মিস্টার হাসনাত আবদুল্লাহ এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ: স্পিকার
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধিত আকারে পাস হওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্কের একপর্যায়ে সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতকে (হাসনাত আব্দুল্লাহ) সতর্ক করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, “মিস্টার হাসনাত আব্দুল্লাহ এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় জাদুঘর বিলের সংশোধনী, ‘সমঝোতা ভঙ্গের’ অভিযোগ এবং বাকি অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্কের মধ্যে স্পিকার তাকে এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করেন।
সংসদে উত্থাপনের পর বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য নেওয়া হয়। যদিও সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এই অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ করেছিল, পরে অধিবেশনে ৮ ধারায় তিনটি সংশোধনী এনে বিলটি সংশোধিত আকারে পাস হয়। তার আগে বিতর্কের একপর্যায়ে স্পিকার সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক বিল পাস হলেও সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ‘চমৎকার সমঝোতা’ দেখা গেছে, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল।
অতীতের কয়েকটি সংসদের কথা টেনে স্পিকার বলেন, “তখনকার তুলনায় বর্তমান সংসদের পরিবেশ অনেক ভালো এবং সহনশীল।”
জনাব হাফিজ উদ্দিন যখন সহযোগিতার এই পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছিলেন, তখন আবুল হাসনাত নিজের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানাতে থাকেন। তখন কক্ষে হৈচৈ তৈরি হয়।
এ সময় স্পিকার তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “মিস্টার আব্দুল্লাহ, দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার। দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে।”
এরপরও কক্ষে চিৎকার-চেচামেচি শোনা যায়। তার মধ্যেই বৈঠকের সভাপতি তার বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, সংসদে মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত, আপত্তি থাকলে লিখিত নোটিস দিতে হবে।
তার ভাষায়, “নোটিস দেবেন, উইল অ্যাডজুডিকেট অন দ্য নোটিসেস।”
এ ঘটনার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬ পাস নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি তোলা হয়।
বিরোধী দলের অভিযোগ, বিশেষ কমিটিতে যেসব অধ্যাদেশ হুবহু পাসের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছিল, সেই তালিকায় থাকা একটি বিলেই শেষ মুহূর্তে সংশোধনী এনে ‘সমঝোতা ভঙ্গ’ করা হয়েছে।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, জাদুঘর বিলটি ৯৮টি ঐকমত্য হওয়া অধ্যাদেশের একটি ছিল। তাদের ভাষ্য, ওই সমঝোতার কারণেই তারা এসব বিলে আপত্তি বা সংশোধনী দেননি। কিন্তু জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিলের ক্ষেত্রে আধা ঘণ্টা আগে সংশোধনী এনে তা পাস করানো হয়েছে, যা রাজনৈতিক ‘সমঝোতার ব্যত্যয়’।
ওই বিতর্কের জবাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ব্যাখ্যা দেন।
তারা বলেন, মূল সমঝোতার ভিত্তিতেই বিল সংসদে এসেছে, তবে একজন সেসরকারি সদস্য সংশোধনী এনেছেন এবং সংসদ তা গ্রহণ করেছে। সরকারের বক্তব্য, বিষয়টি চাইলে ভবিষ্যতে আবারও আলোচনায় আনা যেতে পারে।
স্পিকারও বিতর্কের মধ্যে বিরোধী দলের আপত্তিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, সংসদের পরিবেশ ভালো রাখতে হবে, মতভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে তা সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তুলতে হবে। তিনি বলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ নয় এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সংশোধনী আনার সুযোগ আছে।
তবে এই আশ্বাসে বিরোধী দল সন্তুষ্ট হয়নি। ‘বিশ্বাস ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পরে সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউটের’ ঘোষণা দেন।







আপনার মতামত লিখুন