খুঁজুন
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিদেশি মাকড়সা কিংবা সাপ কেন আনা হচ্ছে বাংলাদেশে?

বিবিসি বাংলা
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
বিদেশি মাকড়সা কিংবা সাপ কেন আনা হচ্ছে বাংলাদেশে?

সম্প্রতি ঢাকায় মিরপুরের রূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়শা এবং ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেকসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর থেকে যেসব বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে, তার মধ্যে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা ছাড়াও কর্ন স্নেক, ডামফি ফ্রগ, লেপার্ড গ্যাকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ নানা ধরনের প্রাণীও রয়েছে।

বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া এবং জীববৈচিত্রে প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকায় আইন অনুযায়ী এসব প্রাণী বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কিন্তু তারপরও কেন এগুলো বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে? আর কীভাবেই বা বাংলাদেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে এসব বিদেশি প্রাণী।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকরা বলছেন, আইনের তোয়াক্কা না করেই বিদেশ থেকে এসব প্রাণী বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। যার ফলে দেশের জীববৈচিত্রে যেমন প্রভাব পড়ছে, তেমনি রোগবালাই বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলছেন, ”বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, মাকড়শা কিংবা ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক বাংলাদেশের অনেকেই এখন শখের বসে পুষছেন- এমনকি অবাক করার মতো বিষয় যে, আফ্রিকার ব্যাঙও এখন লালনপালন করা হচ্ছে।”

তিনি বলছেন, অনুমতি সাপেক্ষে যেসব প্রাণী বিদেশ থেকে আনার সুযোগ রয়েছে, মূলত তার আড়ালেই অবৈধ প্রাণী বাংলাদেশে আনছেন অনেকে।

বিমানবন্দরে স্বর্ণ বা অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি থাকলেও, পোষা প্রাণী আনার ক্ষেত্রে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

যদিও বিমানবন্দরসহ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও অবৈধ প্রাণী বিক্রি ও লালন-পালনের বিষয়ে নজরদারি রয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশ বন বিভাগের।

এছাড়া বিলুপ্ত প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধারেও অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক।

তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ।

কয়েকদিন আগেই ঢাকার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে আট প্রজাতির ৪২টি দেশীয় বন্য প্রাণী উদ্ধারের কথাও জানান তিনি।

বিদেশ থেকে কেন আনা হচ্ছে?

মিরপুরের রূপনগরে আবাসিক ভবনের ছাদে অ্যাকুরিয়াম তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের বিদেশি প্রাণী।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে এক হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হলেও, সেখানে প্রায় ৬ হাজার প্রাণী ছিল বলে জানা গেছে।

অর্থাৎ, মাকড়সা, সাপ, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি প্রাণী অভিযানের আগেই বিক্রি করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সাপ, মাকড়সা, ব্যাঙ ও কচ্ছপ।

একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রাণী উদ্ধার হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে যে, এসব প্রাণী আসলে বাংলাদেশে কেন আনা হচ্ছে?

এর পেছনে দুইটি বিষয়কে কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ।

তিনি বলছেন, বাংলাদেশে একদিকে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি প্রাণী লালনপালন করার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে এসব প্রাণী পাশের দেশে পাচার করার সুযোগও নিচ্ছে অনেক ব্যবসায়ী।

”যারা শৌখিন পালক তাদের জন্য আনা হয় এবং আরেকটা হচ্ছে আমাদের দেশ একটা রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। থাইল্যান্ড বা বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসে, চোরাইপথে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে চলে যায়,” বিবিসি বাংলাকে বলেন আদনান আজাদ।

তিনি বলছেন, অন্য দেশে পাচারের পাশাপাশি দেশের মধ্যেও বিদেশি প্রাণী বেচাকেনার বাজার বেশ রমরমা।

”বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়শা কিংবা ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক বাংলাদেশের অনেকেই এখন সখের বসে পুষছেন, অবাক করা বিষয় যে, আফ্রিকার ব্যাঙও এখন অনেকে লালনপালন করছেন,” বলেন আদনান আজাদ।

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বিদেশি প্রাণী যাতে দেশে ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলছেন, ”অবৈধ এই ব্যাবসা পৃথিবীর সব দেশেই আছে কিন্তু যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।”

বিদেশি প্রাণীতে সমস্যা কেন?

এক দেশ থেকে অন্য দেশে পোষা প্রাণী (যেমন- কুকুর, বিড়াল, খরগোশ) নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি ও স্বাস্থ্যগত নির্দেশনা পালন করতে হয়।

কিন্তু বন্যপ্রাণী বা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আনা বা বহন করার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশেই নানা ধরনের আইনি বাধা বা নিয়মকানুন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ থেকে প্রাণী আনার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশই কোয়ারেন্টাইন নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। অর্থাৎ, যেকোনো প্রাণী চাইলেই একটি দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

”বিদেশি একটি প্রাণির উপস্থিতিতে আমাদের পরিবেশে কী প্রভাব পড়বে, কী রোগবালাই আছে সেগুলো ছড়াবে কিনা- যেহেতু এগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে না তাতে ক্ষতির সুযোগ থাকে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

আইন অনুযায়ী, অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, কেনা-বেচা ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু তারপরও কীভাবে বিদেশ থেকে আনা প্রাণী বাংলাদেশে ঢুকছে?

এক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ।

তিনি বলছেন, ”বিমানবন্দরে ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের একটি অফিস যদি করা যায় তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা যেত, কারণ কোনটি অবৈধ বা বৈধ প্রাণী সেটি কাস্টমস্ হয়ত ঠিকমতো জানে না, অনেক বৈধ প্রাণীও তো দেশে আসে।”

যদিও বিদেশ থেকে কোনো প্রাণী আনা হচ্ছে কিনা- এই বিষয়টি বিমানবন্দরে নিয়মিত চেক করা হয় বলে দাবি করেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক।

তিনি বলছেন, ”অ্যাকুরিয়াম ফিশ বা অ্যাকুরিয়াম স্পেসিজ হিসেবে এগুলোর ভিতরে করে অনেকেই বিদেশ থেকে অবৈধ প্রাণী আনেন, অর্কিডের ভিতরে করেও আনেন। বিমানবন্দর থেকে অবৈধ অনেক প্রাণী সিজ করা হয়।”

বিদেশ থেকে অবৈধভাবে কোনো প্রাণী আনা হলে অবৈধ পাচার বা আমদানি-রপ্তানির জন্য শাস্তির বিধান আইনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

”বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধের জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে,” বলেও বিবিসি বাংলাকে জানান আস-সাদিক।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশুদের প্রতিভা ও মননশীলতার বিকাশে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে এসব প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে ১২ হাজার ৩৮৪ জন এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সম্মাননা লাভ করে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, উমর মজিদ ইউপি’র ডাংহাট থেকে ফুলখা এলাকার ওই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। সম্প্রতি এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় রাস্তাটি পুনরায় চালু করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলের দিকে রাস্তাটি নিয়ে পুনরায় বিরোধ ও কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ডাংঘাট গ্রামের জয়নাল গংয়ের নেতৃত্বে জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের শাবলের আঘাতে একই গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত (৪৫) প্রাণ হারান। এঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত ৮টা পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ১১জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এখনও ঘটনাস্থলেই আছি এবং বিষয়টির তদন্ত চলছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র মামলা রেকর্ড করা হবে।

এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। শিলং থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আসতে পেরেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী সব জায়গায় গিয়ে বলেন- নকল আর চলবে না। ২০২৬ এর শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে- এই স্ট্যান্টবাজি আর বাংলাদেশে চলবে না। হাঁটুসমান পানিতে, বুকসমান পানিতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ডুবিয়ে ডুবিয়ে আপনি পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। একটা পরীক্ষার প্রশ্ন আপনি প্রণয়ন করেছেন, তার মধ্যে আপনি ভুল রেখে দিয়েছেন। একজন পরীক্ষার্থীর তখন মানসিক অবস্থা কী ধরনের হয়, একবার চিন্তা করেন। আপনারা একবার দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজনও বোধ করলেন না, বরং এই শিক্ষার্থীদের আপনারা বলছেন মাদকাসক্ত।’

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছিল বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমে এসেছে বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগি রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে লন্ডন থেকে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন। শিক্ষামন্ত্রীকে বলবো, শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কারণ আপনাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করে না, তাদের বিদেশে রেখে পড়াশোনা করান।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি নাকি কোনো সংবিধানে লেখা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে বলি, যদি এটি না থেকে থাকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনও কোনো সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে।’

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা এখনো পর্যাপ্তভাবে পৌঁছেনি।

সোনারগাঁয়ের স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া গ্যাস সংযোগ, ভূমি দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পথসভায় উপজেলা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১ এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ সায়েন্সল্যাব ছেড়ে শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, পথে পুলিশি বাধা ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আনছে সরকার: সড়কমন্ত্রী