অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচার
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল
মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট করে লোক পাঠিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পল্টন থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারই প্রেক্ষিতে এই ৪৯টি লাইসেন্স বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা গৃহীত হওয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রাশিদা আক্তার।
লাইসেন্স প্রত্যাহার হওয়া সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও বায়রা’র সাবেক মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সাথে ১০০ এজেন্সি জড়িত ছিল। তাহলে ৪১ জনের লাইসেন্স প্রত্যাহার হলো কীভাবে। অন্যায় যদি হয়ে থাকে সবারই তো দায় থাকার কথা।’
‘আদালতের মাধ্যমে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে এভাবে লাইসেন্স প্রত্যাহার কীভাবে হতে পারে জানা নেই, বলে আপত্তি তোলেন তিনি।








আপনার মতামত লিখুন