খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আবারও বিচারিক ক্ষমতা চাইলেন ডিসিরা, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
আবারও বিচারিক ক্ষমতা চাইলেন ডিসিরা, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল রোববার (৩ মে) সম্মেলনের প্রথম দিনে তাদের পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৯০ ধারার অধীনে বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ধারার অধীনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিয়ে পরবর্তী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাব সোজাসাপটা নাকচ করে দিয়েছেন। প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ডিসিদের বলেছেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৪ দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও সংক্ষিপ্ত বিচারসহ ফৌজদারি কার্যবিধির অন্তত সাতটি ধারার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডিসিরা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেই প্রস্তাবে সায় দেননি।

গতকাল ডিসি সম্মেলনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(এ)(বি)(সি) (ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা) ধারায় ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন।

সম্মেলনে মুক্ত আলোচনায় একাধিক বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর ডিসির বিচারিক ক্ষমতা কমলেও শান্তি-শৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনে এখনও অনেক করণীয় আছে। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ আছে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়ী। গুলিবর্ষণের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত সরকারকে অবহিত করে থাকেন। গুলিবর্ষণ-পরবর্তী প্রশাসনিক তদন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালনার নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য ১৯০ ধারার ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে।

সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। ডিসিরা জানান, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর এই বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে না। এখন রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে এ বৈঠক করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন।

সাবেক জেলা জজ ড. শাহজাহান সাজু গণমাধ্যমে বলেন, ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়া উচিত। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো উঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। জেলায় কর্মরত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর দায়রা জজ ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে নিয়মিত পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সও হওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক মামলা-মোকদ্দমার বিষয় নিয়ে করা হয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এ বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করা ভালো।

ইটভাটার জন্য মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ:

পরিবেশ রক্ষায় সরকার নতুন করে কোনো সনাতন বা মাটির ইটভাটার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিমেন্টের ব্লক বা কংক্রিট ব্লকের ইটভাটাকে উৎসাহিত এবং পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল ডিসিদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা শুধু সিমেন্ট দিয়ে ইট বানাবে, তাদের ইটভাটার জন্য অনুমোদন দেবেন। ইটভাটার জন্য মাটি কাটা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

সম্মেলনে সিলেটের আলোচিত ডিসি সারওয়ার আলম এলএ পেমেন্ট (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) বা ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের পেমেন্টকে পুরোপুরি অনলাইনে করার জন্য প্রস্তাব দেন। কারণ সরকার যখন কোনো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে, তখন জমির মালিক সে অর্থ সহজে পান না। তিনি আরও বলেছেন, সিলেটের চা শ্রমিকদের জন্য পৃথক হাসপাতাল করা যেতে পারে। এতে চা শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব পাঠাতে বলেছেন।

সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আসছে কওমি মাদ্রাসা:

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে এবং তাদের (ডিসি) কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কেউ বাদ পড়বেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তবুও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবেন।

গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

শিগগির স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন:

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগে শিগগিরই স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হবে। গতকাল ডিসি সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা শেষে সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘পার্মানেন্ট প্রসিকিউশন সার্ভিস আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। বর্তমান ব্যবস্থায় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ হয় অনেকটা রাজনৈতিক বিবেচনায়। এ জন্য কোনো পরীক্ষা নেই; তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদও নেই।’

স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হলে বিচারিক আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটরদের নিয়োগ হবে স্থায়ী। যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। নির্ধারিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো অন্য সুবিধা পাবেন তারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৬ সালে ডিসি সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনার পর তখনকার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্বাধীন ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ

চলতি অর্থ বছরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের আওতায় এডিবি ও রাজস্ব খাতের আর্থিক অনুদানের অংশ হিসেবে মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসকের কক্ষে উক্ত চেক বিতরণ করা হয়। চেক বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।

চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুবিধাভোগী মসজিদ-মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ।

এসময় চেক গ্রহন করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের নুর হুদা জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ। চেক বুঝে পেয়ে নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদের প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

কুড়িগ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসা উন্নয়নে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার
কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি।

ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা

দেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখান করেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ অংশীজনরা।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর ওই প্রস্তাব দেয় পিডিবি।

এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের ভর্তুকির দেওয়ার ওপর ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গণশুনানিতে কমিটি এ কথা জানিয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির যুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এখন পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৭ টাকা ৪ পয়সা। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিক্রিতে প্রতি ইউনিটে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা ভর্তুকি দিতে হয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭৭ ভাগ বাড়ানো হলে ভর্তুকি থাকবে না।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বক্তব্য পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে ভোক্তাদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

প্রোগ্রামে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে তার কোনও খেয়াল নেই।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। অথচ বিইআরসি কোনও পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেলো না। আপনারা বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষমতা নেই। যেখানে সংবিধান পরিবর্তনের মতো কথা উঠতে পারে, সেখানে বিইআরসি আইন পরিবর্তন কেন সম্ভব হবে না? আপনারা মানুষের পক্ষ না নিয়ে যারা অবৈধভাবে এসব প্রস্তাব দিচ্ছে, তাদের পক্ষ নিচ্ছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা এক সময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিইআরসির এই গণশুনানি বন্ধ করা উচিত। এই শুনানির এখন আর গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিইআরসির উচিত এখন নিজেদের আইন সংশোধন করে এরপর আবার শুনানি করা। এখন যে শুনানি হচ্ছে সেটা আসলে লোক দেখানো। প্রতিবারই শুনানি হয়, এরপর দাম বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতা জালালুদ্দিন বলেন, আমাদের রফতানি এমনিতেই নিম্নমুখী এই সময় বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পের ওপরে চরম আঘাত নেমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকায়।

পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, এমন না এই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো ঘাটতি পূরণ হবে তা নয়। এই দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ভতুর্কি এক পশ্চমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নামতে পারে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সবার মতামত পাওয়া গেছে। সবার মতামত বিবেচনা করে কমিটির মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুতের দাম সমন্বযয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু

বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির মন্ত্রিসভা জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে খোদ একথা জানিয়েছেন শুভেন্দু।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পরই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গত ১১ মে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের যে সব অংশে কাঁটাতার নেই, সেই অংশের জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার।

বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে; যা আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন।” অবশেষে সেই কথামতোই কাজ করলেন শুভেন্দু।

এ বিষয়ে নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটার। ২২০০ কিমি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। এরমধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। বাকি ৬০০ কিমি কাঁটাতার অসম্পূর্ণ।”

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পূর্ববর্তী সরকার চাইলেই সেই জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে দিতে পারত। কিন্তু তারা তোষণের রাজনীতি করেছিল বলে তা দেয়নি।”

বুধবার প্রথম পর্যায়ে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “এই দীর্ঘ এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হচ্ছে। এটি সবেমাত্র সূচনা। আমাদের দক্ষ কর্মকর্তারা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং বিএসএফকে সবরকম সাহায্য করবেন।”

দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অরক্ষিত’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছিল, যা এবার বিজেপি’র নির্বাচনি প্রচারের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্য ওয়াল লিখেছে, ‘অরক্ষিত’ সীমান্ত বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ‘অরক্ষিত’ থাকায় বাংলাদেশিরা ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশ করতে পারছে এবং ভোটের বিনিময়ে তারা সেখানে থেকে যেতে পারছে।

গত জানুয়ারিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে ৯টি জেলায় সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।

সীমান্তে কাঁটাতারের ‘অননুমোদিত’ বেড়া নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ১৯৭২ সালের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির আলোকে ১৯৭৫ সালে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

তার ভিত্তিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতরে কেউ কোনো প্রতিরক্ষা স্থাপনা করতে পারবে না। ওই ১৫০ কাজের ভেতরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে একে অপরের সম্মতি নিতে হবে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পশ্চিমবঙ্গকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার কাজে লাগায়নি। আমরা তা কার্যকর করলাম।

শুভেন্দু আরও জানান, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। তারপর তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই আইন বুধবার থেকেই কার্যকর হবে।

কুড়িগ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ১ লক্ষ টাকা করে চেক বিতরণ ঠুনকো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সচেতন মহলের বিরোধিতা বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়, সহযোগী স্ত্রী: পুলিশ বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত