রাজারহাট নির্বাচন অফিস যেন ভোগান্তির কেন্দ্রবিন্দু: দিনের পর দিন ঘুরছেন সাধারণ মানুষ, মিলছে না কোন সেবা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন রাজারহাটের সাধারণ মানুষ। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন, নতুন ভোটার হওয়া কিংবা হারিয়ে যাওয়া কার্ড তুলতে এসে দিনের পর দিন অফিস আর কম্পিউটারের দোকানে দৌড়াতে হচ্ছে রাজারহাট উপজেলার সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার নির্বাচন অফিসার ‘মাহবুবা রহমান’ আশার পর থেকে ভোগান্তি শুরু হয়েছে এবং সেই সাথে নানান তালবাহানা বা অজুহাতের করণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই সকাল থেকে এসে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।
নতুন ভোটার, নাম এবং বয়স সংশোধন নিয়ে জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নাম, নতুন ভোটার সহ বাবা-মায়ের নাম বা বয়স সংশোধন করতে এসে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অফিসে গেলেই প্রায় সময় “সার্ভার ডাউন” বা “লিংক নেই” এটা ওটা কাগজ আনতে বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে দিনমজুর ও দূর থেকে আসা সাধারণ পুরুষ সহ নারীদের যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরাসরি অফিসে গেলে কাজ হতে মাসের পর মাস লেগে যায়। কিন্তু আগের নির্বাচন অফিসার স্যারের সময় কোন হয়রানি হতাম না বলে অনেকেই জানান। এখন অনেক কাগজ সহ এতদিন লাগে কেন?
অফিসে আসা উমর মজিদ ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সামান্য বানানের ভুল সংশোধনের জন্য তিন মাস ধরে ঘুরছি। প্রতিবারই বলা হয় আজ হবে না, কাল আসেন। আমরা গরিব মানুষ, কামাই ফেলে কতদিন এভাবে আসা যায়?” আরেক সেবাগ্রহীতা জানান, “অনলাইনে আবেদন করার পরও অফিসে এসে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হয়। সাধারণ মানুষের কষ্টের যেন কোনো দাম নেই এখানে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও রাজারহাট নির্বাচন অফিসের চিত্র উল্টো। এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমবে না।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত রাজারহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবা রহমানকে বদলি করে অন্য কোন ভাল একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবী জানান এবং দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা জনাব রবিউল আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি তদন্ত করেছি কিন্তু কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। এবং সেই সাথে নির্বাচন অফিসার মাহবুবা রহমানের বক্তব্য চাইলে তিনিও জানান, স্যারের অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দিতে পারবো না।




আপনার মতামত লিখুন