খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

চীনের হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়রের ‘গুপ্তচরবৃত্তি’, শহরজুড়ে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
চীনের হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়রের ‘গুপ্তচরবৃত্তি’, শহরজুড়ে তোলপাড়

চীনের হয়ে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্কাডিয়া শহরের মেয়র আইলিন ওয়াং। এই অভিযোগে নিজেকে দোষী স্বীকার করতেও রাজি হয়েছেন তিনি।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আইলিন ওয়াং চীনের সরকারের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে বেইজিংপন্থি প্রচারণা চালিয়েছেন ও সেই তথ্য মার্কিন সরকারের কাছে গোপন রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্থানীয় সময় গত সোমবার এ তথ্য জানিয়ে বলে, ৫৮ বছর বয়সি আইলিন ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে ‘বিদেশি সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার’ একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ওই ফৌজদারি অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী সোমবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় এলাকার মার্কিন জেলা আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হওয়ার কথা রয়েছে ওয়াংয়ের। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দোষ স্বীকার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইলিন ওয়াং ২০২২ সালের নভেম্বরে আর্কাডিয়া সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। পাঁচ সদস্যের ওই কাউন্সিল থেকেই পর্যায়ক্রমে মেয়র নির্বাচন করা হয়।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, ‘যিনি আগে চীনা সরকারের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নির্দেশ নিয়েছেন ও তা বাস্তবায়ন করেছেন, তিনি এখন জনআস্থার একটি পদে রয়েছেন। এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ওই বিদেশি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি কখনও প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থেই কাজ করা উচিত।’

ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, ‘যারা গোপনে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করে, তারা আমাদের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। চীনের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াংয়ের এই স্বীকারোক্তি আরেকটি সাফল্য।’

এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ও গুপ্তচরবৃত্তি বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোঝাভস্কি বলেন, ‘ওয়াং নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা- যারা বিদেশি সরকারের হয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে কাজ করবেন, তাদের শনাক্ত করা হবে, তদন্ত করা হবে এবং বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

এফবিআই জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করা তাদের মূল দায়িত্বের অংশ।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওয়াং ও ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো হিলস এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি ইয়াওনিং মাইক সান চীনা সরকারের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে চীনের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে চীনপন্থি প্রচারণা চালানোও ছিল। মাইক সান গত বছরের অক্টোবরে একই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। বর্তমানে তিনি চার বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

ওয়াং ও সান একসঙ্গে ‘ইউএস নিউজ সেন্টার’ নামে একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। সেটিকে স্থানীয় চীনা-আমেরিকান কমিউনিটির সংবাদমাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করা হতো।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, ‘চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ওই ওয়েবসাইটে চীনপন্থি কনটেন্ট প্রকাশ করতেন।’ উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ২০২১ সালের জুনে এক চীনা কর্মকর্তা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের মাধ্যমে ওয়াং ও অন্যদের কাছে আগে থেকেই লেখা কিছু সংবাদ পাঠান।

এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসে প্রকাশিত এক চীনা কর্মকর্তার লেখা নিবন্ধও ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, শিনজিয়াংয়ে কোনো গণহত্যা হয়নি, তুলা উৎপাদনসহ কোনো ক্ষেত্রেই জোরপূর্বক শ্রম নেই। এসব গুজব ছড়িয়ে চীনকে অপমান করা, শিনজিয়াংয়ের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং চীনের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওয়াং ওই নিবন্ধ নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন ও লিংকটি চীনা কর্মকর্তাকে পাঠান। গ্রুপ চ্যাটের অন্য সদস্যরাও একই কাজ করেন। এর জবাবে চীনা কর্মকর্তা লেখেন, এত দ্রুত! সবাইকে ধন্যবাদ।

২০২১ সালের আগস্টেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় ওয়াং ও আরও তিনজন নিজেদের তথাকথিত ‘নিউজ’ ওয়েবসাইটে একই নিবন্ধের লিংক শেয়ার করেন। পরে চীনা কর্মকর্তা তাদের ‘রিপোর্টিংয়ের’ জন্য ধন্যবাদ জানান।

চীনা কর্মকর্তার অনুরোধে ওয়াং নিবন্ধে কিছু পরিবর্তনও করেন। এরপর সংশোধিত নিবন্ধের লিংক পাঠান ও জানান, সেটি ১৫ হাজার ১২৮ বার দেখা হয়েছে। জবাবে ওই কর্মকর্তা লেখেন, দারুণ! এর উত্তরে ওয়াং লেখেন, ধন্যবাদ নেতা।

নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ৫’বছরে ২৫’কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি’র উদ্বোধনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে-সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় আলোচনাসভা শেষে জনপ্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনটি করে ফলজ বৃক্ষ বিতরণ করা সহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায়  কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এডমিকি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়- শনিবার (১৩জুন)  দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২,০০০-এর অধিক বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ  জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম। এসময়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) শাহাদাত হুসেইন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহমেদ, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, সামাজিক বনবিভাগ সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজিয়া পারভীন মিষ্টি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার উম্মে নাজনীন নিশাত। এ সময়ে  জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এডমিকি ফাউন্ডেশনের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ, সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।।

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও তাকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে ঢাকায় রয়েছেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। তিনি এসআই শফিকুল ইসলামকে তথ্য দেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোনার চোরাচালান আসবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শফিকুল লালখান বাজার এলাকায় অভিযানে যান। মনিরুল একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে চোরাচালানের এই তথ্য পেয়েছেন দাবি করেছেন।

তবে নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তাঁর। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য থামার সংকেত দেন।

অটোরিকশাটি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেন জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের এই স্পিনার বলেন, তারা আমাকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন আমি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেই, পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু আমাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম বলেন, মারধরের সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল-তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। মারধরের একপর্যায়ে আরেকটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের গাড়ি থাকলেও সেখানে আমাকে তোলা হয়নি। মারধরের একপর্যায়ে আমাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল। এরপর ওসির কক্ষে নেওয়া হয় আমাকে।

ওসির কক্ষেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানিয়ে নাঈম বলেন, ওসিকে আমি যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলাম তখন ওসি বারবার বলেন চোখ নিচু করে কথা বলতে। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।

তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে নামানোর পর আমার ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় আসার পর ফোনটি পেয়ে আমি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।’

আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই জানিয়ে নাঈম বলেন, ‘আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন,‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এই তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। আর অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কি না তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

অভিযান চালানোর নিয়ম রয়েছে জানিয়ে আমিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী বেলকুচিতে উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত