খুঁজুন

বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর স্পেনের উদ্‌যাপন ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে বিতর্কিত আর্জেন্টিনার আক্রমনাত্মক বেপরোয়া আচরণ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। জড়িত খেলোয়াড় বা কোচরা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন; জরিমানা হতে পারে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও।

কিন্তু এই তদন্তের খবর শুধু ম্যাচ-পরবর্তী বিশৃঙ্খলার গল্প নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে; ফাইনালের সবচেয়ে বড় রাতে আর্জেন্টিনার কী হয়েছিল? বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থক যে দলকে চেনেন; শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো, আবেগকে শক্তিতে পরিণত করা, মেসির এক ঝলকে ম্যাচ বদলে দেওয়া; সেই আর্জেন্টিনা কেন স্পেনের বিপক্ষে দেখা গেল না?

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ বাঁশির পর স্পেনের খেলোয়াড়েরা যখন বিশ্বকাপ জয়ের উদ্‌যাপনে ছুটছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে বসে পড়েন বা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার নাম জড়িয়ে পড়ে উত্তেজনার ঘটনায়।

রয়টার্স জানিয়েছে, পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, পরে ঘটনাটি দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে এসেছে।

বিবিসির ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে অ্যালান শিয়ারার বলেন, হার কতটা কষ্টের তা বোঝা যায়, কিন্তু হারারও একটি পদ্ধতি আছে। জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, ফাইনালের হার শুধু ফলের কারণে নয়, আচরণের কারণেও আর্জেন্টিনাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এই আক্রমনাত্মক আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবি বোঝা যাবে না। ফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনা ছিল বিতর্ক ও চাপের মধ্যে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার ধরে উদ্‌যাপন করেন। সেই রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও ফিফা বিতর্কিত আর্জেন্টিনার আচরণ পর্যালোচনা করছিল বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

এটি সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার একক কারণ; এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই। তবে বড় ফাইনালের আগে এমন বিতর্ক দলের চারপাশে বাড়তি আবেগ, চাপ ও মনোযোগ তৈরি করে। তার ওপর ছিল শিরোপা ধরে রাখার চাপ, মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, আর ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের মর্যাদা ধরে রাখার প্রত্যাশা।

এই সব চাপ নিয়ে যখন একটি দল এমন প্রতিপক্ষের সামনে পড়ে, যে প্রতিপক্ষ বল দখল, পাসিং ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে প্রায় নিখুঁত, তখন আবেগ অনেক সময় শক্তি না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফাইনালে গোল খেয়ে হেরেছে; কিন্তু তার আগেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল খুবই বাজেভাবে। ফিফার ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। লামিনে ইয়ামালের শুরুর প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে পাউ কুবারসি, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামসদের আক্রমণ; বারবার আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোল করা দল; ১৯ গোল। অথচ স্পেনের নিয়ন্ত্রণ এতটাই দৃঢ় ছিল যে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ের আগে একটি শটও নিতে পারেনি। ফিফার রিপোর্টে এটিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

স্কাই স্পোর্টসের পরিসংখ্যান আরও কঠিন ছবি দেয়। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো শট লক্ষ্যে ছিল না। মেসি তিন ঘণ্টার ম্যাচে বল ছুঁয়েছেন মাত্র ৫৪ বার। আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল মাত্র ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা অপেক্ষায় ছিলেন; মেসি কখন বল পাবেন, কখন ঘুরে দাঁড়াবেন, কখন এক পাসে বা এক শটে ম্যাচ বদলে দেবেন। কিন্তু স্পেন সেই মুহূর্ত তৈরি হতে দেয়নি।

স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মেসি এই বিশ্বকাপে বারবার আর্জেন্টিনাকে টেনেছেন। কিন্তু ফাইনালে তিনি অদৃশ্য হয়ে পড়েন; পুরোটা তাঁর দোষ নয়; আর্জেন্টিনা তাঁর জন্য কার্যকর কিছু তৈরি করতেই পারেনি।

এখানেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মেসি খারাপ খেলেছেন; এই বাক্যটি পুরো সত্য নয়। বরং আর্জেন্টিনা মেসিকে খেলানোর মতো কাঠামোই তৈরি করতে পারেনি। মাঝমাঠ থেকে নিয়মিত বল আসেনি, সামনে দৌড় ছিল না, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

মেসির এই বিচ্ছিন্নতা আর্জেন্টিনার পুরো আক্রমণকেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। যে দল মেসির এক মুহূর্তের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল, সে দল যখন তাঁকে ম্যাচে আনতে পারে না, তখন আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে।

