জকসু নেতাকে থাপ্পড় দেওয়া সেই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নেলীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি সম্পূর্ণ ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৩ মে) জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই আমাদের সবার জন্য কষ্টদায়ক এবং বিব্রতকর। অতীতে এসব ঘটনার যথাযথ বিচার না হওয়ার কারণেই বারবার এমন পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আমরা অতীতকে ভুলে সামনে এগোতে চাই, তবে তার আগে অতীতের ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে হবে।
ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে উপাচার্য বলেন, গর্তের মুখ বন্ধ না করলে পানি ঢুকবেই। তাই এই ধরনের অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিনই ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন। সাপ্তাহিক কার্যক্রম শেষে শনিবার ক্যাম্পাসে এসে তিনি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভায় বসেন।
উপাচার্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দিনে-দুপুরে সবার সামনে একজন শিক্ষার্থী আরেকজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এই ধরনের কোনো সংস্কৃতি আমাদের কাম্য নয় এবং প্রশাসন এটিকে কখনোই প্রশ্রয় দেবে না। ঘটনাটি যার দ্বারাই সংঘটিত হোক না কেন, সে অপরাধী। অপরাধ বিবেচনায় নিয়েই অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ঘটনা তদন্তের জন্য যে ৩ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) জবির অষ্টম ইনডোর গেমসের ক্যারাম ফাইনালকে কেন্দ্র করে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে চড় মারেন নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলের পরাজিত জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলী।







আপনার মতামত লিখুন