খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি যুবদলের সম্পাদক, কীভাবে পেলেন পদ ?

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি যুবদলের সম্পাদক, কীভাবে পেলেন পদ ?

ফেনীতে ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি গাজী এনামুল হক সুজনকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সমালোচনার মুখে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কেন্দ্রে জরুরি তলব করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আট সদস্য বিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। যিনি আগে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন। কমিটি ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘোষিত কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই পদত্যাগ করেন। তারা হলেন- নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন, সহসভাপতি মো. সবুজ, যুগ্ম সম্পাদক সাধারণ মো. মিল্লাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদ, প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রুবেল ও দফতর সম্পাদক ডালিম মজুমদার।

তারা পদত্যাগপত্রে বলেছেন, আওয়ামী লীগের বি টিমকে যুবদলের দায়িত্ব দেওয়ায় পদত্যাগ করেছেন তারা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করলে কেন্দ্রীয় যুবদল ক্ষোভ প্রকাশ করে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সমালোচনার মুখে পৌর যুবদলের কমিটি বাতিল করে কেন্দ্রীয় যুবদল। বিলুপ্ত করা হয় পৌর যুবদল ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটিও। একইসঙ্গে পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া হয় কারণ দর্শানোর নোটিশও। এছাড়া খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি গাজী এনামুল হকের যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ স্থগিত করা হয়। দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এনামুল হক বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। কমিটি গঠনের পর দেখা যায় তার নাম। তাকে কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। বিতর্কের জের ধরে কমিটি ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২ মে রাতে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কমিটির ছয় জন সদস্য পদত্যাগ করেন।

যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আজ দুপুরে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিতের পাশাপাশি সব ওয়ার্ড কমিটিও বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হলো।

অভিযুক্ত গাজী এনামুল হককে তথ্য গোপন করে দলের পদ গ্রহণ করায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনও ধরনের অপকর্মের দায় দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পৌরসভার ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটিতে ২০১৭ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি এনামুল হককে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া এনামুল হক গণমাধ্যমে বলেন, ‘সদ্য ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের আমার জ্যাঠাতো ভাই। তিনি এই কমিটির আমার পদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। এখন আমাকে কমিটিতে পদ দেওয়ার পর পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। পুরো ঘটনা মূলত পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল।’

এনামুলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত ওই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের বলেন, ‘এনামুল হক আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি শুধু নন, তার পরিবারের সদস্যরাও ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর এনামুল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। কমিটিতে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু কমিটিতে এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের ব্যক্তির নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিকে স্থান দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করেন, যেখানে এনামুলকে আসামি করা হয়েছে। তখন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত আছে। ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করার পর সদস্যদের পদত্যাগ ও বিতর্কের সৃষ্টি করা ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

জেলা যুবদলের সদস্য (দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত) মো. আল ইমরান বলেন, ‌‘কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেনী পৌর যুবদলেরর ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ এবং সুজনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করেন তৎকালীন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় সাত বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮ জন আসামির তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে আছে।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

চলতি অর্থ বছরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের আওতায় এডিবি ও রাজস্ব খাতের আর্থিক অনুদানের অংশ হিসেবে মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসকের কক্ষে উক্ত চেক বিতরণ করা হয়। চেক বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।

চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুবিধাভোগী মসজিদ-মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ।

এসময় চেক গ্রহন করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের নুর হুদা জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ। চেক বুঝে পেয়ে নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদের প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

কুড়িগ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসা উন্নয়নে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার
কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি।

ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

দেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখান করেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ অংশীজনরা।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর ওই প্রস্তাব দেয় পিডিবি।

এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের ভর্তুকির দেওয়ার ওপর ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গণশুনানিতে কমিটি এ কথা জানিয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির যুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এখন পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭ টাকা ৪ পয়সা। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিক্রিতে প্রতি ইউনিটে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা ভর্তুকি দিতে হয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭৭ ভাগ বাড়ানো হলে ভর্তুকি থাকবে না।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বক্তব্য পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে ভোক্তাদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

প্রোগ্রামে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে তার কোনও খেয়াল নেই।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। অথচ বিইআরসি কোনও পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেলো না। আপনারা বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষমতা নেই। যেখানে সংবিধান পরিবর্তনের মতো কথা উঠতে পারে, সেখানে বিইআরসি আইন পরিবর্তন কেন সম্ভব হবে না? আপনারা মানুষের পক্ষ না নিয়ে যারা অবৈধভাবে এসব প্রস্তাব দিচ্ছে, তাদের পক্ষ নিচ্ছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা এক সময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিইআরসির এই গণশুনানি বন্ধ করা উচিত। এই শুনানির এখন আর গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিইআরসির উচিত এখন নিজেদের আইন সংশোধন করে এরপর আবার শুনানি করা। এখন যে শুনানি হচ্ছে সেটা আসলে লোক দেখানো। প্রতিবারই শুনানি হয়, এরপর দাম বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতা জালালুদ্দিন বলেন, আমাদের রফতানি এমনিতেই নিম্নমুখী এই সময় বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পের ওপরে চরম আঘাত নেমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকায়।

পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, এমন না এই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো ঘাটতি পূরণ হবে তা নয়। এই দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ভতুর্কি এক পশ্চমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নামতে পারে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সবার মতামত পাওয়া গেছে। সবার মতামত বিবেচনা করে কমিটির মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুতের দাম সমন্বযয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির মন্ত্রিসভা জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে খোদ একথা জানিয়েছেন শুভেন্দু।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পরই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গত ১১ মে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের যে সব অংশে কাঁটাতার নেই, সেই অংশের জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার।

বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে; যা আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন।” অবশেষে সেই কথামতোই কাজ করলেন শুভেন্দু।

এ বিষয়ে নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটার। ২২০০ কিমি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। এরমধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। বাকি ৬০০ কিমি কাঁটাতার অসম্পূর্ণ।”

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পূর্ববর্তী সরকার চাইলেই সেই জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে দিতে পারত। কিন্তু তারা তোষণের রাজনীতি করেছিল বলে তা দেয়নি।”

বুধবার প্রথম পর্যায়ে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “এই দীর্ঘ এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটি সবেমাত্র সূচনা। আমাদের দক্ষ কর্মকর্তারা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং বিএসএফকে সবরকম সাহায্য করবেন।”

দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অরক্ষিত’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছিল, যা এবার বিজেপি’র নির্বাচনি প্রচারের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্য ওয়াল লিখেছে, ‘অরক্ষিত’ সীমান্ত বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ‘অরক্ষিত’ থাকায় বাংলাদেশিরা ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশ করতে পারছে এবং ভোটের বিনিময়ে তারা সেখানে থেকে যেতে পারছে।

গত জানুয়ারিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে ৯টি জেলায় সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।

সীমান্তে কাঁটাতারের ‘অননুমোদিত’ বেড়া নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ১৯৭২ সালের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির আলোকে ১৯৭৫ সালে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

তার ভিত্তিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতরে কেউ কোনো প্রতিরক্ষা স্থাপনা করতে পারবে না। ওই ১৫০ কাজের ভেতরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে একে অপরের সম্মতি নিতে হবে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পশ্চিমবঙ্গকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার কাজে লাগায়নি। আমরা তা কার্যকর করলাম।

শুভেন্দু আরও জানান, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। তারপর তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই আইন বুধবার থেকেই কার্যকর হবে।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়, সহযোগী স্ত্রী: পুলিশ বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত