খুঁজুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হলেও ট্রাম্প আর মোদির ভাষ্যে ‘ফারাক’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হলেও ট্রাম্প আর মোদির ভাষ্যে ‘ফারাক’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন যে, ভারত বাণিজ্য বাধা শূন্যে নামিয়ে আনবে এবং রাশিয়ান তেল কেনাও বন্ধ করবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে দিল্লির অস্বীকৃতির জন্য আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করা হবে।

প্রায় দুই দশক ধরে চলমান আলোচনার অবসান ঘটিয়ে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই ঘোষণাটি এলো।

এর আগে, সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে চুক্তির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীও। মি. মোদি বলেছেন, আমেরিকার সাথে একটি চুক্তি হওয়ায় তিনি “আনন্দিত”।

এদিকে, নিজের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদির সাথে সকালের ফোনালাপে বাণিজ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

“তিনি রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভবত ভেনেজুয়েলা থেকে আরও অনেক তেল কিনতে সম্মত হয়েছেন,” বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প আরও বলেন, মোদির অনুরোধে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে “একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন” যার মাধ্যমে শুল্ক কমানো হবে এবং ভারতের শুল্ক এবং অ-শুল্ক বাধা শূন্যে নেমে আসবে।

৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের আমেরিকান পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি, যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং কয়লাজাত পণ্য, বলেন ট্রাম্প।

তবে, দুই জনেই চুক্তির সম্মত হওয়ার কথা জানালেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প আর নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে বেশকিছু পার্থক্যও সামনে ধরা পড়েছে।

ট্রাম্প আর মোদির ভাষ্যে ফারাক:

ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলে খুবই আনন্দিত। এটা জেনে খুব খুশি হয়েছি যে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র অধীনে উৎপাদিত পণ্যের ওপরে এখন ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই দারুণ ঘোষণার জন্য ভারতে ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনেক-অনেক ধন্যবাদ।”

“যখন দুটি বৃহৎ অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একসাথে কাজ করে, তখন এটি আমাদের জনগণের উন্নয়ন করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য প্রচুর সুযোগ তৈরি করে,” তিনি আরও যোগ করেন।

প্রসঙ্গত, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ হলো ভারত সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প, যাতে দেশীয় পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করা হয় নানা ভাবে।

তবে ট্রাম্প যে বলেছেন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত, মি. মোদির পোস্টে এর উল্লেখ নেই।

আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপরে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হবে, নরেন্দ্র মোদির পোস্টে এটারও উল্লেখ নেই।

মি. ট্রাম্প লিখেছেন যে ভারত আমেরিকার কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলার মূল্যে পণ্য কিনবে, তবে ভারতের তরফ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়ার বৈশ্বিক রাজনীতির ওপরে নজর রাখা বিশ্লেষক মাইকেল কুগলম্যান এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ট্রাম্প দাবি করছেন যে মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার ব্যাপারে সহমত হয়েছেন। আমার এই ব্যাপারে সন্দেহ আছে”।

“যদিও নভেম্বরে রাশিয়ার ওপরে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে। আমেরিকার সাথে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনো অনেক বিষয়ই স্পষ্ট নয়। ভারত কি কৃষির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে দেবে? আগে কোনো সমঝোতা না হওয়ার পেছনে তো এটাই একটি বড় কারণ ছিল,” লিখেছেন মি. কুগলম্যান।

মি. ট্রাম্প যে দাবি করেছেন যে ভারত ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমেরিকা থেকে আমদানি করবে, তা নিয়েও সন্দেহ আছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৪ সালে ছিল ২১২ কোটি ডলার।

অগাস্ট মাসে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর থেকেই আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে – যা এশিয়ার কোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ।

এছাড়া রাশিয়ান তেল কেনার কারণে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানাও।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ান তেল কেনার সঙ্গে সম্পর্কিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে এবং অন্যান্য শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনা হবে।

ট্রাম্পের শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রপ্তানি তীব্রভাবে হ্রাস পায়। এর পর থেকেই, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সাথে লড়াইরত অন্যান্য দেশের সাথে অংশীদারিত্বের চেষ্টাও করছিলেন দিল্লির কর্মকর্তারা।

ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত সপ্তাহে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করেছে। যেখানে ভারত এবং ২৭টি ইউরোপীয় রাষ্ট্রের ব্লকের মধ্যে প্রায় সমস্ত পণ্যের উপর কর কমানোর কথা জানানো হয়েছে।

এই দুই পক্ষই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দ্য মাদার অফ অল ডিলস’ বা সব চুক্তির সেরা চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উর্সুলা ভন ডের লেয়ন। এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউ রপ্তানি দ্বিগুণ হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস সংস্থা প্যানজিয়া পলিসির প্রতিষ্ঠাতা টেরি হেইনস ওয়াশিংটন-দিল্লি চুক্তি নিয়ে বলেছেন, “যারা মনে করেন যে ইইউ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে বা তার উপর ভর করে গতি অর্জন করছে, এটা তাদের উত্তর”।

তিনি আশা করেন অভ্যন্তরীণ মার্কিন বাজার এই চুক্তিটি নিয়ে “উল্লাস” করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮০০ ক্ষুদ্র ব্যবসার জোট, উই পে দ্য ট্যারিফস, এই ঘোষণার সমালোচনা করে বলেছে যে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাস্তবায়নের আগে, আমেরিকান আমদানিকারকরা ভারত থেকে আসা পণ্যের উপর গড়ে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ কর দিতেন।

“এই ‘চুক্তি’র ফলে আমরা এক বছর আগে যা কর দিচ্ছিলাম তার চেয়ে ছয় গুণ বেশি হারে কর আদায় করা হচ্ছে,” সংগঠনের পরিচালক ড্যান অ্যান্থনি বলেন, “এটি স্বস্তি নয়, এটি একটি স্থায়ী কর বৃদ্ধি যা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে”।

এদিকে, ট্রুথ সোশ্যালে দিল্লির সাথে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন শেয়ারের দাম বেঁড়েছে পুঁজিবাজারে।

বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা নিয়ে ভারতের রাজনীতিবিদরা কী বলছেন:

যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার পরে ভারতের রাজনৈতিক মহল প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে অমিত শাহ তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ভারত-মার্কিন সম্পর্কের এটি একটি স্মরণীয় দিন, কারণ মাত্র ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেই বাণিজ্য চুক্তিটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত হবে আর দুটি দেশের মধ্যে সহযোগিতার পথ পরিষ্কার হবে”।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এখন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, “এই চুক্তি দুটি অর্থনীতিতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি আরও জোরদার হবে এবং কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে”।

অন্যদিকে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই চুক্তি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে।

তারা এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে যে পাকিস্তানের সঙ্গে গত বছরের যুদ্ধবিরতির মতোই বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণাও মি. ট্রাম্পের দিক থেকে এসেছে এবং বলা হয়েছে যে ‘মোদির অনুরোধে’ বাণিজ্য চুক্তি করা হচ্ছে।

তারা আরও কিছু প্রশ্ন তুলেছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে।

তারা বলেছে, “ট্রাম্প বলছেন যে আমেরিকার পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক এবং অ-শুল্ক বাধাসমূহ শূন্যে নামিয়ে আনবে ভারত। অর্থাৎ আপনি আমেরিকার জন্য পুরো বাজারটাই উন্মুক্ত করে দিলেন। এর ফলে ভারতীয় শিল্পের বড়ো ক্ষতি হবে। এখানকার ব্যবসায়ী, এখানকার কৃষক – আপনি কারও পাশে দাঁড়ালেন না”।

তারা এও বলেছে, “আমেরিকার জন্য কৃষি খাত উন্মুক্ত করার কথা হচ্ছে, আসল চুক্তিটা কী হয়েছে? আমাদের কৃষকদের হিতের কথা মাথায় রাখা হয়েছে, না কি তাদের পাশ থেকেও সরে গেলে? আমাদের কৃষকদের সুরক্ষা কীভাবে সুনিশ্চিত করা যাবে?”

“বলা হচ্ছে যে মোদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবেন না, আমেরিকা আর ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করবেন। বাণিজ্য চুক্তিতে কি মোদি সরকার রাশিয়ার সঙ্গ-ত্যাগের প্রশ্নে রাজি হয়েছে?” প্রশ্ন কংগ্রেস দলের।

তারা এই দাবিও করেছে যে পুরো বিষয়টা দেশ আর সংসদের সামনে পেশ করা উচিত সরকারের।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু