খুঁজুন

অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে নিজ বাসভবনে মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওসির বৈঠক

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে নিজ বাসভবনে মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওসির বৈঠক

সাভারের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারে একদিকে পুলিশ পাঠিয়ে অন্যদিকে গোপনে তার সঙ্গেই নিজ বাসভবনে বৈঠক করেছিলেন সাভার মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি। আসামি হয়েও খোদ থানা কমপ্লেক্সেই ওসির বাসভবনে রাত ২টার পর চলে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক। ওসির ফরমায়েশ অনুযায়ী থানায় নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করা হতো। তিনি নিজেও নিয়মিত সেবন করতেন ইয়াবা। একটি জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

উল্লেখ্য, গত ২২ মে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তায়েফুর রহমান তুহিন ও এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া হামলায় দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম ও গাড়িচালক জয়নাল আহত হন। ভাঙচুর করা হয় তাদের সঙ্গে থাকা দেশ টেলিভিশনের গাড়ি। লুট করা হয় ক্যামেরা।

হামলার ঘটনায় ওই দিন রাতেই শামীমকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন দেশ টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক (সিএনই) মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ দাবি করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার ৪ দিনের মাথায় গত ২৬ মে সাভার মডেল থানা থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলিকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর প্রায় মাসখানেক সাভার মডেল থানার ওসির পদটি শূন্য।

এর আগে শামীম রেজার সঙ্গে সখ্য ও যোগাযোগ থাকার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয় সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশিফুর রহমান ও মেরাজুল ইসলামকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুন সাভার মডেল থানা থেকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনকেও।

একের পর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে সাভার মডেল থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্য কারণ খুঁজতে শুরু হয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধান। বেরিয়ে আসে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার মাদক সেবন, মাসোহারা আদায়, গভীর সখ্যতা ও নিবিড় যোগাযোগের তথ্য।

শামীমের মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন করেন এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।। এরপর র‌্যাবের পক্ষ থেকে শামীমের আস্তানায় চালানো হয় অভিযান। সেসময় শামীমকে না পেলেও শামীমের আস্তানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তিনজনকে মাদক ও বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে র‌্যাব। এরপর শামীমকে নিয়ে ফের প্রতিবেদন করলে সাদ্দামের ওপর তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় শামীম সিন্ডিকেটের।

গত ২২ মে এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনের সহযোগিতা নিয়ে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করে গিয়ে সাদ্দাম হোসেন ছাড়াও হামলার শিকার হন বেসরকারি টিভি চ্যানেল দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তায়েফুর রহমান তুহিন, ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম ও গাড়িচালক জয়নাল। ওই ঘটনায় ওসি আরমান আলি স্বয়ং ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সহ (ক্র্যাব) বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের আলটিমেটামে চাপে পড়ে পুলিশ।

ওই রাতেই মামলার পর গণমাধ্যমের সামনে যেকোনো মূল্যে শামীম রেজা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন সাভার মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলি।

জানা যায়, মামলার পরও শামীম রেজা গভীর রাতে সাভার থানা কম্পাউন্ড অতিক্রম করে যান ওসির বাসভবনে। সেখানে ঘণ্টা দেড়েক অবস্থানের পর লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।

এদিকে শামীম রেজা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু শামীম মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

বলা বাহুল্য, মাদক ব্যবসা ছাড়াও পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র মামলা, ভুয়া পুলিশ সেজে ডাকাতিসহ ১১টি মামলা রয়েছে শামীম রেজার বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে ২৬ মে এ ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতা সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রশ্ন করলে নড়াচড়ে বসে পুলিশ সদর দপ্তর। ওই দিনই প্রত্যাহার করা হয় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলিকে।

এদিকে শামীমকে গ্রেপ্তারে অভিযানের বিষয়টি নিজেই তদারকি করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন। এরপর শামীম রেজার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছাড়াও তৃতীয় চতুর্থ স্তরের সহযোগীদের ওপর নজরদারি শুরু হয় পুলিশের।

জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে শামীম রেজা চতুর্থ পর্যায়ের একজন সহযোগী কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিলে তাকে অনুসরণ করে পুলিশ। বিভিন্ন হোটেলে নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে খোঁজা হয় শামীমকে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে শামীম রেজার মুঠোফোনে নভো এয়ারলাইন্সের কক্সবাজার টু ঢাকা ফ্লাইটের পিএনআর বার্তার সূত্র ধরে গত ১০ জুন সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয় শামীমকে।

কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে সেখানে জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নানা আঙ্গিকে তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরের দিন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালতে শামীম রেজাকে তোলা হলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে শামীম জানান, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জন্য তার মাদকের আখড়া থেকে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করা হতো। পুলিশ ছাড়াও কথিত গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকেই তার ডেরা থেকে নিয়মিত মাসোহারা সংগ্রহ করত। পাশাপাশি ঘটনার রাতেও তিনি থানা প্রাঙ্গণে ওসির বাসভবনে দেখা করেন ওসি আরমান আলির সঙ্গে। সেখানে তাদের মধ্যে কথোপকথনের বিষয়টিও প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র মতে, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে হতচকিত হয়ে পড়েন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ যেন বাংলা প্রবাদের মতোই ‘সর্প হইয়া দংশন কর, ওঝা হইয়া ঝাড়।

এসপি শামীমা পারভীন‌ বলেন, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ওসির সংশ্লিষ্টতার যেসব তথ্য এসেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব বিষয়ে আরমান আলি বলেন, ‘অধিক শোকে আমি পাথর হয়ে গেছি। শামীম দেখতে আসলে কেমন? সিনিয়র কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে আমাকে নানা প্রশ্ন করছেন। শামীম আমার বাসভবনে গিয়েছিল! ১০ লাখ টাকা চ্যালেঞ্জ, নানা এক কোটি টাকা চ্যালেঞ্জ। এগুলো কোথায় শুনেছেন। নিশ্চয় শামীমকে দিয়ে কেউ বলিয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আরমান আলি বলেন, ‘প্রতিটা অফিসারকে আমি ডিফেন্ড করার চেষ্টা করতাম। এখন মনে হচ্ছে আমি ভুল মানুষদের ডিফেন্ড করেছি।’

সবশেষ তথ্যমতে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু