কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারে হামলা
ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই: ট্রাম্প
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (৩০ মার্চ) ৩১তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান ট্রাম্প:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের তেল সম্পদ কবজা করতে চান এবং দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, আমার সবথেকে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নির্বোধ লোক আছে যারা প্রশ্ন তোলে—কেন আমি এমনটা করছি? তারা আসলে বোকা লোক।’
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন , এই তেল দখলের জন্য খারগ দ্বীপ সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, আবার হয়তো করব না। আমাদের সামনে অনেক পথ খোলা আছে। তবে এর মানে হলো আমাদের সেখানে (খারগ দ্বীপে) কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
দ্বীপটিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেমন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তা তুচ্ছ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারব।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩,৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে। সংঘাত আরও বাড়লে মার্কিন সেনারা ইরানি হামলার সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে বড় ধরনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও জানান, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে শিগগিরই কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেন, ‘খুব দ্রুতই একটি সমঝোতা হতে পারে।’
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের হামলা, ভারতীয় শ্রমিক নিহত:
কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের হামলায় একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। কুয়েত কর্তৃপক্ষ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘কুয়েত রাষ্ট্রের ওপর ইরানের চলমান আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সেখানে কর্মরত একজন ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ভবনটির ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার পরপরই কারিগরি ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্ল্যান্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে।
এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলায় প্ল্যান্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েত সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মালিক ট্রাইনা জানিয়েছেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই কুয়েত বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মাত্র গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ড্রোন একটি সামরিক ক্যাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যেখানে ১০ জন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’




আপনার মতামত লিখুন