খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ম্যার্ৎসের সঙ্গে ট্রাম্পের বিবাদ: জার্মানি থেকে ৫০০০ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
ম্যার্ৎসের সঙ্গে ট্রাম্পের বিবাদ: জার্মানি থেকে ৫০০০ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎসের মধ্যে চলমান বিবাদের মধ্যে জার্মানি থেকে ৫,০০০ সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

বিবিসি লিখেছে, ইরানি আলোচনাকারীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘লজ্জিত’ হয়েছে বলে জার্মান নেতা ইঙ্গিত দেওয়ায় তার সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। এর পরদিনই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এল।

গত বৃহস্পতিবার সোশাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ম্যার্ৎস ‘খুবই বাজে কাজ করছেন’ এবং অভিবাসন, জ্বালানিসহ তার ‘সব ধরনের সমস্যা’ রয়েছে। ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিপুল সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিজুড়ে বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৩৬ হাজারের বেশি সক্রিয় সেনা মোতায়েন ছিল।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছ থেকে এই নির্দেশ এসেছে।

তিনি বলেন, “ইউরোপে বাহিনীর অবস্থান নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর এবং যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে এ সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।”

নেটো জোটের দীর্ঘদিনের সমালোচক ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ফের চালু করার অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মিত্রদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন।

ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি সম্ভবত তা করব—দেখুন, কেন করব না?

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইতালির প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ইতালি আমাদের কোনো সাহায্য করেনি এবং স্পেন ছিল ভয়াবহ।”

ট্রাম্প বলেন, “সব ক্ষেত্রেই তারা বলেছে, ‘আমি এর মধ্যে জড়াতে চাই না’।”

ম্যার্ৎস এই সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বলেছিলেন, “আমেরিকানদের স্পষ্টত কোনো কৌশল নেই”। যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার ‘কৌশল’ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, “ইরানিরা স্পষ্টতই আলোচনায় অত্যন্ত দক্ষ, অথবা বলা যায় আলোচনা না করতে অত্যন্ত দক্ষ; তারা আমেরিকানদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত সফর করিয়ে কোনো ফল ছাড়াই ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।”

ম্যার্ৎস এও বলেন, ‘পুরো জাতি’ ইরানি নেতৃত্বের মাধ্যমে ‘লজ্জিত’ হচ্ছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার প্লাটফর্ম ট্রুথ সোশালে বলেন, ম্যার্ৎস মনে করেন- ‘ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক আছে’ এবং তিনি ‘কী বলছেন তা নিজেই জানেন না’।

পোস্টে লেখা ছিল, “এ কারণেই জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে এবং অন্যান্য দিক থেকে এত খারাপ করছে!”

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ওয়াশিংটনে জার্মান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

ইউরোপের মধ্যে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা রয়েছে; এর পরে ইতালিতে রয়েছে ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার সেনা।

তাদের অনেকেই দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির কাইজারস্লটার্ন শহরের বাইরে রামস্টেইন বিমান ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন। ট্রাম্প এর আগেও জার্মানিতে সেনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে সেগুলো কার্যকর হয়নি। একমাত্র জাপানে এর চেয়ে বেশি মার্কিন সেনা উপস্থিতি রয়েছে।

২০২০ সালে জার্মানি থেকে ১২ হাজার সেনা সরিয়ে ইউরোপে অন্য কোনো নেটো দেশে বা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রস্তাব কংগ্রেস আটকে দিয়েছিল; পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা বাতিল করেন।

সেই সময় ট্রাম্প জার্মানিকে ‘খেলাপি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। কারণ দেশটির সামরিক ব্যয় নেটোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ২ শতাংশের অনেক নিচে ছিল।

তবে ম্যার্ৎস সরকারের আমলে সেই চিত্র নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৭ সালে জার্মানি ১০৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—আগামী বছর তাদের মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত বছর রোমানিয়া থেকেও সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা ছিল ইউরোপ থেকে মার্কিন সামরিক মনোযোগ সরিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নেওয়ার ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ।

রোমানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাদু-দিনেল মিরুজ্জা বলেন, হেগসেথ রোমানীয়দের নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও মনোযোগ দেওয়ার কথা জানানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের সহকর্মী কিছু রিপাবলিকান এবং রাশিয়া প্রশ্নে সতর্ক থাকা পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছ।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

চলতি অর্থ বছরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের আওতায় এডিবি ও রাজস্ব খাতের আর্থিক অনুদানের অংশ হিসেবে মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসকের কক্ষে উক্ত চেক বিতরণ করা হয়। চেক বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।

চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুবিধাভোগী মসজিদ-মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ।

এসময় চেক গ্রহন করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের নুর হুদা জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ। চেক বুঝে পেয়ে নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদের প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

কুড়িগ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসা উন্নয়নে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার
কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি।

ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

দেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখান করেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ অংশীজনরা।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর ওই প্রস্তাব দেয় পিডিবি।

এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের ভর্তুকির দেওয়ার ওপর ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গণশুনানিতে কমিটি এ কথা জানিয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির যুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এখন পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭ টাকা ৪ পয়সা। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিক্রিতে প্রতি ইউনিটে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা ভর্তুকি দিতে হয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭৭ ভাগ বাড়ানো হলে ভর্তুকি থাকবে না।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বক্তব্য পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে ভোক্তাদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

প্রোগ্রামে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে তার কোনও খেয়াল নেই।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। অথচ বিইআরসি কোনও পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেলো না। আপনারা বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষমতা নেই। যেখানে সংবিধান পরিবর্তনের মতো কথা উঠতে পারে, সেখানে বিইআরসি আইন পরিবর্তন কেন সম্ভব হবে না? আপনারা মানুষের পক্ষ না নিয়ে যারা অবৈধভাবে এসব প্রস্তাব দিচ্ছে, তাদের পক্ষ নিচ্ছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা এক সময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিইআরসির এই গণশুনানি বন্ধ করা উচিত। এই শুনানির এখন আর গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিইআরসির উচিত এখন নিজেদের আইন সংশোধন করে এরপর আবার শুনানি করা। এখন যে শুনানি হচ্ছে সেটা আসলে লোক দেখানো। প্রতিবারই শুনানি হয়, এরপর দাম বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতা জালালুদ্দিন বলেন, আমাদের রফতানি এমনিতেই নিম্নমুখী এই সময় বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পের ওপরে চরম আঘাত নেমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকায়।

পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, এমন না এই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো ঘাটতি পূরণ হবে তা নয়। এই দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ভতুর্কি এক পশ্চমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নামতে পারে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সবার মতামত পাওয়া গেছে। সবার মতামত বিবেচনা করে কমিটির মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুতের দাম সমন্বযয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির মন্ত্রিসভা জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে খোদ একথা জানিয়েছেন শুভেন্দু।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পরই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গত ১১ মে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের যে সব অংশে কাঁটাতার নেই, সেই অংশের জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার।

বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে; যা আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন।” অবশেষে সেই কথামতোই কাজ করলেন শুভেন্দু।

এ বিষয়ে নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটার। ২২০০ কিমি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। এরমধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। বাকি ৬০০ কিমি কাঁটাতার অসম্পূর্ণ।”

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পূর্ববর্তী সরকার চাইলেই সেই জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে দিতে পারত। কিন্তু তারা তোষণের রাজনীতি করেছিল বলে তা দেয়নি।”

বুধবার প্রথম পর্যায়ে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “এই দীর্ঘ এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটি সবেমাত্র সূচনা। আমাদের দক্ষ কর্মকর্তারা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং বিএসএফকে সবরকম সাহায্য করবেন।”

দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অরক্ষিত’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছিল, যা এবার বিজেপি’র নির্বাচনি প্রচারের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্য ওয়াল লিখেছে, ‘অরক্ষিত’ সীমান্ত বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ‘অরক্ষিত’ থাকায় বাংলাদেশিরা ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশ করতে পারছে এবং ভোটের বিনিময়ে তারা সেখানে থেকে যেতে পারছে।

গত জানুয়ারিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে ৯টি জেলায় সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।

সীমান্তে কাঁটাতারের ‘অননুমোদিত’ বেড়া নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ১৯৭২ সালের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির আলোকে ১৯৭৫ সালে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

তার ভিত্তিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতরে কেউ কোনো প্রতিরক্ষা স্থাপনা করতে পারবে না। ওই ১৫০ কাজের ভেতরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে একে অপরের সম্মতি নিতে হবে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পশ্চিমবঙ্গকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার কাজে লাগায়নি। আমরা তা কার্যকর করলাম।

শুভেন্দু আরও জানান, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। তারপর তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই আইন বুধবার থেকেই কার্যকর হবে।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়, সহযোগী স্ত্রী: পুলিশ বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত