খুঁজুন

বিবিসির প্রতিবেদন

মিয়ানমারে তরুণদের বন্দুক ধরতে বাধ্য করছে জান্তা বাহিনী, নতুন কৌশলে কোণঠাসা বিদ্রোহীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
মিয়ানমারে তরুণদের বন্দুক ধরতে বাধ্য করছে জান্তা বাহিনী, নতুন কৌশলে কোণঠাসা বিদ্রোহীরা

ঘন জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা বিদ্রোহী শিবিরের সেই চার তরুণ কখনোই মিয়ানমারের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অংশ হতে চাননি। জান্তা সরকারের হয়ে বন্দুক হাতে তুলে নেওয়ার কোনো ইচ্ছাও ছিল না তাদের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস আর সামরিক জান্তার দমনপীড়ন তাদের বাধ্য করেছে যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে।

তাদের মধ্যে একজন পেশায় ছিলেন শেফ। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। নিজের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সাথে না থাকার ‘অপরাধেই’ তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে যোগদানের কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় তরুণকে ধরে নেওয়া হয় গভীর রাতে একটি কারাওকে সেশন থেকে ফেরার পথে। তৃতীয়জন বন বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। আর চতুর্থ তরুণের অভিযোগ আরও ভয়ানক; তাকে গ্রেপ্তারের পর জোরপূর্বক তার জুতোর ভেতর মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় এবং সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।

১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই চার তরুণের একজন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই আমাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগে (ফ্রন্ট লাইন) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

আরেক তরুণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা আমাদের দিয়ে এমন সব কাজ করাত যা আমরা কখনোই করতে চাইনি। সকালে, দুপুরে এমনকি রাতেও আমাদের কোনো বিশ্রাম ছিল না। বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ পাওয়া এই সেনাদেরই সব খাটুনি খাটতে হতো, অথচ নিয়মিত সেনারা তেমন কোনো কাজই করত না।’

চার মাসের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কারেন রাজ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে এক রাতে গোসল করতে যাওয়ার নাম করে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান তারা। কিন্তু পালানোর পরপরই তারা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) একটি বিদ্রোহী টহল দলের সামনে পড়ে যান এবং আটক হন।

তবে এখন তারা অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এখানে তাদের সাথে কোনো অচেনা বিদেশি নয়, বরং ‘ভাইয়ের মতো’ আচরণ করা হচ্ছে। আপাতত তারা পিডিএফ-এর সাথেই থাকবেন। তবে পরবর্তীতে তাদের থাইল্যান্ড সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ হিসেবে এক তরুণ বলেন, ‘আমরা যদি এখন বাড়ি ফিরে যাই, তবে সামরিক জান্তা আমাদের ঠিকই খুঁজে বের করে ফেলবে।’ তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও জান্তার প্রতিশোধমূলক নির্যাতন থেকে বাঁচাতে বিবিসিতে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া এই তরুণদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাস্তব চিত্র হলো- জান্তা সরকারের এই বলপ্রয়োগের নীতি গৃহযুদ্ধে তাদের পাল্লা ভারী করেছে। দেশের বহু এলাকায় এখন জান্তাবিরোধী বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তা এখন বেশকিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দুই বছর আগে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠী ও বিদ্রোহী জোট দেশজুড়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল এবং জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক জয়লাভ করেছিল। কিন্তু এক সময়ের আক্রমণাত্মক অবস্থানে থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধারা এখন বেশিরভাগ অঞ্চলেই রক্ষণাত্মক অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সামরিক জান্তা এখনো দেশের অর্ধেকেরও কম অংশ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে, তবে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং উত্তরাঞ্চলের মান্দালয় থেকে মায়িতকিনো যাওয়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পুনর্দখলসহ বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। কাচিন, চিন এবং কারেন রাজ্যসহ বেশ কিছু সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হাজার হাজার জান্তা সেনা এখন সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেছিল বিবিসির সংবাদিক দল। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রতিবেদন তৈরির একমাত্র উপায় ছিল এটিই। সেখানে কাটানো ১০ দিনে সংবাদিকরা বাগো এবং কারেন রাজ্যের হাসপাতাল ও সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্রগুলো ঘুরে দেখেন এবং যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পিডিএফ-এর একটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার কো কাউং জানান, ২০২৪ সালে জান্তা সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইন কার্যকর করার পর যাদের অন্তত দুই বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করার নিয়ম করা হয়েছে—সেই দলছুট বা পলাতক সৈনিকদের কারণেই যুদ্ধক্ষেত্রে মূল ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

তীব্র গরমের মধ্যে নিজের দল নিয়ে টহলে যাওয়ার সময় কো কাউং ব্যাখ্যা করেন, সামরিক বাহিনীর এই বাধ্যতামূলক নিয়োগ আমাদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে জান্তা বাহিনী সীমাহীন জনবল বা সৈন্য সরবরাহ পাচ্ছে। আমাদের প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সম্পদ খুবই সীমিত। তহবিলের অভাবে আমরা ইচ্ছামতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারছি না এবং সামরিক বাহিনীর মতো সহজে নতুন সৈন্যও নিয়োগ দিতে পারছি না।

দুই বছর আগে কো কাউং ও তার দল কারেন রাজ্যের হপাপুন শহর এবং একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। কিন্তু শহরটিতে এখন কেবল যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নই দৃশ্যমান। শহরের প্রবেশদ্বারের স্বাগত তোরণ, স্থানীয় বিদ্যালয়, একটি মঠ এবং পরিত্যক্ত ঘরবাড়িগুলোর বেশিরভাগই বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক; আকাশে জান্তা বাহিনীর ড্রোন উড়ছে এবং প্রায় ২,০০০ জান্তা সেনা হপাপুনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

পাহাড়ি শিবিরের আরেক পিডিএফ কমান্ডার দা ওয়া-ও স্বীকার করেছেন যে, বাধ্যতামূলক নিয়োগ পাওয়া এই সেনারা তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবেক এই রাজনৈতিক কর্মী—যিনি সরকারের কারাগারে সাড়ে চার বছর কাটিয়েছেন—বলেন, জান্তার এই নতুন সেনাদের অনেকেই স্বেচ্ছায় আসেনি ঠিকই, কিন্তু ‘আদেশ মানার ক্ষেত্রে তারা দক্ষ হয়ে উঠছে’ এবং এর ফলে যোদ্ধা হিসেবে তাদের উন্নতি ঘটছে।

জঙ্গলের আঁকাবাঁকা পথ ধরে টহল দেওয়ার সময় মাথার ওপর জান্তার ড্রোনের শব্দ শুনে সবাইকে লুকিয়ে পড়তে হেডকোয়ার্টার্স থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তারা একটি পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছান। পাশের পাহাড়েই জান্তার স্নাইপার থাকায় প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফিসফিস করে কথা বলছিলেন। গত এপ্রিলে বিদ্রোহীরা এই ঘাঁটিটি দখল করলেও মাত্র দুই দিন তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল। জান্তার ভারী কামান ও বিমান হামলার মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে দা ওয়া দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা এটি আবারও ছিনিয়ে নেব।’

কিন্তু কো কাউংয়ের মতো দা ওয়া-কেও চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার অবস্থানের চারপাশেই জান্তা বাহিনী শক্তিবৃদ্ধি করছে এবং প্রায় ৪০০ সেনা তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।

তবে সংকট শুধু এই নতুন সেনাদের নিয়েই নয়। দা ওয়া জানান, রাশিয়ার সাথে নিরাপত্তা চুক্তি সই করার পর জান্তার বিমান হামলা ও রণকৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে একটি মাত্র যুদ্ধবিমান দেখা যেত, এখন জোড়ায় জোড়ায় যুদ্ধবিমান হামলা চালাচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও জান্তা বাহিনী এখন সংখ্যা ও প্রযুক্তি—উভয় দিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে, যা কো কাউংও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ড্রোনের বিপদ দিন দিন বাড়ছে। আমাদের কাছে জ্যামার থাকলে পরিস্থিতি সহজ হতো। এখন সবকিছু নির্ভর করছে আমরা কতটা কার্যকরভাবে তাদের ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে এবং নিজেদের রক্ষা করতে পারছি তার ওপর।’

এর সাথে যুক্ত হয়েছে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি। মিয়ানমারে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করা এবং কারেন ও কাচিন রাজ্যে বিরল খনিজ উত্তোলনকারী দেশ চীন বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে জান্তার যুদ্ধবিরতি করিয়ে দিয়েছে। একই সাথে প্রতিরোধ বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহও আটকে দিয়েছে তারা।

একটি যুদ্ধে আহত হওয়া প্লাটুন কমান্ডার কিয়ার সোয়ে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের একটি ভিডিও দেখিয়ে বলেন, অস্ত্রের অভাব এখন সবচেয়ে বড় সংকট। ভিডিওতে দেখা যায়, জান্তার অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকা এক অতি-উৎসাহী যোদ্ধাকে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘বুলেট বাঁচাও, আস্তে, আস্তে!’

