ব্যবসায়ীদের ধরে এনে করতো নির্যাতন
‘এক-এগারোর’ হোতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন: আইনজীবী
ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একটা টাস্কফোর্স করা হয়। সেই টাস্কফোর্সের প্রধান ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সেখানে এমন কোনো ব্যবসায়ী নেই, ধরে এনে নির্যাতন করা হয়নি। ব্যবসায়ীদের নির্যাতন করে ট্রুথ কমিশনের নামে যে টাকা আদায় করা হয়, তার বেশিরভাগই নিজে আত্মসাৎ করেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রিমান্ড শুনানিতে এসব কথা বলেন ঢাকার মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী।
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক রায়হানুর রহমান। জনাকীর্ণ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি আরও বলেন, ওয়ান ইলেভেনে মাইনাস টু ফর্মুলার জনক ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পরবর্তীতে জনরোষ তৈরি হলে তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটা সাজানো নির্বাচন দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। এর পুরস্কার হিসেবে তাকে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত করা হয়। সেখান থেকে দেশে এসে চব্বিশের আমি-ডামির নির্বাচনে গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে এমপি হন তিনি।
মহানগর পিপি বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হোতা। ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়েন। তাদের অপকর্মের কারণেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। একজন আসামির স্বীকারোক্তিতে তার নাম এসেছে।
এ চক্রের হোতাদের বের করাসহ মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা আবশ্যক।
আসামিপক্ষে আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন রিমান্ড বাতিলসহ জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি মামলা আছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকায় মামলা আছে ৫টি। মোট মামলা ১১টি। প্রাথমিকভাবে তাকে পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মানবপাচারের অভিযোগে এ মামলায় করা হয়। ১১টি মামলার মধ্যে ফেনী জেলার ৩টির বিচার কার্যক্রম চলমান। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় তিনি পলাতক ছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতোয়ালী, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানবপাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা আছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।




আপনার মতামত লিখুন