আর্জেন্টিনার ফাউল কেন বাড়লো:
বিতর্কিত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফাইনালে বারবার ফাউলে জড়িয়েছেন। এর একটি কারণ ছিল হতাশা, আরেকটি ছিল স্পেনের গতি ও পাসিংয়ের সঙ্গে তাল রাখতে না পারা।

স্পেন যখন দ্রুত বল পাছ করছিল, আর্জেন্টিনার অনেক চ্যালেঞ্জ দেরিতে এসেছে। বলের আগে শরীর, পায়ের আগে প্রতিপক্ষ; এমন অবস্থায় ফাউল বেড়েছে। বড় ম্যাচে এটা শুধু আক্রমণ থামানোর কৌশল নয়; অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর লক্ষণও।

সবচেয়ে বেপরোয়া এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড ছিল সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। রয়টার্স ও ফিফা; দুই সূত্রই জানিয়েছে, এনজোর লাল কার্ডের পর আর্জেন্টিনার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

১০ জনে নেমে যাওয়ার পর বিতর্কিত আর্জেন্টিনা আর ম্যাচ জিততে পারেনি; বরং পেনাল্টি পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টায় নেমে যায়। কিন্তু স্পেনের ধৈর্য শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফল দেয়।

এই ফাইনালে অসংখ্য বিতর্কের মাঝেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফিফার রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার দলকে বাঁচিয়েছেন। ইয়ামালের ফ্রি-কিকসহ বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে রেখেছিলেন তিনি।

কিন্তু গোলরক্ষক যতই ভালো খেলুন, আক্রমণ যদি শট নিতে না পারে, ফাইনাল জেতা যায় না। আর্জেন্টিনার সমস্যা ছিল সামনে। তারা বল রাখতে পারেনি, মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের বক্সে ভয় তৈরি করতে পারেনি।

বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে মার্তিনেজ পরিচিত নায়ক। এই ম্যাচেও তিনি একা লড়েছেন। কিন্তু একা গোলরক্ষক বিশ্বকাপ ফাইনাল বাঁচাতে পারেন, জিতিয়ে দিতে পারেন না; যদি সামনে দল জেগে না ওঠে।

ফাইনালের আরেকটি বড় পার্থক্য ছিল বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব। স্পেনের নিকো উইলিয়ামস ও ফেরান তোরেস বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচে নতুন গতি আনেন। দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, স্পেনের সাফল্যের বড় কারণ ছিল তাদের অভিযোজনক্ষমতা ও দলগত কাঠামো; বদলি খেলোয়াড়রাও সেই কাঠামোর ভেতরেই ম্যাচ বদলে দেন।

১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস নিকো উইলিয়ামস হেডে নামিয়ে দেন, আর ফেরান তোরেস প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে গোল করেন। ফিফা রিপোর্টেও বলা হয়েছে, মার্তিনেজের তখন আর কিছু করার ছিল না।

আর্জেন্টিনা যেখানে মেসির মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল, স্পেন সেখানে দলগত সমাধান খুঁজেছে। এটাই ফাইনালের সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

বাংলাদেশের সমর্থকেরা যে আর্জেন্টিনাকে চেনেন, সেটি শুধু কৌশল নয়; এক ধরনের মানসিকতা। চাপের ম্যাচে দাঁড়িয়ে যাওয়া, শেষ দিকে তীব্রতা বাড়ানো, মেসির সঙ্গে বাকিদের সংযোগ, মার্তিনেজের সেভ, আর আবেগকে ফলাফলে বদলে দেওয়া।

ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ছিল না। কারণ স্পেন ম্যাচটিকে আর্জেন্টিনার পছন্দের জায়গায় যেতে দেয়নি। ম্যাচ ভাঙেনি, খোলা হয়নি, বিশৃঙ্খল হয়নি। বরং স্পেন বল দখলে রেখে, আর্জেন্টিনাকে দৌড় করিয়ে, মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে।

আর্জেন্টিনা যখন দেখল মেসি বল পাচ্ছেন না, শট আসছে না, সময় যাচ্ছে; তখন তাদের খেলায় অধৈর্যতা বাড়ে। সেই অধৈর্যতা প্রথমে ফাউলে, পরে লাল কার্ডে, শেষ বাঁশির পর হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ফাইনালের আগে কী এমন হলো; এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এমন একক ঘটনার কথা পাওয়া যায় না, যা সরাসরি আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নষ্ট করেছে। বরং কারণ ছিল একাধিক।

প্রথমত, সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড ব্যানার বিতর্ক দলকে বাড়তি নজরদারির মধ্যে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, শিরোপা ধরে রাখার চাপ এবং মেসির শেষ বিশ্বকাপ-আবেগ দলের ওপর মানসিক ভার বাড়িয়েছিল। তৃতীয়ত, স্পেনের বল দখল ও প্রেসিং আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক খেলাকে বন্ধ করে দেয়। চতুর্থত, মেসিকে বল না দিতে পারা আর্জেন্টিনার আক্রমণকে ভেঙে দেয়। পঞ্চমত, এনজোর লাল কার্ড ম্যাচের শেষ পরিকল্পনাও নষ্ট করে দেয়।

এর সঙ্গে যোগ হয় ম্যাচ-পরবর্তী আচরণ, যা দেখিয়েছে; আর্জেন্টিনা শুধু ম্যাচ নয়, নিজের আবেগও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি।

আর্জেন্টিনা ফাইনাল হারল কারণ তারা গোল করতে পারেনি; এটা খুব সরল ব্যাখ্যা। আসল ব্যর্থতা আরও গভীরে। তারা মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি, শট নিতে পারেনি, শেষ দিকে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারেনি।

স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফিরে গেছে তদন্ত, বিতর্ক ও হতাশা নিয়ে। মেসি পরে বলেছেন, এই হারের যন্ত্রণা অসীম এবং ক্ষত সারতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি সতীর্থদের টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার জন্য প্রশংসাও করেছেন।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরাও হয়তো একইভাবে এই হারকে দেখবেন; শুধু এক গোলের হার নয়, এক অচেনা রাতের ব্যথা হিসেবে। যে রাতে মেসি ছিলেন, মার্তিনেজ ছিলেন, আকাশি-সাদা জার্সিও ছিল; কিন্তু ছিল না সেই চিরচেনা আর্জেন্টিনা। সেইসাথে বিতর্কিত আর্জেন্টিনার বেপরোয়া আচরণ ও বিতর্কিত মুহুর্তগুলোও ভুলবেনা দর্শকরা।

তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের জন্যই ফলপ্রসূ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি। তিনি মনে করছেন, তারেক রহমান ভারতে না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথও খোলা নাও থাকতে পারে।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যাভূষণ সোনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের পথও খুলতে পারে।

সাক্ষাৎকারে সোনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অনেক বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

সোনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধানেও বাংলাদেশ ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায়। তার মতে, এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ছাড়া ভারতের তেমন কিছু করার নেই। কারণ, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে। তারেক রহমানের ভারত সফরের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ ভারতকে এসব সমস্যা সমাধানে তার প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুলনামূলকভাবে ‘অনেক বেশি খোলামেলা’ এবং ‘ভারতবিরোধী নন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যাভূষণ সোনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সোনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি খোলামেলা মানুষ। তিনি ভারতবিরোধী নন এবং নিজে এমন কোনও বক্তব্যও দেননি, যেটিকে ভারতের বিরুদ্ধে বলে মনে করা যায়। তাই ভারতও সতর্কভাবে এই সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারি মুখপাত্ররা এখন পর্যন্ত যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য। তবে দুই দেশের রাজনীতিবিদরা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তাই তারেক রহমানের ভারত সফরের এখনও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সোনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুবই আশাবাদী’। তার মতে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) যদি না আসেন, তাহলে এই সুযোগটি হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই যোগাযোগের পথ খোলা নাও থাকতে পারে। আমরা কেউই এই সুযোগ হারাতে চাই না। তাই আমি বেশ আশাবাদী।’

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে সেটি হবে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনও চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা: ঢাবি ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা: ঢাবি ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিন সংগঠনের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতা হলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলামিন ফারাজি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ওয়াসি উদ্দিন তামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আলামিন ফারাজিকে সংগঠনের সব সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে আলামিন ফারাজির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলামিন ফারাজি বলেন, তার ফেসবুক পোস্টে সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করা হয়েছে। যৌক্তিক ও ন্যায়ের জায়গা থেকে তিনি ভবিষ্যতেও সরকারের সমালোচনা করবেন।

তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য সরকারের ভুল সংশোধনে সমালোচনা করা। তার ভাষ্য, সরকার যদি সমালোচকদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এবং চাটুকারদের বন্ধু মনে করে, তাহলে ওই চাটুকাররাই একসময় সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আলামিন ফারাজি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও তাকে রাজপথে পাওয়া যাবে—লাঠি হাতে কিংবা কলম হাতে।

তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা: ঢাবি ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার প্রবাসীর পাল্টা অভিযোগ: খাসির জন্য নয়, ১০ গুণ দেনমোহর ধরায় ভেঙেছে বিয়ে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া, এলাকায় আতঙ্ক