খুঁজুন

বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর স্পেনের উদ্‌যাপন ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে বিতর্কিত আর্জেন্টিনার আক্রমনাত্মক বেপরোয়া আচরণ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। জড়িত খেলোয়াড় বা কোচরা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন; জরিমানা হতে পারে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও।

কিন্তু এই তদন্তের খবর শুধু ম্যাচ-পরবর্তী বিশৃঙ্খলার গল্প নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে; ফাইনালের সবচেয়ে বড় রাতে আর্জেন্টিনার কী হয়েছিল? বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থক যে দলকে চেনেন; শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো, আবেগকে শক্তিতে পরিণত করা, মেসির এক ঝলকে ম্যাচ বদলে দেওয়া; সেই আর্জেন্টিনা কেন স্পেনের বিপক্ষে দেখা গেল না?

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ বাঁশির পর স্পেনের খেলোয়াড়েরা যখন বিশ্বকাপ জয়ের উদ্‌যাপনে ছুটছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে বসে পড়েন বা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার নাম জড়িয়ে পড়ে উত্তেজনার ঘটনায়।

রয়টার্স জানিয়েছে, পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, পরে ঘটনাটি দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে এসেছে।

বিবিসির ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে অ্যালান শিয়ারার বলেন, হার কতটা কষ্টের তা বোঝা যায়, কিন্তু হারারও একটি পদ্ধতি আছে। জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, ফাইনালের হার শুধু ফলের কারণে নয়, আচরণের কারণেও আর্জেন্টিনাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এই আক্রমনাত্মক আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবি বোঝা যাবে না। ফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনা ছিল বিতর্ক ও চাপের মধ্যে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার ধরে উদ্‌যাপন করেন। সেই রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও ফিফা বিতর্কিত আর্জেন্টিনার আচরণ পর্যালোচনা করছিল বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

এটি সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার একক কারণ; এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই। তবে বড় ফাইনালের আগে এমন বিতর্ক দলের চারপাশে বাড়তি আবেগ, চাপ ও মনোযোগ তৈরি করে। তার ওপর ছিল শিরোপা ধরে রাখার চাপ, মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, আর ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের মর্যাদা ধরে রাখার প্রত্যাশা।

এই সব চাপ নিয়ে যখন একটি দল এমন প্রতিপক্ষের সামনে পড়ে, যে প্রতিপক্ষ বল দখল, পাসিং ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে প্রায় নিখুঁত, তখন আবেগ অনেক সময় শক্তি না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফাইনালে গোল খেয়ে হেরেছে; কিন্তু তার আগেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল খুবই বাজেভাবে। ফিফার ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। লামিনে ইয়ামালের শুরুর প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে পাউ কুবারসি, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামসদের আক্রমণ; বারবার আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোল করা দল; ১৯ গোল। অথচ স্পেনের নিয়ন্ত্রণ এতটাই দৃঢ় ছিল যে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ের আগে একটি শটও নিতে পারেনি। ফিফার রিপোর্টে এটিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

স্কাই স্পোর্টসের পরিসংখ্যান আরও কঠিন ছবি দেয়। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো শট লক্ষ্যে ছিল না। মেসি তিন ঘণ্টার ম্যাচে বল ছুঁয়েছেন মাত্র ৫৪ বার। আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল মাত্র ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা অপেক্ষায় ছিলেন; মেসি কখন বল পাবেন, কখন ঘুরে দাঁড়াবেন, কখন এক পাসে বা এক শটে ম্যাচ বদলে দেবেন। কিন্তু স্পেন সেই মুহূর্ত তৈরি হতে দেয়নি।

স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মেসি এই বিশ্বকাপে বারবার আর্জেন্টিনাকে টেনেছেন। কিন্তু ফাইনালে তিনি অদৃশ্য হয়ে পড়েন; পুরোটা তাঁর দোষ নয়; আর্জেন্টিনা তাঁর জন্য কার্যকর কিছু তৈরি করতেই পারেনি।

এখানেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মেসি খারাপ খেলেছেন; এই বাক্যটি পুরো সত্য নয়। বরং আর্জেন্টিনা মেসিকে খেলানোর মতো কাঠামোই তৈরি করতে পারেনি। মাঝমাঠ থেকে নিয়মিত বল আসেনি, সামনে দৌড় ছিল না, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

মেসির এই বিচ্ছিন্নতা আর্জেন্টিনার পুরো আক্রমণকেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। যে দল মেসির এক মুহূর্তের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল, সে দল যখন তাঁকে ম্যাচে আনতে পারে না, তখন আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে।

আর্জেন্টিনার ফাউল কেন বাড়লো:
বিতর্কিত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফাইনালে বারবার ফাউলে জড়িয়েছেন। এর একটি কারণ ছিল হতাশা, আরেকটি ছিল স্পেনের গতি ও পাসিংয়ের সঙ্গে তাল রাখতে না পারা।

স্পেন যখন দ্রুত বল পাছ করছিল, আর্জেন্টিনার অনেক চ্যালেঞ্জ দেরিতে এসেছে। বলের আগে শরীর, পায়ের আগে প্রতিপক্ষ; এমন অবস্থায় ফাউল বেড়েছে। বড় ম্যাচে এটা শুধু আক্রমণ থামানোর কৌশল নয়; অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর লক্ষণও।

সবচেয়ে বেপরোয়া এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড ছিল সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। রয়টার্স ও ফিফা; দুই সূত্রই জানিয়েছে, এনজোর লাল কার্ডের পর আর্জেন্টিনার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

১০ জনে নেমে যাওয়ার পর বিতর্কিত আর্জেন্টিনা আর ম্যাচ জিততে পারেনি; বরং পেনাল্টি পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টায় নেমে যায়। কিন্তু স্পেনের ধৈর্য শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফল দেয়।

এই ফাইনালে অসংখ্য বিতর্কের মাঝেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফিফার রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার দলকে বাঁচিয়েছেন। ইয়ামালের ফ্রি-কিকসহ বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে রেখেছিলেন তিনি।

কিন্তু গোলরক্ষক যতই ভালো খেলুন, আক্রমণ যদি শট নিতে না পারে, ফাইনাল জেতা যায় না। আর্জেন্টিনার সমস্যা ছিল সামনে। তারা বল রাখতে পারেনি, মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের বক্সে ভয় তৈরি করতে পারেনি।

বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে মার্তিনেজ পরিচিত নায়ক। এই ম্যাচেও তিনি একা লড়েছেন। কিন্তু একা গোলরক্ষক বিশ্বকাপ ফাইনাল বাঁচাতে পারেন, জিতিয়ে দিতে পারেন না; যদি সামনে দল জেগে না ওঠে।

ফাইনালের আরেকটি বড় পার্থক্য ছিল বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব। স্পেনের নিকো উইলিয়ামস ও ফেরান তোরেস বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচে নতুন গতি আনেন। দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, স্পেনের সাফল্যের বড় কারণ ছিল তাদের অভিযোজনক্ষমতা ও দলগত কাঠামো; বদলি খেলোয়াড়রাও সেই কাঠামোর ভেতরেই ম্যাচ বদলে দেন।

১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস নিকো উইলিয়ামস হেডে নামিয়ে দেন, আর ফেরান তোরেস প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে গোল করেন। ফিফা রিপোর্টেও বলা হয়েছে, মার্তিনেজের তখন আর কিছু করার ছিল না।

আর্জেন্টিনা যেখানে মেসির মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল, স্পেন সেখানে দলগত সমাধান খুঁজেছে। এটাই ফাইনালের সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

বাংলাদেশের সমর্থকেরা যে আর্জেন্টিনাকে চেনেন, সেটি শুধু কৌশল নয়; এক ধরনের মানসিকতা। চাপের ম্যাচে দাঁড়িয়ে যাওয়া, শেষ দিকে তীব্রতা বাড়ানো, মেসির সঙ্গে বাকিদের সংযোগ, মার্তিনেজের সেভ, আর আবেগকে ফলাফলে বদলে দেওয়া।

ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ছিল না। কারণ স্পেন ম্যাচটিকে আর্জেন্টিনার পছন্দের জায়গায় যেতে দেয়নি। ম্যাচ ভাঙেনি, খোলা হয়নি, বিশৃঙ্খল হয়নি। বরং স্পেন বল দখলে রেখে, আর্জেন্টিনাকে দৌড় করিয়ে, মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে।

আর্জেন্টিনা যখন দেখল মেসি বল পাচ্ছেন না, শট আসছে না, সময় যাচ্ছে; তখন তাদের খেলায় অধৈর্যতা বাড়ে। সেই অধৈর্যতা প্রথমে ফাউলে, পরে লাল কার্ডে, শেষ বাঁশির পর হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ফাইনালের আগে কী এমন হলো; এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এমন একক ঘটনার কথা পাওয়া যায় না, যা সরাসরি আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নষ্ট করেছে। বরং কারণ ছিল একাধিক।

প্রথমত, সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড ব্যানার বিতর্ক দলকে বাড়তি নজরদারির মধ্যে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, শিরোপা ধরে রাখার চাপ এবং মেসির শেষ বিশ্বকাপ-আবেগ দলের ওপর মানসিক ভার বাড়িয়েছিল। তৃতীয়ত, স্পেনের বল দখল ও প্রেসিং আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক খেলাকে বন্ধ করে দেয়। চতুর্থত, মেসিকে বল না দিতে পারা আর্জেন্টিনার আক্রমণকে ভেঙে দেয়। পঞ্চমত, এনজোর লাল কার্ড ম্যাচের শেষ পরিকল্পনাও নষ্ট করে দেয়।

এর সঙ্গে যোগ হয় ম্যাচ-পরবর্তী আচরণ, যা দেখিয়েছে; আর্জেন্টিনা শুধু ম্যাচ নয়, নিজের আবেগও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি।

আর্জেন্টিনা ফাইনাল হারল কারণ তারা গোল করতে পারেনি; এটা খুব সরল ব্যাখ্যা। আসল ব্যর্থতা আরও গভীরে। তারা মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি, শট নিতে পারেনি, শেষ দিকে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারেনি।

স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফিরে গেছে তদন্ত, বিতর্ক ও হতাশা নিয়ে। মেসি পরে বলেছেন, এই হারের যন্ত্রণা অসীম এবং ক্ষত সারতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি সতীর্থদের টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার জন্য প্রশংসাও করেছেন।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরাও হয়তো একইভাবে এই হারকে দেখবেন; শুধু এক গোলের হার নয়, এক অচেনা রাতের ব্যথা হিসেবে। যে রাতে মেসি ছিলেন, মার্তিনেজ ছিলেন, আকাশি-সাদা জার্সিও ছিল; কিন্তু ছিল না সেই চিরচেনা আর্জেন্টিনা। সেইসাথে বিতর্কিত আর্জেন্টিনার বেপরোয়া আচরণ ও বিতর্কিত মুহুর্তগুলোও ভুলবেনা দর্শকরা।

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু