ভোলায় বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তোফায়েল আহমেদ
জীবনের পরিক্রমার ইতি ঘটিয়ে ভোলায় বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর থেকেই ভোলায় তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
আজ দুপুরে বাদ জোহর ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদকে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল (১ জুন) সোমবার বিকেলে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি প্রায় ছয় দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন।
গত কয়েক বছর ধরে তোফায়েল আহমেদ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোকজনিত কারণে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানান, তোফায়েল আহমেদ যখনই গ্রামের বাড়ি আসতেন, তখনই তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতেন। কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন।
তোফায়েল আহমেদের জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার স্বজনরা।
ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমী গণমাধ্যমে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। দীর্ঘদিন পাশাপাশি রাজনীতি করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে।’
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোরালিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং ১৯৬৯ এর ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার গৌরবও তার।





আপনার মতামত লিখুন