (৭৪) ও গোলাম শহীদ (৫০)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৬টি মুঠোফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি হিসাবের খাতা এবং একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগাজান এলাকায় ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের গোপন তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ ছিল, ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের পক্ষে ওই টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনকে আটক করে। তবে সেখানে উপস্থিত প্রায় ৩০ জনের একটি দলের অন্য সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম কাউসার জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
আটক ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অপর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মায়ের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় ৬ জনকে হাতেনাতে আটক করে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হিসাবের খাতায় কোন মহল্লায় কবে, কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে বা করা হবে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ঠেকাতে প্রশাসনের এমন তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




আপনার মতামত লিখুন