জঙ্গলের গভীরে লুকিয়ে থাকা একটি ক্লিনিকের শয্যা থেকে কিয়ার সোয়ে বলেন, “এখনো পর্যন্ত সবাই লড়াই করতে প্রস্তুত। কিন্তু কিছু জায়গায় আমাদের বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, বিশেষ করে অস্ত্র ও গোলাবারুদের তীব্র ঘাটতি আমাদের ভুগিয়ে দিচ্ছে।”

কয়েক ঘণ্টা আগেই চিকিৎসকরা কিয়ার সোয়ের ডান পায়ে ড্রিল মেশিন চালিয়ে মেটাল ব্র্যাকেট ও পিন দিয়ে তা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন। তিনি একটি ল্যান্ডমাইনের ওপর পা দিয়ে ফেলেছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমার বিশ্বের অন্যতম ল্যান্ডমাইন-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। গত বছরই ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে সেখানে ৭৪৫ জন নিহত বা আহত হয়েছেন, যার এক-চতুর্থাংশই শিশু। কিয়ার সোয়ের ডান গোড়ালির বেশিরভাগ অংশই উড়ে গেছে এবং এটি ছিল তার দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার।

অস্ত্রোপচারের পর ব্যান্ডেজ জড়ানো পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও তার মনোবল ভাঙেনি। তিনি বলেন, আমি আবার যুদ্ধে ফিরব। যেভাবেই হোক আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করব, কারণ বাড়ি ফিরে যাওয়ার কোনো পথ আমার জন্য আর খোলা নেই।

বাঁশ ও কাঠের তৈরি কয়েকটি কুঁড়েঘর নিয়ে এই ফিল্ড হাসপাতালটি চালাচ্ছেন ডক্টর সং। সৌরবিদ্যুৎ এবং ব্যাকআপ জেনারেটরের সাহায্যে এর অপারেশন থিয়েটারটি চলে। হাসপাতালটিতে অর্থ ও চিকিৎসার সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি রয়েছে, এমনকি কোনো অ্যাম্বুলেন্সও নেই।

১৯ বছর সামরিক একাডেমিতে কাটানো সাবেক সেনা কর্মকর্তা ডক্টর সং এখনো তরুণ বিদ্রোহীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। তিনি তাদের বলেন, প্রথমত, আমরা এই বিপ্লব করছি কারণ আমাদের আগের প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তরুণরা যদি এখন এই একনায়কতন্ত্রের বিরোধিতা না করে, তবে একদিন তারা যখন আমাদের মতো বয়োবৃদ্ধ হবে এবং এই নিপীড়ন আর সহ্য করতে পারবে না, তখন তাদেরও অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে বা অন্য কোনো প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিতে হবে।

কথা বলার মাঝেই পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে কান্নার শব্দ ভেসে আসায় ডক্টর সং ইন্টারভিউ থামিয়ে সেখানে ছুটে যান। মাটির মেঝের ওপর তৈরি একটি মাচায় এক প্রতিরোধ যোদ্ধার স্ত্রী সন্তান প্রসব করতে যাচ্ছিলেন। ২৯ বছর বয়সী মে কিউট মন প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে ২৪ বছরের স্বামী ইয়িন চিট প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চোখ বড় বড় করে তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছিলেন। প্রসবের সময় বৌদ্ধ মন্ত্র পাঠ করার নিয়ম থাকলেও, আতঙ্কে শব্দগুলো মনে করতে না পেরে তিনি মোবাইল ফোনের স্পিকারে মন্ত্রটি বাজিয়ে দেন।

নার্সদের সহায়তায় অবশেষে ডক্টর সং মুখে হাসি নিয়ে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানকে কোলে তুলে নেন। দম্পতি তার নাম রেখেছেন ‘সু পে’, যার অর্থ ‘পূর্ণ হওয়া ইচ্ছা’। স্ত্রী যখন সুস্থ হচ্ছিলেন, তখন ইয়িন চিটের কাছে তার মেয়ের ভবিষ্যতের স্বপ্ন জানতে চাওয়া হলে তিনি উত্তর দেন, ‘একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক মিয়ানমার।’

ইয়িন চিট ও তার স্ত্রী চান তাদের সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে। কিন্তু তারা জান্তা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় থাকায় তা অসম্ভব। ইয়িন চিট হাসিমুখে বলেন, ‘আমার গ্রামের মানুষ এবং জান্তাপন্থী প্রতিবেশীরা জেনে গেছে যে আমি প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিয়েছি। কিন্তু এই বিপ্লব যখন শেষ হবে এবং শান্তিময় সময় আসবে, তখন আমরা সন্তানকে নিয়ে দুই পরিবারের সাথেই দেখা করতে যাব।’

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু